ভেবেছিলাম ২৫ সালের পর আর কিছু লিখবো না কিন্তু পারলাম না।
আজ সকালে খুব বৃষ্টি হচ্ছিলো। মেয়ের পরীক্ষা তাই তাকে স্কুলে নিয়ে যেতে হবে। প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যে মেয়েকে স্কুলে নিয়ে গেলাম। মেয়েকে স্কুলে দিয়ে বাসায় এসে দেখি জান্নাত ফোনে কথা বলছে। সেই সাইফা, মালিহা, লাবনী, গংদের কারো না কারো সাথে। দিনের মধ্যে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা এদের কারো না কারো সাথে কথা বলতে থাকে জানিনা প্রতিদিন এতো কি কথা থাকে। আমার সামনে নাম উচ্চারন ছাড়াই কথা বলে, এই বন্ধু, দোস্ত, এই তুমি ইত্যাদি কিন্তু নাম উচ্চারন করে না।
আমি কম্পিউটারে বসলাম একটি নিউজ করার জন্য। সকালে না খেয়েই মেয়েকে নিয়ে স্কুুলে গেলাম। এখন সকাল সাড়ে ১০ টা বাজে। সকালের নাস্তা করতে গিয়ে দেখি । খাবার কিছু নাই । জান্নাত কে বললাম ভাত রান্না করোনি। কোন উত্তর দিলো না। আবার জিজ্ঞাসা করলাম বললো না।
আমি বললাম কেন?
ভালো লাগেনি তাই।
আমি একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজেই চাল ধুয়ে দিয়ে মেয়েকে স্কুলে থেকে আনতে চলে গেলাম তখন বাজে ১১ টা । মেয়েকে স্কুল থেকে বাসায় নিয়ে এসে সেই একই দৃশ্য, ফোনে কথা চলছে। এই প্রায় ২ বছর ধরে এমন পরিস্তিতি। সারাদিন মোবাইল
এমনও দেখেছি আমি সাধারনত শুক্রবারে বাড়ি থাকি। তাই দেখা গেলো সকালে উঠে বাজারে গিয়েছি। বাজার করে নিয়ে এসে দেখি সেই মশারীর ভীতর শুয়ে শুয়ে মোবাইলে কথা বলছে। দরজাটা পর্যন্ত আমার ৭ বছরের মেয়েটাই খুলে দেয়।
বর্তমানে ৫ আগষ্ট ২৪ , এর পর কাজ সুবিধার্থে আমার স্কুল জীবনের কিছু বন্ধুদের সাথে ঘনিষ্টতা বাড়িয়েছি। যারা ঢাকায় থাকে তাদের সাথে। আমরা ৭ জন ছেলে আছি তার মধ্যে দুজন মেয়ে বন্ধু আছে। আমি বাদে বাকি ৬ জন কলেজ জীবন থেকেই , মেয়ে দুটির সাথে ভালো বন্ধুত্ব। তাই সবাই যখন একত্রিত হয়। মেয়ে দুটোও আসে। অল্পদিনের মধ্যেই আমি ও তাদের ঘনিষ্ট জনের একজনে পরিনত হই।
জান্নাত মেয়ে বন্ধুর কথা শুনতেই পারে না। আমি ওর ভূল ভাঙ্গানোর জন্য সবার সাথে ওকে পরিচয় করিয়েছি।
বন্ধুরা সবাই মিলে ফ্যামিলি প্রোগ্রাম করলে আমি জান্নাতকে নিয়ে গিয়েছি। ও অবশ্য যেতে চাইনি। আমি বলেছি যে, তুমি আমকে নিয়ে যে বাজে বাজে কথা বলো, তোমার সেই ধারনা ভাঙ্গা দরকার আছে। তোমার দেখা দরকার আছে আমি কাদের সাথে মিশছি।
ও দেখেছে আমার সাথে সবাই কেমন আচরন করে, আমি কেমন আচরন করি, কারন সারাক্ষন আমাদের যাদের পরিবার হাজির হয়েছে তারা সবাই একসাথে। তারপরও ঐ মেয়েদের নিয়ে আমাকে জড়িয়ে প্রতিদিন, বাসায় ঢোকার সাতে সাথে আজে বাজে মন্তব্য করবে।
গতদুদিন আগে আমি নিজের ধৈয্য ধরে রাখতে পারিনি, গলা টিপে ধরেছিলাম, রাগে। কতোক্ষন নিজের চরিত্রে এমন অপবাদ সহ্য করা যায়। আমি আজ ২ মাস ওর সাথে কথাই বলিনা ঘৃনায়। ওর আচার ব্যবহার, মুখের ভাষার কারনে।
আজ এমন বাজে বাজে ব্যবহার করছে , আর মেয়েকে এমন এমন কথা শিখাচ্ছে আমার বিরুদ্ধে যা কোন রক্ত মাংসের মানুষ সহ্য করতে পারবে বলে মনে হয় না। আমি শুধু বললাম তুমি কি ঠিক করছো?
যদি তোমার মনে হয় যে, আমার সাথে সংসার করবে না তাহলে চলে যাও। আমি তোমাকে আটকাবো না। কিন্তু দয়া করে চরিত্র নিয়ে কথা বলবে না। আর যদি একটি বার তুমি আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলো আমি নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে মরে যাবো। তারপরও থামলো না। আমি যখন গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে নিজের হাত আগুনে ঠেলে দিলাম তখন আমাকে টেনে সরালো। কিন্তু মুখের অশ্লিল ভাষা বন্ধ করলো না।
তারপর জান্নাত বললো ওযু করে আসো
আমি আমি ওযু করে এলাম।
আমার হাতে কোরআন ধরিয়ে দিলো। আমি বললাম তুমি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করছো। আল্লাহ ক্ষমা করবে না। কে শোনে কার কথা।
জান্নাত বললো আমার প্রশ্নের উত্তর দাও। আমি বললাম বলো
জান্নাত বললো তোমার কি আগে বিয়ে ছিলো ? এমন প্রশ্ন শুনলে জানিনা কারো মাথা, বা রক্ত ঠিক থাকবে কিনা। তারপরও নিজেকে সামলে উত্তর দিলাম না।
তারপর আবার প্রশ্ন তোমার বান্ধবীকে তুমি বিয়ে করেছো ? মনে হচ্ছিলো মাটি ফেটে গেলে ঢুকে যেতাম। মন চাচ্ছে এখনই মরে যাই, । তারপরও নিজেকে সামলে উত্তর দিলাম না।
আবার প্রশ্ন তাহলে ওর সাথে তোমার কি অবৈধ সম্পর্ক ? তখন আর নিজেকে সামলাতে না পেরে নিজের মাথা নিজে দেয়ালে ঠুকতে থাকলাম গায়ের জ্বরে। তারপরও এই অমানুষটার মুখের বিশ্রি ভাষা বন্ধ হলো না। মেয়েটি আমাকে জড়িয়ে ধরে হাউ মাউ করে বাবা বলে কাদতে লাগলো।
এবার আমি আমার হাত থেকে জান্নাতের হাতে কোরআন দিয়ে বললাম যে, এবার তুমি বলো কোরআন হাতে দিতেই ওর চোখ মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেলো।
আমি বললাম বলো- আমি কোন কিছু না দেখে, না বুঝে, যাচাই না করে তোমাকে অপবাদ দিবো না, আরও বললাম বলো যে, আমার অপবাদের একচুল পরিমান যদি সত্যি হয়,তাহলে তুমি মহানবীর সাফায়াত পাবে না। আর যদি আমি মিথ্যা অপবাদ দিয়ে থাকি তাহলে আমি সাফায়াত পাবো না।
এটা বলতে সে বললো না। কোরআন রেখে চলে গেলো , পাশের ঘরে।
No comments:
Post a Comment