Thursday, December 25, 2025

2512. 25

 আমার মেয়েটা চিংড়ি মাছের বড়া খেতে পছন্দ করে মেয়ের মাও যথেষ্ট পছন্দ করে। বেশকিছুদিন ধরে মেয়েটি বায়না ধরলো,  খাওয়ার জন্য। 

সেদিনের পর থেকে আমি অর্নির সাথে কথা বলিনা। মেয়ে চিংড়ির বড়া খেতে চাইলো, মেয়ের মা বললো তোমার বাপরে বলো ঘুষাচিংড়ী কিনে আনতে। আমি মেয়েকে বললাম বাবা সবসময় পাওয়া যায় না। যদি পাই নিয়ে আসবো।  আজ বাড়িতে ফেরার পথে দেখলাম মাঝপথে দেখলাম ভ্যানে করে ঘুস চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে। তাড়াতাড়ি অটো থেকে নেমে ১কেজি চিংড়ি কিনলাম। এগুলো সব সময় পাওয়া যায় না। তাই দেরী না করে কিনে ফেললাম। 

এর আগে গরুর ভুড়ি খেতে চেয়েছিলো। এনে দিতে পারিনি,  এজন্য অনেক গালিগালাজ শুনেছি। যে কয়দিন ভূড়ি আনতে পারিনি সেই কয়দিন। 

তাই চিংড়ি মাছ কিনতে দেরী করলাম না। কিন্তু হিতে বিপরীত।  মাছ দেখে অর্নি খুশি হলো।  কিছুক্ষন পরে যখন বাছতে বসলো তখন, বাছতে কষ্ট হচ্ছে আর গালিগালাজ করছে। আমি ওপর কষ্ট দেখে কিছু মাছ ধুয়ে বেছে দেয়ার চেষ্টা করলাম। তারপর শুরু হলো আরো বিশ্রি গালিগালাজ। এটাও বললো আমাকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলবে। আমার সাথে বিয়ে না হয়ে...... 

 এবং বান্ধবীদের পোনা করে বলতে লাগলো আমি নাকি ঘুষ চিংড়ী জালিতে ডলেছি। 

থেঁতলে গেজা গেজা করে ফেলেছি আরো কতো কি। 

আমি পাশের রুমে নিজের অজান্তে কষ্টে আমি পাথর হয়ে গেলাম।


Monday, December 22, 2025

22.12.25

 আজ সোমবার অর্নি রোজা রেখেছে। অন্যদিন দুপুরে বাসায় ক্ষেতে আসি, কিন্তু আজ আর আসা হলোনা।  পকেটে টাকা নাই টাকা যোগাড় করতে হবে।  ইফতার হিসাবে কিছু ফল নিতে হবে। ইফতারের কয়েক মিনিট আগে বাসায় ফিরলাম, আপেল,মাল্টা, পেয়ারা নিয়ে। দুধ আনতে বলেছিলো কিন্তু পায়নি। ফল কাটতে কাটতে আযান দিয়ে দিলো। অর্নি হয়তো রাগ কিঞ্চিৎ রাগ হয়েছে, কারন আসতে দেরী হয়েছে। 

যাইহোক আমি খবর শুনছি।  মেয়ে বায়না ধরলো বাবা খেলনা কিনতে চলো। ওপর পছন্দের একটি খেলনা বেশ কিছুদিন ধরে বয়না করছে।  

ওদিকে অর্নি ইফতার করে, নামাজ পড়ে ফোনে কথা বলা শুরু করেছে কথা আর শেষ হচ্ছে না। মেয়ে কান্নাকাটি করছে। আর বলছে দেখো বাবা, সারাদিন ফোনে কথা বলে আর হাসাহাসি করে,  আর আমি যেই বলি আমার সাথে একটু খেলতে সেই বকাবকি করে। তখন আমি মেয়েকে বললাম চলো বাবা তোমাকে নিয়ে ঘুরে আসি। মেয়ে ওপর মাকে ( অর্নিকে) বললো রেডি করিয়ে দিতে। তরিঘরি করে চুলগুলো পিছনে রাবার দিলো আর  আমি মেয়েকে গরম কাপড় পরিয়ে,  নিজে রেডি হয়ে বেরিয়ে গেলাম। ঘুরে ঘুরে স্বপ্ন থেকে মেয়ের পছন্দের খেলনা কিনলাম। অর্নী বলেছিলো ওপর জন্য চাটনি আনতে তাই আমরা বাবা মেয়ে চাটনি ওয়ালাকে খুজছি।  এমন সময় মঈন ফোন করে বললো তুই কই? 

আমি বললাম যে, আমার রাজকন্যাকে নিয়ে আজমপুর ঘুরছি। মঈন বললো জামিল সোনিয়া আসছে আমরা রাজউক স্কুলের সামনে এখানে আয়। আমি গেলাম আমরা ভালো ভালো গল্প করছি,ওরা আমার মেয়েকে এটা ওটা জিজ্ঞাসা করছে, খাওয়াচ্ছে। মেয়েটাও খুব ুনজয় করছে।  এর মধ্যে একবার অর্নী সাথে ভিডিও কলে কথা হয়েছে। আমি ওকে হাজার বার বলেছি,  বাহিরে থাকাকলীন ভিডিও কল দিবা না। এটা লজ্জাজনক লাগে। কে শোনে কার কথা? 

সাড়ে ১০টার সময় আবার ভিডিও কলেজ দিয়েছে। আমি ভেবেছি মেয়েকে নিয়ে এসেছি। একজন্য হয়তো বার বার এমন করছে। আমি ভিডিও কলেজ রিসিভ করার সাথে সাথে শুশুক করেছে ওর বিশ্রি ভাষা আমি তাড়াতাড়ি কেটে দিয়ে,  অডিও কলেজ দিয়ে পরিবেশটা নরমাল করার বৃথা চেষ্টা করে ফোন কেটে দিলাম।  কিন্তু ও একের পর এক ফোন দিতেই থাকলো। সেটা যে কতোটা লজ্জার,  অপমানের তা একমাত্র সেই বোঝে যে পড়েছে। তারপর সবাইকে বললাম দোস্ত আমি মেয়েকে নিয়ে আসছি এজন্য অস্থির হয়ে গেছে,  আমি যাই বলে সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে। অনিকে অডিও কল দিলাম ।  অর্নি আমাকে যে বিশ্রি ভাবে কথা বলা শুরু করলো যেন আমি অন্য কারো বাচ্চা নিয়ে ঘুরতে এসেছি। যেমন: সোনার কোলে বসে চাটুত গেছো সেখানে আমার মেয়ে নিয়ে কেনো গেছো। এমন হাজারো বিশ্রি ভাষা। অথচ অর্নী জানে আমাদের বন্ধু গুলোর মধ্যে সম্পর্ক কেমন। ফ্যামিলি প্রোগ্রামে অর্নী গেছে।  আমি শুধু ছি: বলে লাইন কেটে দিলাম।

বাসায় এসে আমি আর ওপর সাথে কোনো কথা বলিনি। আমি আর মেয়ে খেলনা নিয়ে খেলা করছি। আমি ঘৃনায় ওর দিকে তাকাচ্ছি না।  অরনী এসে আমাকে বার বার এটা ওটা বলছে আমি কোন উত্তর দিচ্ছি না অন্য দিকে তাকিয়ে থাকছি। কিন্তু অরনী আমার পিছু ছাড়ছে না। আমার সামনে সামনে এসে নানান বিশ্রি অঙ্গভঙ্গি, করে দেখাতে লাগলো। একপর্যায়ে আমি আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারলাম না। কষে থাপ্পড় মারলাম ৪/৫টা। আর বললাম তোমাকে বলেছি যে, কখনো চরিত্র নিয়ে কথা বলবা না। তখন ও আমার দিকে তেড়ে আসার চেষ্টা করলে আবারও ২টা মারি এবং বলি, আগে ভালো করে জানবা, বুঝবা,দেখবা তারপর কথা বলবা। আমার অন্যায় হলে যে কোনো শাস্তি মাথা পেতে নেবো। 

মেয়ে ভয় পেয়ে কান্না কাটি শুরু করলো। তাই আমি থমানোর  চেষ্টা করছি, আর ও ততবেশি বাজে ব্যবহার করতে লাগলো।

Friday, December 19, 2025

19.12.2025

 আজ আমার এক বন্ধুর বাড়িতে দাওয়াত ছিলো।  আম্মার নামাজ পড়ে রওনা হবার জন্য রেডি হচ্ছিলাম। আমার মেয়ে আমাকে বললো বাবা, তুমি কি বাইরে যাবা এখন। আমি বললাম হ্যা বাবা,  তোমার এক আংকেলের বাসায় দাওয়াত সেখানে যাবো। 

রান্না ঘরে থেকে অরনী বললো,  দাওয়াত না,  নষ্টামী করতে যাচ্ছে। আমি কোনো উত্তর না দিয়ে শুধু বললাম নাউজুবিল্লাহ। 

বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে অরনী আমাকে যে মেসেজ দিলো তা উপস্থাপন করছি। 




আমি রাতে বাসায় এসে ওকে আর কিছু বলিনি বা কিছু জানতে চাইনি।  কারন আমার ঘৃনা করছিলো ওপর সাথে কথা বলতে।  যে আমি বা আমরা বন্ধুর স্বপ্নেও এমন নিকৃষ্টতর ভাবনা কখনো ভাবী না। আর সবার এখন ৪০-৪৫ বছর বয়স।  সবার পরিবার পরিজন সন্তান সন্তানাদী আছে।  অথাৎ পরিবারের বাইরে শুধু একটুআড্ডা গল্প ছাড়া আর ভাবারও সুযোগ নাই। 

আর অরনী সবই জানে যে আমাদের বন্ধুদের মধ্যে সম্পর্ক কেমন। আমার সাথে বন্ধুদের প্রগ্রামে গিয়েছে। আর আমি কোনো কিছু ওর কাছে লুকাই না। তবু অরনী জেনেবুঝে যে নোংরা কথা বললো তা আমাকে চরম ভাবে অেমান করা।

যাইহোক আমি কোন কথা না বলে, চুপচাপ রইলাম স্বাভাবিক ভাবেই।  সাড়ে ১১টার সময় মেয়ে বলছে বাবা চলো ঘুমাই। আমি বললাম বাবা তুমি শুয়ে পরে আসছি। পাঁচের রুমে এসে খবর শুনতে শুনতে ১২.৩০ বেজে গেছে। 

আমি ঘড়ি দেখে ওযু করে এসে দরজা চাপিয়ে দিয়ে চার রাকাত নামাজ আদায় করে আল্লার কাছে হাত তুলে বসে আছি। আমি প্রাই এটা করি মাঝরাতে। হঠাত শব্দ করে দরজা লাগানোর আওয়াজ পেলাম। আমি মোনাজাত শেষ করে  উঠে দেখি দরজা লাগিয়ে দিয়েছে। আর মেসেজে যা লিখেছে তার তুলে ধরার মতো না।  আমি যে উত্তর দিয়েছি শুধু তাই উল্লেখ করছি। 


৫ই আগস্ট ২০২৪ এর পর থেকে আমার যে কি করুন পরিস্থিতি সেটা বোঝানো কঠিন।  চাকরি নাই, ঘরে টাকা নাই। আমি কুত্তার মতো ছুটছি কাজের সন্ধানে।  যে যখন যেদিকে ডাকে সেদিকে দৌড়াই। আর সারাদিন শেষে ঘরে আসলে নানা ফালতু অযৌক্তিক কথা বলে বলে অশান্তি সৃষ্টি। ইদানিং  মেয়েটাকে নানা রকম কিছু শিক্ষা  দিচ্ছে। মেয়ের ব্যবহারে আনি পাথর হয়ে যাই আরও ভাবী,  কাদের জন্য রক্ত পানি করে জীবন ক্ষয় করছি।

Wednesday, November 5, 2025

নালিশ ছাড়া আর কোন মুরদ আছে ??

 প্রতিদিনের একটা ঘটনা। সকালে মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার আগে একবার মায়ের হাতে মাইর খেতে ও গালি গালাজ শুনতে হবে। আর একবার সন্ধ্যার সময় পড়তে বসলে। মাত্র ৭ বছরের শিশু মেয়ে সে। সকালের কারন টা হলো মেয়েটা ঘুম থেকে দেরি করে ওঠে। তাই স্কুলে যেতে স্বাভাবিক দেরি হবে। 
আমাদের মেয়েটা যখন কাজেকর্মে খুব স্লো তাই মেয়েকে আগে থেকে রেডি করাটা বু্দ্ধিমানের কাজ। আমি সকালে ৮টার দিকে মেয়েকে ডাকলে অর্নি আমাকে বলে ও ঘুম ভাঙ্গাচেছা কেন ? এখনো অনেক দেরী।

অর্নি মেয়েকে ঘুম থেকে ডাকা শুরু করবে। সকাল ৯টা থেকে। মেয়ে ঘুম থেকে উঠতে উঠতে সাড়ে নয়টা বেজে যায়। তারপর শুরু হয়ে যায় চিল্লাচিল্লি, গালিগালাজ। প্রতিদিন  এই নিস্পাপ শিশুটিকে কাদতে কাদতে স্কুলে যেতে হয়ে। আমি অর্নিকে হাজার বার বুঝিয়েছি যে, মেয়েটির সাথে প্রতিনিয়ত এমন ব্যবহার করে না। ওর আমরা ছাড়া কে আছে ? কে শোনে কার কথা উল্টো আমাকে বলে তুমি মেয়েটা নষ্ট করে ফেলছো।

আমি আবার বলি শোনো তুমি ওর সাথে যেমন ব্যবহার করবা ও সেই রকম ব্যবহার শিখবে। তুমি মেয়ের সাথে যতটা নমনীয় ভালো ব্যবহার করবা ও তোমার আমার সাথেও তেমন ব্যবহার করবে কারন এখন ওর শিখার বয়স, অনুকরন করার বয়স। 

মনে হয় আমার কথাগুলো ওর কানের পাশ থেকে গেছে, ভিতরে ঢোকেনি। পরের দিন সেই একই ঘটনার পূনরাবৃত্তি। মেয়েটি অশ্রুভেজা চোখে আমার কাছে এসে বলছে, বাবা দেখেছো মা আমার সাথে প্রতিদিন কেমন করে ?

আমি বললাম বাবা তুমি আল্লাহকে বলো যে, আল্লাহ যেন ওকে বুঝ দান করে। আর এটা ওর বংশীয় স্বভাব, প্রতিদিন নিয়ম করে তোমাকে আমাকে নিযার্তন না করলে ওর পেটের ভাত হজম হয়না। 

আমার ভালো কথা অর্নির কানে না গেলেও এই কথা ঠিকই বাতাসের আগেই পৌছে গেল তার কর্নগুহরে। ছুটে এসে অর্নি আমাকে বলছে , তোর মতো স্বামী আমার লাগবে না, তু্ই মরতে পারিস না। জানোয়ারের বাচ্চা।

আমি বললাম এই রকম রিএক্ট করার মতো কথা আমি তোমাকে বলিনি। 

অর্নির উত্তর দিল তোকে তালাক দিলাম, তুই আমার কেউ না। এক তালাক, দুই তালাক, তিন......।

আমি তখন কাপড় আয়রন করছিলাম, রাগে ক্ষোভে ওকে ভয় দেখিয়ে বললাম, এই টা মুখে ঠেসে ধরলে মুখের ব্যবহার ঠিক হয়ে যাবে। 

তারপর আমি আমার ছোট মামা শ্বশুরকে ফোন করে বললাম যে, আপনার ভাগ্নির ব্যবহারতো দিন কে দিন খারাপ হতে যাচ্ছে ওকে নিয়ে ঘর সংসার করা তো সম্ভব হচ্ছে না। 

মামা বললো আমি সামনের সপ্তাহে ঢাকা আসছি তোমাদের ওখানে সেই পর্যন্ত একটু কষ্ট করো। মামা মনে হয় পরের দিন অর্নিকে ফোন করে বলেছে। 

আমি বাসায় যাবার সাথে সাথে শুধু নালিশ করতে পারে, আর কোন মুরদ নাই। আমি দীর্ঘ কয়েক বছর ওর কথার তেমন কোন উত্তর দেই না। কারন এই ৮ টা বছর ওকে অনেক বুঝিয়েছি, বকেছি, গায়ে হাত তুলেছি, বিছানা আলাদা করে দিয়েছি। কোন কিছুতে কোন কাজ হয় না।  

অর্নি এবং অর্নির পরিবার পরিজন আমাকে নিয়ে সমালোচনা করতে পারবে। যেমন খুশি তেমন গালিগালাজ করতে পারবে। কিন্ত অর্নি সম্পর্কে তাদের কিছু বললে , তাদের অগোচরে উত্তর জামাই ভালো না , নালিশ করে। 

 যার জীবনে একটি খারাপ বউ পড়েছে সেই জানে যে,  একটা পুরুষের জীবন , একটি পরিবার,  একটি সমাজ ধ্বংস করতে আর কিছু লাগে না । একটি মেয়েই যথেষ্ট। একটি সুস্থ সার্মথ্য পুরুষ মানুষ অল্প দিনের মধ্যে পাগল হয়ে যেতে পারে শুধু মাত্র  একটি বাজে বউয়ের অত্যাচারে। বাংলার মানুষ শুধু বলে ‘‘নারী নির্যাতন, নারী নির্যাতন” কিন্তু একটি সাধারন পুরুষ মানুষ যে কতোটা নির্যাতিত  তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। পুরুষ না পারে কাউকে বলতে , না পারে সইতে।

স্বামীকে তার পরিবার সম্পর্কে মিথ্যা মিথ্যা বানিয়ে বানিয়ে বলে কিভাবে বিষিয়ে তুলতে হয় সেটা তার মার কাছ থেকেই শিখে আসে।  এই ধরনের বউদের একটু লজ্জা ঘৃনা থাকে না। এদের কোন নাম দেয়ার মতো নাই। হয়তো পৃথিবীতে এতো নিকৃষ্ট নাই এখনো হয়নাই। যা এদের দেয়া যায়।

Monday, November 3, 2025

থেমে নেই মানুষ রুপি অমানুষের চোহারার ভেল্কি

 বহুদিন ধরে লেখা বন্ধ করে দিয়েছি কারন আর লিখতে মন চায় না। তারপর কিছু ঘটনা লিখে রাখছি কালের সাক্ষী করে। আমার এই সন্তান যেন একদিন বুঝতে পারে ওপর মুখোর দিকে চেয়ে আমি কতোটা কষ্ট, যন্ত্র্রনা সহ্য করেছি। 

আজ ৪ নভেম্বর ২০২৫।  

এক রোযার সময় ঢাকার বন্ধুদের ইফতার পার্টি দাওয়াতে আমি উপস্থিত হতে গিয়েছি। ইফতারের সামান্য আগে অর্নি আমাকে ফোন দেয়। ইপতারের আগে তাই আমি খুব কৌতুহলী হয়েই ফোন রিসিভ করি। ফোন রিসিভ করা মাত্র অর্নি গালিগালাজ শুরু।  অতো মানুষের মাঝে আমি কোনো উত্তর দিতে না পেরে মানরক্ষার্তে, আচ্ছা, ঠিক আছে, পরে কলেজ দিচ্ছি ইত্যাদিবলে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করছিলাম,  আর ফোনের ওপাশ থেকে একের পর এক গালি আসতে লাগলো। এ ঘটনার পর একজন মানুষের অবস্থা কি হতে পারে বুঝতে পারেন। বুঝতে পারেন এই নির্্যাতিত মানুষটির কষ্ট। 

আমার অপরাধ ছিলো,  আমি আমার মরা বাপের নামে ২০০০/- টাকা ইফতার বাবদ দান করেছি। 

তারপর আমি আমার শ্বশুরকে ফোন দিয়ে সব ঘটনা বলি, রাগে, দুঃখে এটাও বলি যে, যে মেয়ে তার স্বামীর মৃতু বাবা সম্পর্কে এমন কথা বলতে পারে সে জারজ সন্তান ছাড়া মানুষের সন্তান হতেই পারে না।


আমার শ্বশুর এবং শাশুড়ী  তাদের মেয়েকে শাসন করা বা বুঝানোর ধারে কাছে না গিয়ে উল্টো মেয়েকে নালিশ করেছে যে জামাই তোর নামে আজেবাজে কথা বলেছে। 

এরপর ঈদের সময় অর্নিকে হাতে ধরেও বাড়ি নেয়া গেল না। বলে রাখা ভালো যে আমি বাড়ি যাই শুধু দুই ঈদে। তাও বন্ধ। আশায় ছিলাম কুরবানিতে বাড়ি যাবো। কিন্তু সে সময় ঘটালো আরো নিকৃষ্টতর ঘটনা। 

আমার আম্মা হজ্জে যাবে তাই  ভাবলাম আমার সামান্য আয় থেকে যদি আম্মাকে একটু সহযোগিতা করি তাহলে দোয়া পাবো, তাছাড়া আম্মাকে একটু সাহ্যয্যে করতে পারলে ভালো লাগবে। তাই অর্নিকে বললাম আম্মা আজ হজ্জে যাচ্ছে হাজার দেক টাকা দিয়ে সহযোগিতা করি।  তারপর আর বলতে হবেনা হয়তো বুঝতেই পারছেন। সবথেকে নিকৃষ্ট কথা ছিলো হুবহু এমন- তুই আর ঘরে আসবি না। রাস্তায় গাড়ির তলে,  ট্রেনের তলে মর।

 আমি কষ্টে নরম সুরে বললাম তুমি কি বলো এগুলো।

অর্নি উত্তরে বললো, আজ থেকে তুই তোর মার সাথে শুবি, আমার ধারে আসবি না। 

আমার মনে হয় সতি বা বৈধ মায়ের সন্তান কোনো মাকে নিয়ে এমন বলতে পারে না।

এতো বছর ধরে বিনা চাওয়ায় শুধু ওকে ক্ষমা করে যাচ্ছি। আমি ওকে যত ক্ষমা করি ওর অন্যায় ততই বেড়ে চলেছে। কিন্তু শুধু মেয়েটার জন্য বড় সিদ্ধান্ত  নিতে পারিনা। 

তার কিছুদিন পর আমার আম্মার চোখে সমস্যা হলো, চোখে ঘোলা ঘোলা দেখছে। খুবই খারাপ অবস্থা। আমি বললাম ঢাকায় আমার কাছে আসেন ডাক্তার দেখাই। আম্মা বলল আমি ঠিক মতো দেখতে পাইনা, একা একা কিভাবে আসবো। পরে আমার মামার সাথে আম্মা ঢাকায় এলো। একদিন পর আমি আর অর্নি মেয়েকে নিয়ে স্কুলে গেলাম আম্মাকে একা বাসায় রেখে। স্কুল ছুটির পর আবার দুজন মেয়েকে নিয়ে বাসায় ফিরলাম, গেটের সামনে থেকে অর্নিকে বললাম তুমি বাসায় যাও, আমি কাচা বাজার করে নিয়ে আসি। ৩থেকে৪ পদের কাচা বাজার করে ফেরার পথে অর্নির ফোন।  ফোন ধরা মাত্র বলছে তোমার মাকে এখনি বের করো, আমি ওনার সাথে থাকতে পারবো না। এমন বাজে নোংড়া মহিলার সাথে মানুষ থাকতে পারে। 

ঘরে ডুকে জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে। অর্নির উত্তর উনি কোরআন শরীফ পড়ে তাকে না রেখে ওয়্যারড্রপের উপর রেখেছে। এটা হলো আমার মায়ের মহা অপরাধ। 

কোনোভাবেই আমার আম্মাকে আর থাকতে দিলো না। পরে আমার বড় ভাইয়ের বাসা টঙ্গি রেখে আসি আম্মাকে। 

এতো নিকৃষ্ট অন্যায় অপরাধ করার পরেও ওপর ভিতর কনো অনুশোচনা নাই, উল্টো সব দোষ আমার আমি নাকি অযোগ্য স্বামী। অবশ্যই আমি অযোগ্য, কারন ওর সব অন্যায় সহ্য করতেছি। 



৩০.০৪.২৬

ভেবেছিলাম ২৫ সালের পর আর কিছু লিখবো না কিন্তু পারলাম না।  আজ সকালে খুব বৃষ্টি হচ্ছিলো। মেয়ের পরীক্ষা তাই তাকে স্কুলে নিয়ে যেতে হবে। প্রচন্ড ...