Wednesday, April 29, 2026

৩০.০৪.২৬

ভেবেছিলাম ২৫ সালের পর আর কিছু লিখবো না কিন্তু পারলাম না।
 আজ সকালে খুব বৃষ্টি হচ্ছিলো। মেয়ের পরীক্ষা তাই তাকে স্কুলে নিয়ে যেতে হবে। প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যে মেয়েকে স্কুলে নিয়ে গেলাম। মেয়েকে স্কুলে দিয়ে বাসায়  এসে দেখি জান্নাত ফোনে কথা বলছে। সেই সাইফা, মালিহা, লাবনী, গংদের কারো না কারো সাথে। দিনের মধ্যে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা  এদের কারো না কারো সাথে কথা বলতে থাকে জানিনা প্রতিদিন এতো কি কথা থাকে। আমার সামনে নাম উচ্চারন ছাড়াই কথা বলে, এই বন্ধু, দোস্ত, এই তুমি ইত্যাদি কিন্তু নাম উচ্চারন করে না।

 আমি কম্পিউটারে বসলাম একটি নিউজ করার জন্য। সকালে না খেয়েই মেয়েকে নিয়ে স্কুুলে গেলাম। এখন সকাল সাড়ে ১০ টা বাজে। সকালের নাস্তা করতে গিয়ে দেখি । খাবার কিছু নাই । জান্নাত কে বললাম ভাত রান্না করোনি। কোন উত্তর দিলো না। আবার জিজ্ঞাসা করলাম বললো না। 

আমি বললাম কেন?

ভালো লাগেনি তাই।

আমি একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজেই চাল ধুয়ে দিয়ে মেয়েকে স্কুলে থেকে আনতে চলে গেলাম  তখন বাজে ১১ টা । মেয়েকে স্কুল থেকে বাসায় নিয়ে এসে সেই একই দৃশ্য, ফোনে কথা চলছে। এই প্রায় ২ বছর ধরে এমন পরিস্তিতি। সারাদিন মোবাইল 

এমনও দেখেছি আমি সাধারনত শুক্রবারে বাড়ি থাকি। তাই দেখা গেলো সকালে উঠে বাজারে গিয়েছি। বাজার করে নিয়ে এসে দেখি সেই মশারীর ভীতর শুয়ে শুয়ে মোবাইলে কথা বলছে। দরজাটা পর্যন্ত আমার ৭ বছরের মেয়েটাই খুলে দেয়। 

বর্তমানে ৫ আগষ্ট ২৪ ,  এর পর কাজ সুবিধার্থে আমার স্কুল জীবনের কিছু বন্ধুদের সাথে ঘনিষ্টতা বাড়িয়েছি। যারা ঢাকায় থাকে তাদের সাথে। আমরা ৭ জন ছেলে আছি তার মধ্যে দুজন মেয়ে বন্ধু আছে। আমি বাদে বাকি ৬ জন কলেজ জীবন থেকেই , মেয়ে দুটির সাথে ভালো বন্ধুত্ব। তাই সবাই যখন একত্রিত হয়। মেয়ে দুটোও আসে। অল্পদিনের মধ্যেই আমি ও তাদের ঘনিষ্ট জনের একজনে পরিনত হই। 

জান্নাত মেয়ে বন্ধুর কথা শুনতেই পারে না। আমি ওর ভূল ভাঙ্গানোর জন্য সবার সাথে ওকে পরিচয় করিয়েছি। 

বন্ধুরা সবাই মিলে ফ্যামিলি প্রোগ্রাম করলে আমি জান্নাতকে নিয়ে গিয়েছি। ও অবশ্য যেতে চাইনি। আমি বলেছি যে, তুমি আমকে নিয়ে যে বাজে বাজে কথা বলো, তোমার সেই ধারনা ভাঙ্গা দরকার আছে। তোমার দেখা দরকার আছে আমি কাদের সাথে মিশছি।

ও দেখেছে আমার সাথে সবাই কেমন আচরন করে, আমি কেমন আচরন করি, কারন সারাক্ষন আমাদের যাদের পরিবার হাজির হয়েছে তারা সবাই একসাথে। তারপরও ঐ মেয়েদের নিয়ে আমাকে জড়িয়ে প্রতিদিন, বাসায় ঢোকার সাতে সাথে আজে বাজে মন্তব্য করবে।

গতদুদিন আগে আমি নিজের ধৈয্য ধরে রাখতে পারিনি, গলা টিপে ধরেছিলাম, রাগে। কতোক্ষন নিজের চরিত্রে এমন অপবাদ সহ্য করা যায়। আমি আজ ২ মাস ওর সাথে কথাই বলিনা ঘৃনায়। ওর আচার ব্যবহার, মুখের ভাষার কারনে। 

আজ এমন বাজে বাজে ব্যবহার করছে , আর মেয়েকে এমন এমন কথা শিখাচ্ছে আমার বিরুদ্ধে যা কোন রক্ত মাংসের মানুষ সহ্য করতে পারবে বলে মনে হয় না। আমি শুধু বললাম তুমি কি ঠিক করছো?

যদি তোমার মনে হয় যে, আমার সাথে সংসার করবে না তাহলে চলে যাও। আমি তোমাকে আটকাবো না। কিন্তু দয়া করে চরিত্র নিয়ে কথা বলবে না। আর যদি একটি বার তুমি আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলো আমি নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে মরে যাবো। তারপরও থামলো না। আমি যখন গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে নিজের হাত আগুনে ঠেলে দিলাম তখন আমাকে টেনে সরালো। কিন্তু মুখের অশ্লিল ভাষা বন্ধ করলো না। 
তারপর জান্নাত বললো ওযু করে আসো

আমি আমি ওযু করে এলাম। 

আমার হাতে কোরআন ধরিয়ে দিলো। আমি বললাম তুমি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করছো। আল্লাহ ক্ষমা করবে না। কে শোনে কার কথা।

জান্নাত বললো আমার প্রশ্নের উত্তর দাও। আমি বললাম বলো

জান্নাত বললো তোমার কি আগে  বিয়ে ছিলো ? এমন প্রশ্ন শুনলে জানিনা কারো মাথা, বা রক্ত ঠিক থাকবে কিনা। তারপরও নিজেকে সামলে উত্তর দিলাম না।
তারপর আবার প্রশ্ন তোমার বান্ধবীকে তুমি বিয়ে করেছো ?  মনে হচ্ছিলো মাটি ফেটে গেলে ঢুকে যেতাম। মন চাচ্ছে এখনই মরে যাই, । তারপরও নিজেকে সামলে উত্তর দিলাম না। 

আবার প্রশ্ন তাহলে ওর সাথে তোমার কি অবৈধ সম্পর্ক ? তখন আর নিজেকে সামলাতে না পেরে নিজের মাথা নিজে দেয়ালে ঠুকতে থাকলাম গায়ের জ্বরে। তারপরও এই অমানুষটার মুখের বিশ্রি ভাষা বন্ধ হলো না। মেয়েটি আমাকে জড়িয়ে ধরে হাউ মাউ করে বাবা বলে কাদতে লাগলো।

এবার আমি আমার হাত থেকে জান্নাতের হাতে কোরআন দিয়ে বললাম যে, এবার তুমি বলো কোরআন হাতে দিতেই ওর চোখ মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেলো।

আমি বললাম বলো- আমি কোন কিছু না দেখে, না বুঝে, যাচাই না করে তোমাকে অপবাদ দিবো না, আরও বললাম বলো যে, আমার অপবাদের একচুল পরিমান যদি সত্যি হয়,তাহলে তুমি মহানবীর সাফায়াত পাবে না। আর যদি আমি মিথ্যা অপবাদ দিয়ে থাকি তাহলে আমি সাফায়াত পাবো না।
এটা বলতে সে বললো না। কোরআন রেখে চলে গেলো , পাশের ঘরে।

Saturday, January 3, 2026

০৩.০১.২৬

সকালে বেরিয়ে সারাদিন পর রাত ৮ টার সময় বাড়ি আসলাম। তখনও আমি কাপড় বদলায়ন।অরনী আমাকে  একটি ছবি দেখিয়ে বললো তোমার বন্ধু রাখা আজকে সবাই দাওয়াত খাচ্ছে।।তুমি খুলনায় থাকলে কি করতে।৷ ওখড়নো যেতে। আমি বললাম যে ডাকলে যেতাম।

অরনী বললো আমি নিষেধ করলেও  যেতে?  আমি বললাম তুমি কেন নিষেধ করবে? এসব নষ্টামি করতে।  শুরু হয়ে গেলো বিশ্রি গালি গালাজ। 

বলে নেয়া ভালো, আমার এসএসসি ব্যাচের বন্ধু  এরা। সবাই সবাইকে চিনি না। আজ একটি মেয়ে তার পরিচিত সকলকে দাওয়াত করেছে তার বাসায়। ও যেহেতু মেয়ে তাই ওপর মেয়ে বন্ধু বেশি থাকাটা স্বাভাবিক।  তাদের প্রোগ্রামের ছবি ফেসবুক থেকে নামিয়ে সেটা নিয়ে আমার সাথে অশান্তি শুরু করছে। অথচ আমি ঢাকায় আর ওরা খুলনায়। সেই লটারী পাওয়ার আগে ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্বর মতো অবস্থা। 

তারমধ্যে তুলে আনলো আরেকটি বিষয়, আট বছর আগে আমি যখন ওকে প্রথম ঢাকায় নিয়ে আসি তখন এক মুরব্বির দোকানে হাড়ি পাতিল কিনতে গিয়েছিলাম। মুরব্বিকে আমি চিনিনা, মুরব্বি ও আমাকে চেনে না। কারন আমি নতুন বাড্ডায় বাসা নিয়েছি। এবং এর আগে আমি কোনোদিন হাড়ি পাতিল তিনিও নাই। কিন্তু মুরব্বি আমাকে বললো, বাবাজি আগের সপ্তাহে তো তুমি আমার কাছ থেকে এই হাড়ি ৩০০/- টাকা দিয়ে কিনে নিয়ে গেছো তোমার সাথে একটা মেয়েও ছিলো। আটকে বছর সংসার করার পরেও আমার শুনতে হয়, কেন মুরব্বি এই কথা বললো আমার মনে হয় আরেকটা বিয়ে আছে। 

আর চুন থেকে পান খসলে আমার নিস্পাপ মেয়েটার শুনতে হয়,  যে তোর জন্য আমার জীবন ধ্বংস হয়ে গেছে, তুই পেটে না আসলে আমি অন্য কোথাও চলে যেতাম। তোর জন্য এই নরকে পড়ে আছি। 

অথচ আমার আর মেয়ের জীবনটাকে ও-ই নরক বানিয়ে রেখেছে।

Thursday, December 25, 2025

2512. 25

 আমার মেয়েটা চিংড়ি মাছের বড়া খেতে পছন্দ করে মেয়ের মাও যথেষ্ট পছন্দ করে। বেশকিছুদিন ধরে মেয়েটি বায়না ধরলো,  খাওয়ার জন্য। 

সেদিনের পর থেকে আমি অর্নির সাথে কথা বলিনা। মেয়ে চিংড়ির বড়া খেতে চাইলো, মেয়ের মা বললো তোমার বাপরে বলো ঘুষাচিংড়ী কিনে আনতে। আমি মেয়েকে বললাম বাবা সবসময় পাওয়া যায় না। যদি পাই নিয়ে আসবো।  আজ বাড়িতে ফেরার পথে দেখলাম মাঝপথে দেখলাম ভ্যানে করে ঘুস চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে। তাড়াতাড়ি অটো থেকে নেমে ১কেজি চিংড়ি কিনলাম। এগুলো সব সময় পাওয়া যায় না। তাই দেরী না করে কিনে ফেললাম। 

এর আগে গরুর ভুড়ি খেতে চেয়েছিলো। এনে দিতে পারিনি,  এজন্য অনেক গালিগালাজ শুনেছি। যে কয়দিন ভূড়ি আনতে পারিনি সেই কয়দিন। 

তাই চিংড়ি মাছ কিনতে দেরী করলাম না। কিন্তু হিতে বিপরীত।  মাছ দেখে অর্নি খুশি হলো।  কিছুক্ষন পরে যখন বাছতে বসলো তখন, বাছতে কষ্ট হচ্ছে আর গালিগালাজ করছে। আমি ওপর কষ্ট দেখে কিছু মাছ ধুয়ে বেছে দেয়ার চেষ্টা করলাম। তারপর শুরু হলো আরো বিশ্রি গালিগালাজ। এটাও বললো আমাকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলবে। আমার সাথে বিয়ে না হয়ে...... 

 এবং বান্ধবীদের পোনা করে বলতে লাগলো আমি নাকি ঘুষ চিংড়ী জালিতে ডলেছি। 

থেঁতলে গেজা গেজা করে ফেলেছি আরো কতো কি। 

আমি পাশের রুমে নিজের অজান্তে কষ্টে আমি পাথর হয়ে গেলাম।


Monday, December 22, 2025

22.12.25

 আজ সোমবার অর্নি রোজা রেখেছে। অন্যদিন দুপুরে বাসায় ক্ষেতে আসি, কিন্তু আজ আর আসা হলোনা।  পকেটে টাকা নাই টাকা যোগাড় করতে হবে।  ইফতার হিসাবে কিছু ফল নিতে হবে। ইফতারের কয়েক মিনিট আগে বাসায় ফিরলাম, আপেল,মাল্টা, পেয়ারা নিয়ে। দুধ আনতে বলেছিলো কিন্তু পায়নি। ফল কাটতে কাটতে আযান দিয়ে দিলো। অর্নি হয়তো রাগ কিঞ্চিৎ রাগ হয়েছে, কারন আসতে দেরী হয়েছে। 

যাইহোক আমি খবর শুনছি।  মেয়ে বায়না ধরলো বাবা খেলনা কিনতে চলো। ওপর পছন্দের একটি খেলনা বেশ কিছুদিন ধরে বয়না করছে।  

ওদিকে অর্নি ইফতার করে, নামাজ পড়ে ফোনে কথা বলা শুরু করেছে কথা আর শেষ হচ্ছে না। মেয়ে কান্নাকাটি করছে। আর বলছে দেখো বাবা, সারাদিন ফোনে কথা বলে আর হাসাহাসি করে,  আর আমি যেই বলি আমার সাথে একটু খেলতে সেই বকাবকি করে। তখন আমি মেয়েকে বললাম চলো বাবা তোমাকে নিয়ে ঘুরে আসি। মেয়ে ওপর মাকে ( অর্নিকে) বললো রেডি করিয়ে দিতে। তরিঘরি করে চুলগুলো পিছনে রাবার দিলো আর  আমি মেয়েকে গরম কাপড় পরিয়ে,  নিজে রেডি হয়ে বেরিয়ে গেলাম। ঘুরে ঘুরে স্বপ্ন থেকে মেয়ের পছন্দের খেলনা কিনলাম। অর্নী বলেছিলো ওপর জন্য চাটনি আনতে তাই আমরা বাবা মেয়ে চাটনি ওয়ালাকে খুজছি।  এমন সময় মঈন ফোন করে বললো তুই কই? 

আমি বললাম যে, আমার রাজকন্যাকে নিয়ে আজমপুর ঘুরছি। মঈন বললো জামিল সোনিয়া আসছে আমরা রাজউক স্কুলের সামনে এখানে আয়। আমি গেলাম আমরা ভালো ভালো গল্প করছি,ওরা আমার মেয়েকে এটা ওটা জিজ্ঞাসা করছে, খাওয়াচ্ছে। মেয়েটাও খুব ুনজয় করছে।  এর মধ্যে একবার অর্নী সাথে ভিডিও কলে কথা হয়েছে। আমি ওকে হাজার বার বলেছি,  বাহিরে থাকাকলীন ভিডিও কল দিবা না। এটা লজ্জাজনক লাগে। কে শোনে কার কথা? 

সাড়ে ১০টার সময় আবার ভিডিও কলেজ দিয়েছে। আমি ভেবেছি মেয়েকে নিয়ে এসেছি। একজন্য হয়তো বার বার এমন করছে। আমি ভিডিও কলেজ রিসিভ করার সাথে সাথে শুশুক করেছে ওর বিশ্রি ভাষা আমি তাড়াতাড়ি কেটে দিয়ে,  অডিও কলেজ দিয়ে পরিবেশটা নরমাল করার বৃথা চেষ্টা করে ফোন কেটে দিলাম।  কিন্তু ও একের পর এক ফোন দিতেই থাকলো। সেটা যে কতোটা লজ্জার,  অপমানের তা একমাত্র সেই বোঝে যে পড়েছে। তারপর সবাইকে বললাম দোস্ত আমি মেয়েকে নিয়ে আসছি এজন্য অস্থির হয়ে গেছে,  আমি যাই বলে সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে। অনিকে অডিও কল দিলাম ।  অর্নি আমাকে যে বিশ্রি ভাবে কথা বলা শুরু করলো যেন আমি অন্য কারো বাচ্চা নিয়ে ঘুরতে এসেছি। যেমন: সোনার কোলে বসে চাটুত গেছো সেখানে আমার মেয়ে নিয়ে কেনো গেছো। এমন হাজারো বিশ্রি ভাষা। অথচ অর্নী জানে আমাদের বন্ধু গুলোর মধ্যে সম্পর্ক কেমন। ফ্যামিলি প্রোগ্রামে অর্নী গেছে।  আমি শুধু ছি: বলে লাইন কেটে দিলাম।

বাসায় এসে আমি আর ওপর সাথে কোনো কথা বলিনি। আমি আর মেয়ে খেলনা নিয়ে খেলা করছি। আমি ঘৃনায় ওর দিকে তাকাচ্ছি না।  অরনী এসে আমাকে বার বার এটা ওটা বলছে আমি কোন উত্তর দিচ্ছি না অন্য দিকে তাকিয়ে থাকছি। কিন্তু অরনী আমার পিছু ছাড়ছে না। আমার সামনে সামনে এসে নানান বিশ্রি অঙ্গভঙ্গি, করে দেখাতে লাগলো। একপর্যায়ে আমি আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারলাম না। কষে থাপ্পড় মারলাম ৪/৫টা। আর বললাম তোমাকে বলেছি যে, কখনো চরিত্র নিয়ে কথা বলবা না। তখন ও আমার দিকে তেড়ে আসার চেষ্টা করলে আবারও ২টা মারি এবং বলি, আগে ভালো করে জানবা, বুঝবা,দেখবা তারপর কথা বলবা। আমার অন্যায় হলে যে কোনো শাস্তি মাথা পেতে নেবো। 

মেয়ে ভয় পেয়ে কান্না কাটি শুরু করলো। তাই আমি থমানোর  চেষ্টা করছি, আর ও ততবেশি বাজে ব্যবহার করতে লাগলো।

Friday, December 19, 2025

19.12.2025

 আজ আমার এক বন্ধুর বাড়িতে দাওয়াত ছিলো।  আম্মার নামাজ পড়ে রওনা হবার জন্য রেডি হচ্ছিলাম। আমার মেয়ে আমাকে বললো বাবা, তুমি কি বাইরে যাবা এখন। আমি বললাম হ্যা বাবা,  তোমার এক আংকেলের বাসায় দাওয়াত সেখানে যাবো। 

রান্না ঘরে থেকে অরনী বললো,  দাওয়াত না,  নষ্টামী করতে যাচ্ছে। আমি কোনো উত্তর না দিয়ে শুধু বললাম নাউজুবিল্লাহ। 

বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে অরনী আমাকে যে মেসেজ দিলো তা উপস্থাপন করছি। 




আমি রাতে বাসায় এসে ওকে আর কিছু বলিনি বা কিছু জানতে চাইনি।  কারন আমার ঘৃনা করছিলো ওপর সাথে কথা বলতে।  যে আমি বা আমরা বন্ধুর স্বপ্নেও এমন নিকৃষ্টতর ভাবনা কখনো ভাবী না। আর সবার এখন ৪০-৪৫ বছর বয়স।  সবার পরিবার পরিজন সন্তান সন্তানাদী আছে।  অথাৎ পরিবারের বাইরে শুধু একটুআড্ডা গল্প ছাড়া আর ভাবারও সুযোগ নাই। 

আর অরনী সবই জানে যে আমাদের বন্ধুদের মধ্যে সম্পর্ক কেমন। আমার সাথে বন্ধুদের প্রগ্রামে গিয়েছে। আর আমি কোনো কিছু ওর কাছে লুকাই না। তবু অরনী জেনেবুঝে যে নোংরা কথা বললো তা আমাকে চরম ভাবে অেমান করা।

যাইহোক আমি কোন কথা না বলে, চুপচাপ রইলাম স্বাভাবিক ভাবেই।  সাড়ে ১১টার সময় মেয়ে বলছে বাবা চলো ঘুমাই। আমি বললাম বাবা তুমি শুয়ে পরে আসছি। পাঁচের রুমে এসে খবর শুনতে শুনতে ১২.৩০ বেজে গেছে। 

আমি ঘড়ি দেখে ওযু করে এসে দরজা চাপিয়ে দিয়ে চার রাকাত নামাজ আদায় করে আল্লার কাছে হাত তুলে বসে আছি। আমি প্রাই এটা করি মাঝরাতে। হঠাত শব্দ করে দরজা লাগানোর আওয়াজ পেলাম। আমি মোনাজাত শেষ করে  উঠে দেখি দরজা লাগিয়ে দিয়েছে। আর মেসেজে যা লিখেছে তার তুলে ধরার মতো না।  আমি যে উত্তর দিয়েছি শুধু তাই উল্লেখ করছি। 


৫ই আগস্ট ২০২৪ এর পর থেকে আমার যে কি করুন পরিস্থিতি সেটা বোঝানো কঠিন।  চাকরি নাই, ঘরে টাকা নাই। আমি কুত্তার মতো ছুটছি কাজের সন্ধানে।  যে যখন যেদিকে ডাকে সেদিকে দৌড়াই। আর সারাদিন শেষে ঘরে আসলে নানা ফালতু অযৌক্তিক কথা বলে বলে অশান্তি সৃষ্টি। ইদানিং  মেয়েটাকে নানা রকম কিছু শিক্ষা  দিচ্ছে। মেয়ের ব্যবহারে আনি পাথর হয়ে যাই আরও ভাবী,  কাদের জন্য রক্ত পানি করে জীবন ক্ষয় করছি।

Wednesday, November 5, 2025

নালিশ ছাড়া আর কোন মুরদ আছে ??

 প্রতিদিনের একটা ঘটনা। সকালে মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার আগে একবার মায়ের হাতে মাইর খেতে ও গালি গালাজ শুনতে হবে। আর একবার সন্ধ্যার সময় পড়তে বসলে। মাত্র ৭ বছরের শিশু মেয়ে সে। সকালের কারন টা হলো মেয়েটা ঘুম থেকে দেরি করে ওঠে। তাই স্কুলে যেতে স্বাভাবিক দেরি হবে। 
আমাদের মেয়েটা যখন কাজেকর্মে খুব স্লো তাই মেয়েকে আগে থেকে রেডি করাটা বু্দ্ধিমানের কাজ। আমি সকালে ৮টার দিকে মেয়েকে ডাকলে অর্নি আমাকে বলে ও ঘুম ভাঙ্গাচেছা কেন ? এখনো অনেক দেরী।

অর্নি মেয়েকে ঘুম থেকে ডাকা শুরু করবে। সকাল ৯টা থেকে। মেয়ে ঘুম থেকে উঠতে উঠতে সাড়ে নয়টা বেজে যায়। তারপর শুরু হয়ে যায় চিল্লাচিল্লি, গালিগালাজ। প্রতিদিন  এই নিস্পাপ শিশুটিকে কাদতে কাদতে স্কুলে যেতে হয়ে। আমি অর্নিকে হাজার বার বুঝিয়েছি যে, মেয়েটির সাথে প্রতিনিয়ত এমন ব্যবহার করে না। ওর আমরা ছাড়া কে আছে ? কে শোনে কার কথা উল্টো আমাকে বলে তুমি মেয়েটা নষ্ট করে ফেলছো।

আমি আবার বলি শোনো তুমি ওর সাথে যেমন ব্যবহার করবা ও সেই রকম ব্যবহার শিখবে। তুমি মেয়ের সাথে যতটা নমনীয় ভালো ব্যবহার করবা ও তোমার আমার সাথেও তেমন ব্যবহার করবে কারন এখন ওর শিখার বয়স, অনুকরন করার বয়স। 

মনে হয় আমার কথাগুলো ওর কানের পাশ থেকে গেছে, ভিতরে ঢোকেনি। পরের দিন সেই একই ঘটনার পূনরাবৃত্তি। মেয়েটি অশ্রুভেজা চোখে আমার কাছে এসে বলছে, বাবা দেখেছো মা আমার সাথে প্রতিদিন কেমন করে ?

আমি বললাম বাবা তুমি আল্লাহকে বলো যে, আল্লাহ যেন ওকে বুঝ দান করে। আর এটা ওর বংশীয় স্বভাব, প্রতিদিন নিয়ম করে তোমাকে আমাকে নিযার্তন না করলে ওর পেটের ভাত হজম হয়না। 

আমার ভালো কথা অর্নির কানে না গেলেও এই কথা ঠিকই বাতাসের আগেই পৌছে গেল তার কর্নগুহরে। ছুটে এসে অর্নি আমাকে বলছে , তোর মতো স্বামী আমার লাগবে না, তু্ই মরতে পারিস না। জানোয়ারের বাচ্চা।

আমি বললাম এই রকম রিএক্ট করার মতো কথা আমি তোমাকে বলিনি। 

অর্নির উত্তর দিল তোকে তালাক দিলাম, তুই আমার কেউ না। এক তালাক, দুই তালাক, তিন......।

আমি তখন কাপড় আয়রন করছিলাম, রাগে ক্ষোভে ওকে ভয় দেখিয়ে বললাম, এই টা মুখে ঠেসে ধরলে মুখের ব্যবহার ঠিক হয়ে যাবে। 

তারপর আমি আমার ছোট মামা শ্বশুরকে ফোন করে বললাম যে, আপনার ভাগ্নির ব্যবহারতো দিন কে দিন খারাপ হতে যাচ্ছে ওকে নিয়ে ঘর সংসার করা তো সম্ভব হচ্ছে না। 

মামা বললো আমি সামনের সপ্তাহে ঢাকা আসছি তোমাদের ওখানে সেই পর্যন্ত একটু কষ্ট করো। মামা মনে হয় পরের দিন অর্নিকে ফোন করে বলেছে। 

আমি বাসায় যাবার সাথে সাথে শুধু নালিশ করতে পারে, আর কোন মুরদ নাই। আমি দীর্ঘ কয়েক বছর ওর কথার তেমন কোন উত্তর দেই না। কারন এই ৮ টা বছর ওকে অনেক বুঝিয়েছি, বকেছি, গায়ে হাত তুলেছি, বিছানা আলাদা করে দিয়েছি। কোন কিছুতে কোন কাজ হয় না।  

অর্নি এবং অর্নির পরিবার পরিজন আমাকে নিয়ে সমালোচনা করতে পারবে। যেমন খুশি তেমন গালিগালাজ করতে পারবে। কিন্ত অর্নি সম্পর্কে তাদের কিছু বললে , তাদের অগোচরে উত্তর জামাই ভালো না , নালিশ করে। 

 যার জীবনে একটি খারাপ বউ পড়েছে সেই জানে যে,  একটা পুরুষের জীবন , একটি পরিবার,  একটি সমাজ ধ্বংস করতে আর কিছু লাগে না । একটি মেয়েই যথেষ্ট। একটি সুস্থ সার্মথ্য পুরুষ মানুষ অল্প দিনের মধ্যে পাগল হয়ে যেতে পারে শুধু মাত্র  একটি বাজে বউয়ের অত্যাচারে। বাংলার মানুষ শুধু বলে ‘‘নারী নির্যাতন, নারী নির্যাতন” কিন্তু একটি সাধারন পুরুষ মানুষ যে কতোটা নির্যাতিত  তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। পুরুষ না পারে কাউকে বলতে , না পারে সইতে।

স্বামীকে তার পরিবার সম্পর্কে মিথ্যা মিথ্যা বানিয়ে বানিয়ে বলে কিভাবে বিষিয়ে তুলতে হয় সেটা তার মার কাছ থেকেই শিখে আসে।  এই ধরনের বউদের একটু লজ্জা ঘৃনা থাকে না। এদের কোন নাম দেয়ার মতো নাই। হয়তো পৃথিবীতে এতো নিকৃষ্ট নাই এখনো হয়নাই। যা এদের দেয়া যায়।

৩০.০৪.২৬

ভেবেছিলাম ২৫ সালের পর আর কিছু লিখবো না কিন্তু পারলাম না।  আজ সকালে খুব বৃষ্টি হচ্ছিলো। মেয়ের পরীক্ষা তাই তাকে স্কুলে নিয়ে যেতে হবে। প্রচন্ড ...