আজ সোমবার অর্নি রোজা রেখেছে। অন্যদিন দুপুরে বাসায় ক্ষেতে আসি, কিন্তু আজ আর আসা হলোনা। পকেটে টাকা নাই টাকা যোগাড় করতে হবে। ইফতার হিসাবে কিছু ফল নিতে হবে। ইফতারের কয়েক মিনিট আগে বাসায় ফিরলাম, আপেল,মাল্টা, পেয়ারা নিয়ে। দুধ আনতে বলেছিলো কিন্তু পায়নি। ফল কাটতে কাটতে আযান দিয়ে দিলো। অর্নি হয়তো রাগ কিঞ্চিৎ রাগ হয়েছে, কারন আসতে দেরী হয়েছে।
যাইহোক আমি খবর শুনছি। মেয়ে বায়না ধরলো বাবা খেলনা কিনতে চলো। ওপর পছন্দের একটি খেলনা বেশ কিছুদিন ধরে বয়না করছে।
ওদিকে অর্নি ইফতার করে, নামাজ পড়ে ফোনে কথা বলা শুরু করেছে কথা আর শেষ হচ্ছে না। মেয়ে কান্নাকাটি করছে। আর বলছে দেখো বাবা, সারাদিন ফোনে কথা বলে আর হাসাহাসি করে, আর আমি যেই বলি আমার সাথে একটু খেলতে সেই বকাবকি করে। তখন আমি মেয়েকে বললাম চলো বাবা তোমাকে নিয়ে ঘুরে আসি। মেয়ে ওপর মাকে ( অর্নিকে) বললো রেডি করিয়ে দিতে। তরিঘরি করে চুলগুলো পিছনে রাবার দিলো আর আমি মেয়েকে গরম কাপড় পরিয়ে, নিজে রেডি হয়ে বেরিয়ে গেলাম। ঘুরে ঘুরে স্বপ্ন থেকে মেয়ের পছন্দের খেলনা কিনলাম। অর্নী বলেছিলো ওপর জন্য চাটনি আনতে তাই আমরা বাবা মেয়ে চাটনি ওয়ালাকে খুজছি। এমন সময় মঈন ফোন করে বললো তুই কই?
আমি বললাম যে, আমার রাজকন্যাকে নিয়ে আজমপুর ঘুরছি। মঈন বললো জামিল সোনিয়া আসছে আমরা রাজউক স্কুলের সামনে এখানে আয়। আমি গেলাম আমরা ভালো ভালো গল্প করছি,ওরা আমার মেয়েকে এটা ওটা জিজ্ঞাসা করছে, খাওয়াচ্ছে। মেয়েটাও খুব ুনজয় করছে। এর মধ্যে একবার অর্নী সাথে ভিডিও কলে কথা হয়েছে। আমি ওকে হাজার বার বলেছি, বাহিরে থাকাকলীন ভিডিও কল দিবা না। এটা লজ্জাজনক লাগে। কে শোনে কার কথা?
সাড়ে ১০টার সময় আবার ভিডিও কলেজ দিয়েছে। আমি ভেবেছি মেয়েকে নিয়ে এসেছি। একজন্য হয়তো বার বার এমন করছে। আমি ভিডিও কলেজ রিসিভ করার সাথে সাথে শুশুক করেছে ওর বিশ্রি ভাষা আমি তাড়াতাড়ি কেটে দিয়ে, অডিও কলেজ দিয়ে পরিবেশটা নরমাল করার বৃথা চেষ্টা করে ফোন কেটে দিলাম। কিন্তু ও একের পর এক ফোন দিতেই থাকলো। সেটা যে কতোটা লজ্জার, অপমানের তা একমাত্র সেই বোঝে যে পড়েছে। তারপর সবাইকে বললাম দোস্ত আমি মেয়েকে নিয়ে আসছি এজন্য অস্থির হয়ে গেছে, আমি যাই বলে সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে। অনিকে অডিও কল দিলাম । অর্নি আমাকে যে বিশ্রি ভাবে কথা বলা শুরু করলো যেন আমি অন্য কারো বাচ্চা নিয়ে ঘুরতে এসেছি। যেমন: সোনার কোলে বসে চাটুত গেছো সেখানে আমার মেয়ে নিয়ে কেনো গেছো। এমন হাজারো বিশ্রি ভাষা। অথচ অর্নী জানে আমাদের বন্ধু গুলোর মধ্যে সম্পর্ক কেমন। ফ্যামিলি প্রোগ্রামে অর্নী গেছে। আমি শুধু ছি: বলে লাইন কেটে দিলাম।
বাসায় এসে আমি আর ওপর সাথে কোনো কথা বলিনি। আমি আর মেয়ে খেলনা নিয়ে খেলা করছি। আমি ঘৃনায় ওর দিকে তাকাচ্ছি না। অরনী এসে আমাকে বার বার এটা ওটা বলছে আমি কোন উত্তর দিচ্ছি না অন্য দিকে তাকিয়ে থাকছি। কিন্তু অরনী আমার পিছু ছাড়ছে না। আমার সামনে সামনে এসে নানান বিশ্রি অঙ্গভঙ্গি, করে দেখাতে লাগলো। একপর্যায়ে আমি আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারলাম না। কষে থাপ্পড় মারলাম ৪/৫টা। আর বললাম তোমাকে বলেছি যে, কখনো চরিত্র নিয়ে কথা বলবা না। তখন ও আমার দিকে তেড়ে আসার চেষ্টা করলে আবারও ২টা মারি এবং বলি, আগে ভালো করে জানবা, বুঝবা,দেখবা তারপর কথা বলবা। আমার অন্যায় হলে যে কোনো শাস্তি মাথা পেতে নেবো।
মেয়ে ভয় পেয়ে কান্না কাটি শুরু করলো। তাই আমি থমানোর চেষ্টা করছি, আর ও ততবেশি বাজে ব্যবহার করতে লাগলো।