Tuesday, March 16, 2021

ব্লেন্ডার



At night I got some money from a friend. As soon as I got the money, I thought I would have to buy a blender. Saying for a few days. He is in a lot of trouble.

Most of the shops were closed at around 10 pm. I showed up at a time when Singer would close a showroom.

I said brother I will take a blender. Can you give me ten minutes?

The gentleman in the showroom said yes sir there is no problem you see.

I bought a blender for four and a half thousand rupees and returned home feeling very happy. I thought Jannat would be very happy to see it.

When I opened the door and saw the blender, Jannat's face turned black like the bottom of a pot. I said what happened.

Why not buy with me?

I said if you have something you like, tell me and I will bring it back.

He raised his hand and looked at me with big eyes and said - shut up and don't say another word.

I was very upset but could not say anything.

He didn't talk to me all night. Leaving the food in the kitchen, he says to the one-and-a-half-year-old girl, let's go to sleep. I went to the kitchen and brought food and went to bed. The girl really came to me at night and told the girl to come here. Come here.

I started to have a hard time using it but I didn't say anything. I looked silently at how.

In the morning I wake up and see. Rice on a plate and tomatoes on a plate are cooked on the veranda table. Must be eaten mashed. Anyway, I quietly started eating stuffed tomatoes. The girl came to me and said, "Daddy, Daddy, I'm trying to put rice in her mouth." And Jannat is taking the girl home from me again and again. The girl is coming to me again and again and taking me to paradise again and again. Ayan is used as the enemy of birth. Then don't say anything.

I'm sitting on the floor eating. Suddenly I saw a boiled egg fall on the side of my plate and fell on the side of the soap. I looked up and saw Jannat standing 3 hands away from me.

I said what happened?

He said what should I do?

I have no other language to write

................................................................................................................................................

 রাতে একবন্ধুর কাছথেকে কিছু টাকা পেলাম। টাকা পাওয়ার সাথে সাথে মনে হলো একটা ব্লেন্ডার কিনতে হবে। কয়েকদিন ধরে বলছে। ওর খুব কষ্ট হয়। 

রাত তখন দশটা প্রায় অধিকাংশ দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। সিঙ্গারের একটা শোরুম বন্ধ করবে এমন সময় আমি হাজির হলাম। 

বললাম ভাই একটা ব্লেন্ডার নিবো । দশ মিনিট সময় দেয়া যাবে ?

শোরুমের ভদ্রলোক বলল িজ্বী স্যার কোন সমস্যা নাই আপনি দেখেন।

সাড়ে চার হাজার টাকা দিয়ে একটা ব্লেন্ডার কিনে খুব খুশি মনে বাসায় ফিরলাম। ভাবলাম জান্নাত  এটা দেখে খুব খুশি হবে।

দরজা খুলে ব্লেন্ডার দেখে জান্নাতের মুখখানা হাড়ির তলাম মতো কালো হয়ে গেলো। আমি বললাম কি হয়েছে। 

আমাকে সাথে না নিয়ে কিনলে কেনো ?

আমি বললাম কেনো তোমার পছন্দের কিছু থাকলে বলো ফেরত দিয়ে সেইটা নিয়ে আসবো। 

ও হাত উচু করে আমার দিকে বড় বড় চোাখ করে বললো -চুপ আর একটা কথাও বলবা না।

আমি খুব কষ্ট পেলাম কিন্তু কিছু বলতে পারলাম না।

সারারাত আমার সাথে আর কোন কথা বলেনি। খাবার কিচেনে রেখে দেড় বছরের মেয়েকে বলছে চল আমারা ঘুমিয়ে পড়ি। আমি কিচেনে গিযে খাবার এনে খেয়ে শুয়ে পড়রাম। রাতে মেয়ে আমার কাছে আসলেই ও মেয়েকে বলে এদিকে আসো। এদিকে আসো। 

ওর ব্যবহারে খুব কষ্ট পেতে লাগলাম কিন্তু কিছু বললাম না। চুপচাপ দেখতে লাগলাম কি করে। 

সকালে আমি ঘুম থেকে উঠে দেখি। বারান্দায় মেজেতে  একটা প্লেটে ভাত আর একটা প্লেটে টমেটো সিদ্ধ । ভর্তা করে খেতে হবে। যাই হোক আমি চুপচাপ টমোটো ভর্তা করে খেতে শুরু করলাম। মেয়ে আমার কাছে এসে আব্বু আব্বু করছে আমি ওর মুখে ভাত দেবার চেষ্টা করছি। আর জান্নাত বার বার মেয়েকে আমার কাছ থেকে ঘরে নিয়ে যাচ্ছে। মেয়ে বার বার আমার কাছে আসছে আর জান্নাত বারবার নিয়ে যাচ্ছে।  এযেন জনম জনমের শত্রুর মতো ব্যাবহার । তারপর কিছু বলছি না। 

আমি মেঝেতে বসে খাচ্ছি । হঠাৎ দেখলাম একটা সিদ্ধ ডিম আমার প্লেটের পাশে পড়ে ছিটকে চলে গেলো সোপার পাশে। আমি মাথা উচু করে তাকিয়ে দেখি জান্নাত আমার থেকে ৩হাত দুরে দাড়ানো। 

আমি বললাম এটা কি হলো ? 

ও বলল কি করবো প্রেটে দিতে গিয়েছি , প্রেটে পড়েনি, ঐদিকে ছিটকে গেছে। 

আমার আর কিছু লেখার ভাষা নাই।

ধারাবাহিক-১


02.10.19



Receive a phone call at 11:30 pm and send 1500 rupees.


I said I don't have it yet, I will send it to Sakare tomorrow inshaAllah. Tonight you are talking about money, what to do with money.


He said you have to apologize. It will take a lot of money to pay.


Why don't I know what to do with the money?


People do not know how to make money.


Why are you talking like that?


You will find yourself answering the question.


I said look what you are doing is not doing well. Suddenly you started calling me nonsense and telling me to ask myself a question. You are an inhuman. I hung up the phone to keep it.


I haven't received a phone call for several days like this. I don't even call myself. Why should I do it. If you call me, you will talk nonsense and quarrel. Makes the head worse.


01.10.19

Twelve o'clock at night. I was cooking back from the office. Anwar's brother called about the work of the bank. We talked for about half an hour. At that time Uni also called. Naturally the phone is BG. Jannat called again after 1 am. Suddenly he started saying that he doesn't need to inquire about his wife and child, or have you found someone new? Did you need to get married?

What do you say? You know what time it will be to cook and eat this time and when to go to bed. As soon as I woke up, I looked at my watch and ran to the office without eating. Lunch is sometimes 3 o'clock, 4 o'clock or even 6 o'clock. And then if you keep burning like this. I'm going crazy. Who listens to whom.

He began to speak like himself again. And no one works, you just work alone.

When you have to listen to such words after so much suffering, there is no limit to the sorrow. It is forbidden to sleep a little at night by working hard all day. It's not the wife, it's the pain box.


03.10.19

It was about 12 o'clock when I reached home after finishing my office work. Jannat's phone as soon as he enters the house.

After receiving the phone at once - reached home, did you eat?

I just started to hmmm.

Without giving me a chance to speak, Jannat called him and hung up.

I realized that the devil was running in his mind. Now it will be a problem if I call. So I did not call.

Half an hour later he called again. He started talking at once. What was the need to get married? Don't feel the need to keep track of your wife and child. Etc. etc.

I said listen you know how much pressure I have in the office. Even then, I'm talking to you once or twice a day. Even after that if you say something like-

Jannat said what do you do now?

Eating

What are you eating

Panda rice last night. Now I am eating with kachajhal. Understand what I'm under pressure.

I don't know what Jannat understood - I won't talk to you anymore. Do what you want

I said what is your problem? What am I saying and what are you saying? The manner of speaking, the tone of speech cannot be good.

He started the old record - I'm not good, I don't like talking. I like to hear who.

I said listen, I'm angry. You speak the way I speak to you. And if you can't, put down the phone. And you go your way.

He has become a habit.

What do you mean? I do not understand the meaning of the habit?

Why didn't your brother get married, do you?

I said you need to be beaten for what you are using.

You are arrogant, you are extremely bad, you do not know how to respect the rabbis.

Listening to him, I became very angry - I said where did the rabbi come from again. And which mentor have I disrespected?

He said, "My parents told you to come. You didn't come."

How can I come if I don't get leave?

And no one's husband works anymore. Only you do.

I said - tell your father to cover you. I'm not on vacation. Bring your parents. They will travel to Dhaka. You too will come to Dhaka


My parents are responsible for the purchase?

Then I said - then I can not bring you. I don't like what you say. Put down the phone.

Jannat said, "You are torturing me mentally." You are torturing me. Now my need is not over. He said the words at once

After hearing this, my brain started to explode in anger. Even then I controlled myself and said look what kind of thing it is, I am not in love with you. I am your husband. I need to know how to end. And torture, torture, what do you say these?

He said ask yourself

I hung up without saying a word. I understood that this caste is not a caste of understanding.

Two minutes after I hung up, my father-in-law called and told me what happened to you.

I just saluted and said nothing happened to me. He hung up.

I couldn't sleep all night. Office in the morning. Who will understand me.

.........................................................................................................................................

 ০২.১০.১৯

রাত সাড়ে এগারোটা ফোন রিসিভ করেই বলর ১৫০০ টাকা পাঠাও। 

আমি বললাম এখনতো আমার কাছে নাই, দেখি কালকে সকারে ইনশাআল্লাহ পাঠাবো। এতরাতে টাকার কথা বলতেছো টাকা দিয়ে কি করবা। 

ও বলল কইফিয়াত দিতে হবে তোমাকে। টাকা দিবা তাতেও আবার কইফিয়াত লাগবে।

কেনো আমি কি জানতে পারিনা যে, টাকা দিয়ে তুমি কি করবা ?

টাকা কি করে মানুষ জানোনা।

তুমি এমনভাবে কথা বলছো কেনো তোমার কি হয়েছে। 

তুমি নিজেকে প্রশ্নকর উত্তর পেয়ে যাবে। 

আমি বললাম দেখো তুমি যা করছো ভালো করছো না। হঠাৎ ফোন করে তুমি আজেবাজে বলা শুরু করলা আমাকে বলছো নিজেকে প্রশ্ন করতে। তুমি একটা অমানুষ। রাখো বলে ফোন কেটে ‍দিলাম।

এভাবে বেশ কযেকদিন কাটলো আমি ফোন রিসিভও করিনা। নিজে থেকে ফোনও করিনা্। কেনো করবো।ফোন করলেই আজেবাজে কথা বলে ঝগড়া করবে। মাথাটা খারাপ করে দেয়। 

01.10.19

রাত বারোটা । অফিস থেকে ফিরে রান্না করছিলাম। ব্যাংকের কাজের ব্যাপারে আনোয়ার ভাই ফোন করলো। প্রায় আধঘন্টা কথা হলো। এমন সময় উনিও ফোন করলেন। স্বভাবতই ফোন বিজি। রাত ১ টার পরে জান্নাত আবার ফোন করলো। একদমে বলতে লাগলো বৌ-বাচ্চার খোজখবর নেওয়া লাগে না্,  নাকি নতুন কাউকে পেয়েছো্ ? বিয়ে করার কি দরকার ছিলো তোমার ?

এগুলা কি বলো তুমি ? তুমি জানো যে,  এই এখন রান্না করে খেতে খেতে ঘড়িতে কয়টা বাজবে আর কখন ঘুমাবো। ঘুম ভাঙ্গতেই ঘড়ির দিকে তাকিয়ে ,না খেয়ে অফিসের দিকে ছুটতে থাকি।  দুপুরের খাবার কখনো ৩টা, ৪টা এমনকি ৬টাও বেজে যায় মাঝে মাঝে। আর তারপর তুমি যদি এভাবে জ্বালাতে থাকো। আমি তো পাগল হয়ে যাচ্ছি। কে শোনে কার কথা। 

নিজের মতো অবার বলতে শুরু করলো। আর কেউ তো চাকরী বাকরি করেনা তুমি শুধু একাই চাকরি করো। 

এতো কষ্টের পরে যখন এমন কথা শুনতে হয় তখন দুঃখের আর সীমা থাকেনা। সারাদিন কষ্ট করে রাতে একটু ঘুমাবো সেই ঘুমটাও হারাম করে দেয়। এটা বউ না, যন্ত্রনার ডিব্বা।

03.10.19

অফিসের কাজ শেষ করে বাসায় পৌছাতে পৌছাতে প্রায় ১২টা। বাসায় ঢুকতেই জান্নাতের ফোন।

ফোন রিসিভ করেই একদমে -বাসায় পৌছেচো, খেয়েছো ? 

আমি শুধু হমমম করতে লাগলাম।

আমাকে কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়েই জান্নাত ওকে বলে ফোন কেটে দিলো। 

আমি বুঝতে পারলাম যে, ওর মনের মধ্যে শয়তার দৌড়াদৌড়ি করছ। এখন আমি ফোন করলেই ঝামেলা করবে। তাই আর ফোন করলাম না।

আধঘন্টা পরে আবার ফোন করলো। সেই একদমে বলা কথা বলতে শুরু করলো। বিয়ে করার কি দরকার ছিলো ? বৌ-বাচ্চার খোজ খবর রাখার দরকার মনে করো না। ইত্যাদি ইত্যাদি।

আমি বললাম শোনো তুমি কি জানো আমি অফিসে কতটা চাপে থাকি। তারপরও প্রতিদিন তোমার সাথে দু’একবার কথা হচ্ছে। এর পরও যদি তুমি এমন এমন কথা বলো-

জান্নাত বললো  এখন কি করো?

খাচ্ছি

কি খাচ্ছো

গতরাতের পানিদেয়া ভাত । এখন কাচাঝাল দিয়ে খাচ্ছি। বুঝতে পারো কি চাপে আছি।

জান্নাত কি বুঝলো জানিনা বলতে শুরু করলো-আমি তোমার সাথে আর কথা বলবো না। তোমার যা ইচ্ছা তাই করো।

আমি বললাম সমস্যা কি তোমার ? আমি কি বলছি আর তুমি কি বলছো ? কথা বলার ভঙ্গি, কথা বলার টোন ভালো করতে পারোনা।

শুরু করে দিলো পুরানো রেকড-আমি তো ভালো না, আমি কথা তো ভালো লাগবে না। কার কথা ভালো লাগে শুনি। 

আমি বললাম শোন আমার কিন্তু রাগ হচ্ছে। আমি তোমার সাথে যেভাবে কথা বলছি তুমিও সেইভাবে বলো। আর যদি না পারো তাহলে ফোন রাখো।আর তোমার পথে তুমি চলো।

ও অভ্যাস হয়ে গেছে।

মানে কি? অভ্যাস হয়ে গেছে মানে বুঝলাম না ? 

কেনো তোমার ভাই দুই বিয়ে করেছেনা , তুমিও তাই চাচ্ছো ?

আমি বললাম তুমি যে ব্যবহার করছো তাতে তোমাকে ঝাটা পেটা করা দরকার।বেয়াদপ।

তুমি বেয়াদপ, তুমি চরম খারাপ, তুমি মুরব্বিদের সম্মান দিতে জানোনা।

ওর কথা শুনে আমার প্রচন্ড রাগ হতে লাগলো- আমি বললাম আবার মুরব্বি আসলো কোথা থেকে । আর আমি কোন মুরব্বিকে অসম্মান করেছি? 

ও বলল- আমার আব্বা-মা তোমাকে আসতে বলেছে তুমি আসোনি।

আমি ছুটি না পেলে আসবো কি করে ?

আর কারো স্বামীতো আর চাকরী করে না। শুধু তুমি করো।

আমি বললাম -তোমার আব্বাকে বলো তোমাকে ঢাকয় দিয়ে যাক। আমি তো ছুটি পাচ্ছিনা। তোমার আব্বা-মাকে নিয়ে আসো্। ওনাদের ঢাকা বেড়ানো হবে। তোমারও ঢাকায় আসা হব্

কেনা আমার আব্বা-মা দায় ঠেকছে?

তখন আমি বললাম -তাহলে আমি ও পারবো না তোমাকে নিয়ে আসতে। তোমার কথা ভালো লাগছে না ফোন রাখো।

জান্নাত বললো-তুমি আমার উপর মানষিক নির্যাত করছো। আমার উপর অত্যাচার করতেছো। এখন আমার প্রয়োজন শেষ হয়ে গেছে তাই না। একদমে কথাগুলো বললো

ওর এই কথা শোনার পর রাগে আমার মগজ টগবগ করে ফুটতে লাগলো। তারপরও নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম দেখো এটা কোন ধরনের কথা, আমি তো তোমার সাথে প্রেম করছি না। আমি তোমার স্বামী । আমার কাছে প্রয়োজন কিভাবে শেষ হবে। আর অত্যাচার , নির্যাতন কি বলো এগুলো ?

ও বললো নিজেকে প্রশ্ন করো্ 

আমি কোন কথা না বাড়িয়ে ফোনটা কেটে দিলাম। বুঝলাম  এই জাত বুঝের জাত না। 

আমি ফোন কেটে দেয়ার ২ মিনিট পরে আমার শ্বশুর ফোন করে আমাকে বলে তোমার কি হয়েছে ?

আমি সালাম দিয়ে শুধু বলেছি আমার কিছু হয়নি । উনি ফোন কেটে দিলেন।

সারারাত আর ঘুম হলোনা। সকালে অফিস। আমাকে কে বুঝবে।

Wednesday, January 20, 2021

হারানোর গল্প-২

আমার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সব ঝড় তুফান ও স্ট্রিম রোলারের ধাক্কা সহে উঠে দাড়ানোর চেষ্ট করে যাচ্ছি নিরন্তর।

মনে পড়ে যায় বাচ্চুর সেই গান- হাসতে দেখো গাইতে দেখো, অনেক কথায় মুখর আমায় দেখো.......

শুধু আমি জানি কোথায় কি হচ্ছে।

প্রতিদিন অন্তত ৫ থেকে ৬ ঘন্টা ফোনে কথা হয় ওর সাথে।

Monday, January 18, 2021

হারানোর গল্প ১

 


আমি জীবনে যা আশা করেছি তার কিছুই পেলাম না। বুক বয়স্ক মহিলাদের মতো শুকিয়ে কিসমিম হয়ে গেছে। মনে হয় দুই সন্তানের জননী। আমি সেই কথাটাই বুঝতে চেষ্টা করলাম । 

আমি বললাম তোমার কি  কোন শারিরিক সমস্য আছে ? 

ও বলল না

আমি বললাম তাহলে এমন কেন?

কোন কোন জটিল রোগব্যধি হয়েছিলো নাকি?

ও বলল না তাও হয়নি।

আমার জীবনের সবস্বপ্ন  দঃখের আকাশে উড়ে গেলো নিমিশে। বুকের ভিতরটা দুমড়ে মুচড়ে যেতে চাইলো। মনে মনে ভাবতে লালাম কুমারীর বিন্দুমাত্র চিহ্ন নেই।নিজের অজান্তেই চোখদিয়ে পানি গড়িয়ে পড়তে লাগলো।তারপর নিজেকে শান্তনা দিলাম এটা ভেবে যে আমার কপালে যা নাই তা আমি কি করে পাবো। আমার কপালে এটাই আছে। তা না হলে আল্লাহ আমাকে এমন পরীক্ষা কেন নেবেন। আরো ভাবলাম যে,  অন্য কোন ছেলের সাথে যদি এই মেয়ের বিয়ে হতো তাহলে আজই এভাবে ফেলে চলে যেতো। মেয়েটির কপালে ঘোর অনামিশা নেমে আসতো তাই হয়েতো আল্লাহ আমাকে এখানে পাঠিয়েছে। ইত্যাদি ইত্যাদি ভেবে নিজেকে শান্তনা দিলাম।

ওর সমস্যার কথা ওকে সব খুরে বললাম। 

ও বলল আমি তো এমনই।

আমি বললাম তুমি কি তোমার পার্থক্যটা বোঝো না , নাকি না বোঝার ভান করো ঠিক বুঝতে পারছি না।আমি কোনভাবেই বোঝাতে পারলাম না যে, ওর শারিরিক সমস্যা।আমি বললাম তোমার ২০বছর বয়স তুমি অনেক মেয়ের সাথে মিশিছ যারা তোমার বান্ধবী।মেয়েদের ভীতর অনেক খোলামেলা কথা হয় । তাতেও তুমি বুঝতে পারনি যে তোমার শারিরিক কিছু সমস্যা আছে। 

যাইহোক, কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে আমি আমার নিজের কষ্ট নিজের বুকে চাপা দিয়ে। ঢাকায় ফিরে এলাম। দুই তিন দিন পর আমার শ্বশুর ফোন করে আমাকে বলে তুমি আর আমার মেয়েকে ফোন করবা না। তুমি ওকে অসতি বলেছো।তুমি  এতো কিছু জানো কি করে নিশ্চই তোমার সমস্যা আছে। আমি তাকে বোঝাতে চেষ্ট করলাম যে, আমি তাকে অসতি বলিনি আমি বলেছি, তোমার যে সমস্যা সেটা কখনো ওমনি ওমনি হয় না। এটা কেউ বিশ্বাস করবে না। কে কার কথা বিশ্বাস করে। শুরু হলো তুলকালাম কান্ড।

আমার শ্বশুর সবাইকে ডেকে বাড়িতে জড়ো করলেন। আমি দফায় দফায় একেক জনকে ফোন করতে লালগাম। আর একেক জন আমাকে একেক ভাবে ভয়ভীত দিতে লাগলো। আমার বাবা মাকে ও ডাকা হলো।

আমি শুধু বলেছিলাম আপনারা যখন সব জেনেছেন তখন বাইরে  জানাজানি না করে আগে নিজেরা যাচাই করেন । আমি যদি ভূল বলে থাকি তবে আপনারা যে শাস্তি দিবেন আমি তাই মানবো।

কোন কথায় কাজ হচ্ছে না। আমার নানী শাশুড়ী বললো ডাক্তার ডাকা হয়েছে চেক করা হচেছ । আমার সাথে আমার বউকে একটিবার ও কথা বলতে দেয়া হচ্ছে না। তারা তাদের মতে আমার বউকে চালাচ্ছে। 

সবশেষে আমার শ্বশুর শাশুড়ি বলল এই সমস্যা কি করে হলো আমরা বুঝতে পারছি না। আমাদের সংসার জীবনে এমন সমস্যা কারো হয় তা জানতাম না।

আমার নানী শাশুড়ি বলল আমার ৪০ বছরের সংসার জীবনে কোনদিন এমন সমস্যার কথা শুনিনি।

আমি শুধু বলেছেলাম যে, আমি যদি মেয়ে হতাম আর এই সমস্যা যদি আমার হতো তাহলে আমার কোন কথা আপনারা শুনতেন না । ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতেন। আমি তো আপনাদের কথা শুনছি সবসমস্যা মেনেনিয়েছি। 

পরে শুনেছি আমার বউ বলেছে কোন ডাক্তার ডাকা হয়নি। এটা মিথ্যা কথা ছিল। ফোন কেড়ে নিয়ে গেছে আমার সাথে কথা বলতে দেয়া হয়নি। 

দুই দিন পর আমি আমার বিয়ে করা বউযের সাথে কথা বলেছি। এই দুই দিন আমাকে সবাই মিলে প্রচন্ড মানষিক যন্ত্রনায় রেখেছিলো।এটা আমার পাওনা বা কাম্য ছিলো না।

Tuesday, December 15, 2020

 ১৮ নভেম্বর ২০২০ খুলনায় গেলাম। ভেবেছিলাম জান্নাতকে আর ঢাকায় আনবো না। ওর বাপের বাড়ি রেখে আসবো্ কিন্তু ওর নানী , মা এবং বাপের কথায় আবার নিয়ে আসলাম। তারা প্রমিজ করলো তাদের মেয়ে আর এমন বেয়াদবি করবে না।তাদের মানসম্মান রাখতে আমি পুনরায় জান্নাতকে ঢাকায় নিয়ে আসলাম। কিন্তু  একটি প্রবাদ আছে ককুরের লেজ কখনো সোজা হয় না। 

ঢাকায় আসার পর বেশ কিছুদিন ভালো ছিলো ।খুলনা থেকে জান্নাতের বাপ নানীর সামনে কথা দিয়েছিলো ফেসবুক আর ব্যবহার করবে না। কিন্তু ঢাকায় এসে সে কথা রাখেনি। আমি এই বিষয় আর কিছুই বলিনি। কি আর বলবো যে মেয়ে তার নিজের পরিবারের , জন্মদাতা বাপের মান রাখতে পারে না তাকে বেশি কিছু বলে হবে।

যাইহোক এভাবে দিন কাটছে। ১২ ডিসেম্বর জান্নাত তার পূর্বের রুপে ফিরে গেলো।সেদিন আমার শরীরটা বেশি ভালো না, প্রচুর ঠান্ডা, এক সপ্তাহ যাতৎ সূর্য  দেখা যায় না।সেদির জান্নাত দাবি করলো তাকে একটু আদর করতে হবে। আমি বললাম আজকে একটু কষ্ট করো কালকে তোমার সব আশা পূর্ন  করবো। হঠাৎ আমাকে বলছে , আমি শুধু আমার মেয়েটার জন্য এখানে আছি। তুমি আমার ক্ষমা পাওযার যোগ্য না। ইত্যাদি ইত্যাদি যানা তাই বলতে লাগলো। আর একটি কথা না বললেই নয় যে, আমি জান্নাতকে বেশি কিছু বলল তার ফল নেমে আসে আমার নিস্পাপ শিশুটির উপর। তাই অনেক কিছু মুখ বুজে সহ্য করার পরেরও ওর মন ভরে না। 

আমি তো আকাশ থেকে পড়লাম যারে বাবা, আমি আবার কি অন্যায় করলাম। যা কিছু করার সব জান্নাত নিজে করলো পরের কথায় আমাকে সন্দেহ করে ঘরের মান সম্মান রাস্তায় বিলিয়ে দিলো। ঘরের মূল্যবানি জিনিসপত্র ভেঙ্গেচুরে নষ্ট করলো। খুলনা থেকে ওর বাপ মা নানী আমাকে বুঝিয়ে সুজিয়ে ওকে ঢাকায় পাঠালো যে তাদের মেয়ে আর অশান্তি করবে না।তার  এই রুপ।

প্রতিটি দিন একটি না একটি বিষয় নিয়ে অশান্তি করবেই। রাতে বাসায় ফিরে যদি কম্পিউটার নিয়ে বসে নাটক দেখি তাতেও সমস্যা। যদি খাওয়া দাওয়া করে শুয়ে পড়ি তাতেও সমস্যা।আমার আর বাসায় ফিরতে ইচ্ছা করেনা। কিন্তু মেয়েটার মুখের দিকে তাকালে কলিজাটা ফেটে যায়। আমার দেখা সবচেয়ে হাসিখুশি শিশু হলো আমার মেয়ে। ক্ষুধা না লাগলে একটুও বিরক্ত করবে না্। ওর হাসি দেখলে আমি আত্মহারা হয়ে যাই। আর সেই মেয়ে দুধ খেতে চাইলেও বকা শুনে মার খায় (বয়স দেড় বছর) । 

Tuesday, November 3, 2020

2 nov.2020

 2 nov.2020


২৮ অক্টোবেরের পর থেকে আমি আর জান্নাতের সাথে কোন কথাই বলি নাই। সকালে না খেয়ে বাসা থেকে  না খেয়ে বের হয়ে আসি। দুপুরেও খেতে যাইনা। রাতে রাসায় গিয়ে রান্না করে খাই, আমি বাসায় গেলেই অনজুমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। আনজুমাকে আদর করতে করতে ভাত হয়ে যায়। 

জান্নাত কোন কারন ছাড়াই অনজুমাকে যাতা বলে বকা বকি করে। যেমন গলাটিপে মেরে ফেরবো, জবাই করে দিবো, ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি কোন কথার উত্তর দেই না।জান্নাত যা খুশি তাই বলে যাচ্ছে। উত্তর দিতে গেলেই তো কথা বাড়বে তাই চুপ করে থাকি। রাগ হলেও কিছু বলিনা।

অনজুমার দিকে তাকালে খুব কষ্ট লাগে। 

কিন্তু কি বলবো, মানুষ হলেতো কথা শুনতো , বুঝতো। 

অনজুমা মেয়েটা অনেক শুকিয়ে গেছে। ঠিক মতো খেতে পায় না। খাবারের অভাব নাই। ঘরে মিষ্টি, সন্দেশ, বিভিন্ন ফল, বিস্কুট, কেক থাকে। কিন্তু খাওয়াবে কে ? একবার দুবার চেষ্টা করে খাওয়ানোর জন্য না খেলে আর চেষ্টা নাই। ক্ষুধায় কান্না করলেই শুরু হয় শুরু হয় মারধর এবং গালিগালাজ। দেড় বছরের বাচ্চা কিছুই বলতে পারে না।

মেযের মা সারাদিন ফেসবুক আর ঘুম। ঘন্টায় ঘন্টায় মেয়েকে ঘুম পড়ানো জন্য যাতা বলা হয়। ঘুম থেকে উঠেছে ঘন্টা পার হয়নি । আবার মেয়েকে বকাবকি শুরু ঘুমা না হলে, বেলকনি থেকে ফেলে দিবো, জবাই করে ফেলবো, গলাটিপে মেরে ফেলবো ইত্যাদি।

গত ২ অক্টোবর রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে জান্নাত হঠাৎ গালিগালাজ শুরু করে দিলো। যেমন তুই কোনদিন সুখি হতে  পারবি না, আমারে নির্যাতন করতেছিস,আরো কতো কি যা বলার ভাষা নাই।আমি কোন কথার উত্তর দিলাম না। ঘন্টখানেক চুপ থেকে যখন দেখলাম আর সহ্য হচ্ছে না তখন বিছানা ছেড়ে উঠে, জামা প্যান্ট পরে যখন বেরিয়ে যেতে চাইলাম তখন  জান্নাত উঠে এসে আমাকে থামাতে চেষ্টা করলো। এবং বললো, মেয়ের জন্য হলেও যেওনা ঘরে থাকো। তবুও আমি কোন কথার উত্তর দিলাম না। আবার ড্রেস পরিবর্তন করে শুযে পড়লাম।

৩০.০৪.২৬

ভেবেছিলাম ২৫ সালের পর আর কিছু লিখবো না কিন্তু পারলাম না।  আজ সকালে খুব বৃষ্টি হচ্ছিলো। মেয়ের পরীক্ষা তাই তাকে স্কুলে নিয়ে যেতে হবে। প্রচন্ড ...