Tuesday, December 21, 2021

মরে যেতে ইচ্ছা করে প্রতিটি মূহূর্তে


 বাচার কোন ইচ্ছা বা স্বাদ নাই। যতটুকু ছিলো তাও শেষ হয়ে  গেছে আব্ব মারা যাবার পরে। কারন, ভাবতাম আমার যদি কিছু হয়ে যায় তাহলে হয়তো অসুস্থ আব্বাকে আর বাচানো যাবে না। তারপর আবার আত্মহত্যা মহাপাপ।সর্বপরি সকলের উদ্ধে আমার মেয়ের মুখটা জ্বলে ভেজা চোখের সামনে ভাসে। 

কিন্তু বউ নামক এই  মানুষটার অত্যাচার আর সহ্য  হচ্ছে না। 

১৫.১২.২০২১ দিনগত রাত। তখন ঘড়ির কাটায় ৩টা বাজে। সবাই ঘুমিয়ে, আমার মতো কিছু হতভাগা ও নির্যাতিত পুরুষ ছাড়া। এদের জন্য সকাল থেকে রাত অবধি খেয়ে না খেয়ে মানুষের বকাঝকা শুনে। চুপটি মেরে থাকি শুধু মাত্র এই এর মুখে হাসি ফুটানোর জন্য।অথচ এর তা বুঝতেই চায় না। জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে একে সুখে রাখার চেষ্টা করি।

আর এই কিনা আমার রাতের ঘুমটাও , ‍ঘুমাতে দেয় না। নিজেদের কি মনে করে এক আল্লাহ ভালো জানে।

প্রতিদিনের মতো সুন্দর ভাবে রাতের খাওয়া শেষ করে মেয়েকে কোলে নিয়ে ঘুমাতে গেলাম। ঘুম ভাঙ্গলো জান্নাতের গলা শুনে। মেয়েকে বকছে তোর জ্বালায় একটু ঘুমাতেও পারবো না ? তোকে পেটে ধরে আমার সুখ শান্তি সব শেষ হয়ে গেছে। একটা বাড়া পেটে ধরছি, জীবনটাই শেষ হয়ে গেছে। নরক যন্ত্রনা ভোগ করছি ইত্যাদি ইত্যাদি ।

আমি শোয়া থেকে পাশ ফিরে আস্তে করে বললাম -মাঝরাতে কি শুরু করলা তুমি।অবলা নিশ্পাপ বাচ্চাটাকে সব সময় এমন আজে বাজে কথা বলো, কি সমস্যা তোমার ? এটা কি কোন মানুষের ব্যবহার ?

জান্নাত খেকিয়ে উঠলো আমার উপর-তোমার কি সমস্যা ?

এতোরাতে মানসম্মানের ভয়ে চুপচাপ থাকলাম। ভীতরটা দাউ দাউ করে জ্বলছে, চোখ বেয়ে পানি পড়ছে।  এসব কি একদিন , দুদিন পর পর। কোন সিদ্ধান্ত নিতে গেলেই মেয়ের মুখটা চোখের সামনে ভেসে আসে। ওরাও এই দুর্বলতা কাজে লাগিয়েই যা না তাই করে। মানুষকে মানুষ হিসাবে মনে করেনা। এগুলো পরিবারের কু-শিক্ষা। যা সমাজ পরিবার ভেঙ্গে তছনছ করে দিচ্ছে। মানুষকে প্রতিনিয়ত মরন যন্ত্রনায় পতিত করছে। 

আমার শুধু মেয়েটাকে নিয়ে ভয় হয়। সারাক্ষন মেয়েটাকে যেভাবে বিশ্রি ভাষায় কথা বলে কোন , শালীন , ভদ্র পরিবারের মা, তার সন্তানের সাথে এমন ব্যবহার করে কিনা আমার জানা নাই।

কথায় আছে বোবার শত্রু নাই। কিন্তু এক্ষেত্রে পুরোটাই উল্টো। চুপ থাকলেও নিস্তার নাই। প্রতিনিয়ত এমন পরীক্ষায় পতিত হচ্ছি যে, কতোক্ষন উত্তর না দিয়ে থাকবা। কখন যেন মুখ ফসকে কি বের হয়ে যাবে, শুরু হবে ঝগড়া তাই আস্তে  করে বিছানা ছেড়ে বারান্দায় গিয়ে বসলাম। যদিও শীতের রাত , শীতের কষ্ট ও মশার কামড় উপলব্ধি হচ্ছে না। শুধু আল্লাহকে বলছি আল্লাহ আমার বাচ্চাটাকে তুমি রক্ষা করো, হেফাজত করো। আর ওর মাকে হেদায়েত দান করো। 

ওর এই অত্যাচারে আমি কয়েকবার অত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছি। সেটা কি ও ভূলে গেছে,  নাকি আমার মৃত্যূই ওর কাম্য। তা না হলে দুদিন একদিন পর পর কেন এমন করবে। 

মেয়েটা জোরে চিতকার করে কেদে উঠলো। আমার ভীতরটা কেমন যেন হয়ে গেলো। দৌড়ে ঘরে গেলাম, ভাবলাম মেয়েটার গলা টিপে ধরলো কিনা। ওর পক্ষে কোন কিছুই অসম্ভব নয়। মানুষ হলে তো অশান্তিই করতো না। আমি দেখলাম মেয়ে শুয়ে কাদছে আর ও পাশে বসা। মশারি উচিযে আমি মেয়েটাকে কোলে তুলে নিলাম। এই পর্যন্ত আমি সব শুনে যাচ্ছি কোন কথার উত্তর দিচ্ছি না। আমি মেয়েকে কোলে করে আমার কাধে মেয়ের মাথা রেখে ঘুম পড়ানোর চেষ্টা করছি আর বলছি , আম্মু কি হয়েছে কাদছো কেন ? ভয় পেয়েছো ? কোন ভয় নাই  ইত্যাদি ইত্যাদি ।

ওদিকে জান্নাত আমার আশপাশ দিয়ে ঘুরছে আর বিড়বিড় করে গালিগালাজ করছে যা , আমি পরিস্কার শুনতে পাচ্ছি। 

আমার সহ্য হলোনা। আমার ডান কাধে মেয়ে। তাই বাম হাত দিয়ে মারলাম কয়েকটা থাপ্পড়। থাপ্পড় খেয়ে খাটের উপর পড়ে গিয়ে বলে আমায় আর মারিশ না, আমায় মাফ করে দে, আর এমন করবো না। আমায় মাফ করে দে এমন ভাষা যাখন ছাড়লো তখন আরো দটো মারলাম। তখন আমার মনে হলো কতোটা দুষিত রক্তের  জন্ম হলে এমন ভাষা ব্যবহার করে এবং প্রতিনিয়ত কোন কারন ছাড়াই সংসারে অশান্তি করে। 

পরক্ষনেই দেখি জান্নাতের ঠোটে কিঞ্চৎ রক্ত। বুঝলাম দাতের সাথে লেগে ঠোট কেটে গেছে। খুব খারাপ লাগলো। জান্নাতকে কাছে টেনে বললাম-সরি। তুমি যা শুরু করেছিলে আমি নিজেকে সামলাতে পারিনি। 
 

Monday, December 13, 2021

কি বলবো, কি করবো ?

 

২৮.১১.২১ তারিখি আমার বস সন্ধ্যা ৭ থেকে সাড়ে ৭ টার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন আমি অফিসে। বস আমাকে ফোন করে বললো। জাহিদী আমি খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছি। আমার ভালো লাগছে না। জলদি করে আমাকে কোন হাসপাতালে নাও।

আমি তখন অফিসে বন্ধ করে ছুটে গেলাম বসের বাসায়। ড্রাইভারকে ফোন দিচ্ছি তিনি ফোন রিসিভ করছে না। তিনি বিকালেই বসের কাছ থেকে ছুটি নিয়ে বাসায় চলে গেছে। ড্রাইভারের বাসা অনেক দুর আশুলিয়া। 

আমি বসের বাসার সামনে যেতে যেতে বসের বড় ছেলেও আমাকে ফোন  করে বললো । আংকেল আব্বার শরীর খুব খারাপ । যত শিঘ্র পারেন একটি গাড়ির ব্যবস্থা করেন। আমাদের ড্রাইভার ফোন রিসিভ করছে না। যে যেমন পরিচিত আছে সবাইকে ফোন কারতে লাগলাম। 

হাসপাতালের একটা এম্বুলেন্স ব্যবস্থা হলো। এম্বুলেন্স আসলো তাকে হাসপাতালে নেয়া হলো। তখন প্রায ৯ টা বাজে। আমি আমার বাসায় ফোন করে বললাম , বস হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছে তাকে নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছি । আমার আসতে হয়তো একটু দেরি হতে পারে। 

জান্নাতের উত্তর এলো- যা খুশি তাই করে বেড়াও তুমি, বাসায় আসতে হবে না।

আমি কোন উত্তর না দিয়ে ফোন কেটে দিলাম। আর মনে মনে ভাবতে লাগলাম এটা কোন মানুষের ভাষা হতে পারেনা। আমি অফিসের কাজ ছাড়া একটা  মিনিটও বাইরে থাকি না। সেটা জান্নাত জানে তার পরও কেন  এমন ব্যবহার করলো খুব কষ্ট লাগলো। 

তারপর আবার বসের বাসা থেকে যখন কোন খাবার পাঠায়,  ওর জন্য জামা কাপড় কিনে পাঠায় তখন খুশিতে গদগদ হয়ে পড়ে । তাদের মতো ভালো মানুষ হয় কতো প্রশংসা। এইতো  এই মাসের প্রথম দিকের কথা। কক্সবাজার থেকে কতো কি এনে দিলো । অথচ তাদের অসুস্থ তার কথা শুনে যেখানে খারাপ লাগার কথা সেখানে উল্টো আমার সাথে খারাপ ব্যবহার।

আমি রাত ১২ টার দিকে আমার বাসায় ফিরলাম। আমার সাথে যে ব্যবহার করলো তা , লেখার কোন ভাষা আমার জানা নাই। আমি সকালে ভোর ৬ টার দিকে উঠে আবার হাসপাতালে বসের কাছে চলে গেলাম। কারন আমাকে বলে দেয়া হয়েছিলো যে, রাতে যে থাকছে সে সকালে চলে যাবে। আমি যেন ভোরে হাসপাতালে চলে আসি। 

বস ৩০.১১.২১ তারিখে হাসপাতাল থেকে রিলিজ নেন। এই তিন দিন প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ৯টা, ১০ টা , ১১টা পর্যন্ত আমার হাসপাতালে থাকতে হয়েছে। এই তিনদিন জান্নাত আমার সাথে যে ব্যবহার করেছে তা হয়তো আমি কোনদিন ভূলবো না।

এছাড়া আমার আব্বা মারা যান ১২.১১.২১ তারিখ আমি ঐদিনই বাড়িতে রওনা করি। ১৭ তারিখ ঢাকায় ফিরে আসি। অনেক ব্যক্তিগত বিষয় আছে যা লিখতে লজ্জা লাগে কিন্তু । সহ্য করাও কিঠিন হয়ে যায়। স্বাভাবিক সবাই বুঝতে পারে তখন আমার মনের মনের অবস্থা কেমন ?

অথচ ১৮ তারিখ জান্নাত রাতে আমাকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। আমি বলি এখন ওসব আমার ভালো লাগছে না। আমাকে একটু বিশ্রাম নিতে দাও। আর শুরু হয়ে গেলো । তুমি আমাকে একটু সুখ দিতে পারোনা। এক সপ্তাহ হয়ে গেছে কাছে আসোনা। আমাকে খুশি কারার যোগ্যতা তোমার নাই। ইত্যাদি। ওর এই মিথ্যা অপবাদগুলো আমাকে খুব যন্ত্রনা দেয়। কারন আমি জানি যখন ওর কাছে যাই তখন ও কি করে। পরক্ষনেই এক দিন পর এমন বাজে কথা বলতে থাকে। এটা নিত্য নৈমিত্তিক । প্রতি সপ্তাহে দু একবার এমন ভাষা আমার শুনতে হয়। এজন্য আমি ওকে কয়েক বার মারধর করেছি তারপরও মুখের কুরুচিপূর্ন ও অশ্লিল ভাষা বন্ধ হয়ে না। 

যেমন ১০.১২.২১ তারিখ ওর কাছে গেলাম। তারপর দুদিন খুব খুশি। আহ্বাদে গদগদ। ১৩ তারিখ রাতে আমি পেটের গ্যাসের কারনে রাতে ঘুমাতে পারছি না। খুব খারাপ লাগছে।একবার কাত হচ্ছি, একবার চিতহয়ে শুচ্ছি, আবার উঠে বসছি। 

গত একদিন ধরে দেখছি জান্নাত একা একা ভদভদ করে বেড়ায়, আমার কিছু ভালো লাগছে না। আমি অভিশপ্ত জীবন পেয়েছি, আমার দিকে কারো কোন খেয়ালই নাই। সারাদিন গরুর মতো একা একা খাটতে খাটেতে জীবন শেষ হয়ে গেলো। ইত্যাদি ইত্যাদি। এগুলো ওর নিত্য দিনের কথা।একদিন ভালো তো পরের দিন এমন আজে বাজে বকবে। আমার এক রুমের বাসা, একটা দুই বছরের বাচ্চা। আমার জামা কাপড় বেশির ভাগই আমি ধুযে থাকি। মাঝে মাঝে ও ধুয়ে দেয় যেদিন মন ভালো থাকে। কিন্তু সপ্তাহে দুইদিনের বেশি ওর মন ভালো থাকে না।আমি এমন খুব কম দেখেছি। শুধু ওর নিজের জামা কাপড়, মেয়ের কাপড় ধোয়া ও রান্না করা। আর দিনে একবার ঘড় ঝাড়ু দেয়। আর সবচেয়ে বড় কাজ হচ্ছে ফেসবুক নিয়ে পড়ে থাকা, আর ইউটিউবে সুলতান সুলেমান দেখা। আমি বাসায় গিয়েও দেখি ঔ সুলতান সুলেমান নিয়েই পড়ে আছে। আমি কিছু বলিনা, শুধু দেখি আর নিরব থাকি । কখনো কখনো রাতের আধারে শুধু চোখের জল মুছি। কি করবো পুরুষ মানুষ দিনের আলোয় , বা কারো সামেনে, কেদে মনটা হালকা করতে পারিনা।

তাই আমার যতই খারাপ লাগুক আমি কোন উত্তর না দিয়ে। চুপচাপ পড়ে থাকি না শোনার ভান করে। 

গত রাতে ১২ তারিখ রাতেও সেই একই ভান ধরলো, আমার শরীর জ্বলে যাচ্ছে, মেযেকে বলছে রাতে তোকে জানালা দিয়ে ফেলে দিতে মন চাচেছ। তখন আমি বললাম কি অবস্থা তোমার এগুলো কি ? এমন ব্যবহার করছো কেন মেয়ের সাথে ?

জান্নাত বললো- তোমার মতো অযোগ্য অপারগ পুরুষ মানুষের সাথে আমার কোন কথাই বলতে ইচ্ছা হচ্ছে না। তোমার ঘর করতে ইচ্ছা করছে না। আগে পরে ওর সাথে আমার কোন রকম তর্কবিতর্ক কিছুই হয়নি। আমাদের সাথে কোন রকম মনমালিন্যও হয়নি। কোনরুপ কোন কারন ছাড়াই এমন জগন্য জগন্য ভাষা আমার সহ্য হয়নি তাই দুচারটে চর থাপ্পর মেরে ওকে ঠান্ডা করলাম।

পরের দিন থেকে আমি নিজেই ওর সাথে ভালো মন্দ কথা বললাম, একটু আদর করার চেষ্টা করলাম, রাগ ভাভ্গানোর চেষ্টা করলাম। 

১৩ তারিখ আমি অফিসের কাজে ঢাকা থেকে সকালে ভোর ৬ টার দিকে কিশোরগঞ্জ রওনা করলাম ।  দিনে দিনে ফিরে আসতে হবে তাই খুব সকালেই রওনা করলাম। জান্নাত ঘুমিয়েই ছিলো । আমি ওকে দরজা লাগাতে বলে বেরিয়ে এলাম।

বিকালে ৫টার দিকে আমি জান্নাতকে ফোন করে বললাম আমি রওনা করেছি। রাস্তায় একটু জ্যাম আছে ঢাকায় ফিরতে ফিরতে হয়তো রাত ৯ টা বাজবে। 

জান্নাত বললো তুমি আর বাড়ি আসবানা। আমি দরজা খুলবো না। সত্যি করে বলছি আমাকে তো চেনো না। গাড়িতে আমার সাথে আরো মানুষ ছিলো তাই আমি ওর কথাগুলো হেসেই উড়িয়ে দিলাম। কিন্তু মনের দিকে থেকে ওর এই ব্যবহার কোনভাবেই আশা করিনি।

রাত সাড়ে ৯টায় বাসায় ফিরলাম। সেই পূর্বের মতোই ভদ ভদ করে বেড়াচ্ছে ঘর জুড়ে। আমি ওকে বিভিন্ন ভাবে যেখানে যেখানে গেছিলাম সেখানের গল্প বলে মন ভালো করানোর চেষ্টা করছি। উল্টো আমর উপর রেগে গেলো আমি কেন ওকে নিয়ে গেলাম না। 

আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম  এটা কোন ধরনের কথা । অফিসের কাজে গিয়েছি, অফিসের পিয়নসহ আরো একজন লোক সাথে ছিলো। 

আমি ওর সাথে আর একটিও কথা বললাম না। কোন মতে কিছু মুখে দিয়ে মেয়েকে কোলের মধ্যে নিয়ে বাতি নিভিয়ে শুয়ে পড়লাম। নিজের অজান্তেই চোখ দুটো জ্বলে ছলছল করতে লাগলো। 

আরেকটা বদঅভ্যাস আছে যেটা না বলেলেই না , আমি যখন খুব জরুরী কোন কাজে আটকে যাই। অথবা জরুরী কোন মিটিংয়ে যাই, কোন প্রোগ্রামে যাই তখন বার বার ফোন দিতে থাকে আর বলতে থাকে আমার খুব খারাপ লাগছে। মাথা ঘুরাচ্ছে, আমি উঠে বসতে পারছি না, মেয়েও যেন কেমন কেমন করছে ইত্যাদি ইত্যাদি। 

মনে পড়ে যায় সেই গানটার কথা - এ পৃথিবীর কেউ ভালো তো বাসেনা, 

                                                 এ পৃথিবী ভালো বাসিতে জানেনা।



Friday, October 22, 2021

23.10.2021



 গত ২১.১০.২০২১ তারিখ বৃহস্পতিবার জান্নাতকে টিকা দিতে নিয়ে যাই মিরপুর। টিকা দেয়া শেষ করে গিয়াস উদ্দিন ভাইয়ের টালিকো রেষ্টুরেন্টে লাঞ্চ করি। উত্তরায় ফিরতে ফিরতে ৪ টা বেজে যায়। উত্তরায় ফিরে একটু সময় অফিসে রেষ্ট নিযে এপেক্স থেকে ১৭৯০ টাকা দিয়ে জান্নাতকে একটি জুতা কিনে দেই। জুতাটি জান্নাত নিজে পছন্দ করে কিনেছে।

শুক্রবার ২২.১০.২১ সারাদিন বাসায় ছিলাম। সন্ধ্যায় বের হয়েছিলাম জান্নাতের জন্য ওষূধ কেনার জন্য।সাথে দুটো জামা নিয়ে বের হই । জামাদুটো চাপাতে হবে। এমন সময় মিলন ভাই ফোন করে। মিলন ভাই জরুরী তলব করে আমাকে। সাথে কপি ছবি নিতে বলে । তাই অফিসে গিয়ে এক কপি ছবি নিয়ে মিলন ভাইয়ের সাথে দেখা করি। মিলন ভাই একটা ফর্ম দেয় সেটা পুরন করে ছবিটা এটাচ করে দিই। ফর্মটি ছিলো উত্তরা ১নং আওযামীলীগের সদস্য ফর্ম। বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত সাড়ে নয়টা বেজে যায়। রাতটা খুব ভালোভাবেই কাটে। রাতে জান্নাত খেয়ে দেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। আমি অনেকক্ষন  জেগে ছিলাম ঘুম আসছিলো না। 

সকালে ঘুম ভাঙ্গে জান্নাতের মোবাইলে নাটক দেখার শব্দে। তখনও চোখে ঘুম। জান্নাত বললো -এই খানে দরজাল প্রথম দুনিয়ায় এসে কি করবে ? কি বলবে জানো ?

আমি শুয়ে শুয়ে চোখ বন্ধ অবস্থায় বললাম- হমমম উনি প্রথম এসে তোমাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলবে, তারপর বলবে একটা মজার নাটক চালাও দেখি। তোমার সাথে বসে নাটক দেখবে।

জান্নাত -আমার কথার কোন উত্তর দিলো না। মনে হয় নাটক দেখায় মনোযোগ দিয়েছে।

কিছুক্ষনপর অনুভব করলাম জান্নাত আমার গায়ের উপর শুয়ে পড়েছে। তখন বাজে সকাল নয়টা। জান্নাত বললো আমি রাতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম এখন আমাকে কিছু দিতে হবে। জান্নাতের কথা শুনে আমি ঘড়ির দিকে তাকালাম। দেখি নয়টা ১০ বাজে। আমি বললাম ছাড়ো অফিসে যাবার সময় হয়ে গেছে। আর পাশে মেয়ে শুয়ে আছে ওর ঘুম ভাঙ্গার সময় হয়ে গেছে।

জান্নাত- ও আমি একটু কাছে এলাম আর অফিসে যাওয়ার সময় হয়ে গেলো। 

আমি বললাম এটা তুমি আমাকে জিজ্ঞাসা ন করে ঘড়ির দিকে তাকাও। 

রাগান্বিত কন্ঠে চিৎকারের সাথে জান্নাতের কথা গুলো ছিলো এমন - তোমার কোন অনুভূতি নাই, তুমি হিজড়া হয়ে গেছো , তুমি অপারগ পুরুষ। আমাকে এক বিন্দু সুখ দিতে পারোনা। 

আমি বললাম সকাল বেলা তুমি কি শুরু করলা। এটা কোন কথা।

জান্নাত বললো যাও তুমি , তোমার সাথে কথা বলতেও আমার ঘৃনা হচেছ। আরো অনেক কথা যা প্রকাশ করা বা লেখা সম্ভব না।

জান্নাতের কথাগুলো শুনে আমার এতো পরিমান রাগ হচ্ছিলো যে, খুব তাড়াতাড়ি আমি ঘর থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু জান্নাতের মুখ থাকছে না। একপর্যায়ে আর সহ্য করতে না পেরে আমি জান্নাতকে দু চারটে চড় থাপ্পর মেরে না খেয়ে ঘর থেকে বের হয়ে আসি।


Tuesday, October 19, 2021

আনজুমা-২


 আজ সকালে ঘুম ভাঙ্গলো জান্নাতের মোবাইলে দেখা নাটকের শব্দে। আমি ঘুম ভাঙ্গতেই আনজুমাকে বললাম পাখিটা ওঠো সকাল হয়ে গেছে। আনজুমা খুব তড়িঘড়ি করে  পাশ ফিরে উঠে বসে আমার কপালে গালে হাত বুলিয়ে চুমু খেয়ে বলছে ওঠো পাখি ওঠো। আমার প্রান জুড়িয়ে গেলো। মেযের এমন আচরনে। উঠে দেখি টেবিলে প্লেটে ভাত তরকারী দিয়ে রাখা আছে। আমি দাত ব্রাশ করলাম । মেয়েকে ও ব্রাশ দিলাম। আনজুমা টুটপেষ্ট খেয়ে ফেলে, তাই বেবি পেষ্ট ব্রাশে মাখিয়ে দিয়ে যতটুকু ব্রাশ করানো যায়। এটা  দাত ব্রাশ করানোর অভ্যাস তৈরির চেষ্টা । অবশ্যই অভ্যাসটা তৈরিও হচেছ। খাওয়া দাওযা সেরে,  দুটো পানির পট নিয়ে আমি অফিসে রওনা করলাম। 
 লাঞ্চ করার জন্য বাসায় গেলাম। গোসল করে নামাজ পড়ে দুপুরের খাওয়া শেষ করতে না করতে জান্নাত বললো আমার খুব ঘুম পাচ্ছে। এখন ঘুমাবো।

আমি কোন কথা বললাম না চুপচাপ খেয়ে মেয়েকে নিয়ে খেলা করতে লাগলাম ।কারন আমার ঘুম আসছে কিন্তু মেয়ের ঘুম আসছে না । তাই আমি ঘুমিয়ে গেলে ও কি করবে। এমন সময় আমার মোবাইরে নটিফিকেশন আওয়াজ হলো। জান্নাত পাশ ফিরেই বললো -মানুষকে তিলে তিলে মারায় তুমি ওস্তাদ। এক তিল শান্তি নাই সংসারে। আর এই একটা বেজাত জন্মাইছে। ওর জন্যও কোন শান্তি নাই। 
আমি কোন উত্তর না দিয়ে । আসরের নামাজের জন্য তৈরি হলাম। নামাজ শেষ করে আবার অফিসে রওনা করলাম।

আমার মেয়ে -১

 আমার মেয়ের মতো মেয়ে কোটিতে হয় কিনা সন্দেহ। আমার মেয়ে বলে বলছি না। আমার বয়সে অনেক বাচ্চা আমি দেখেছি। আত্ময় স্বজনের মধ্যে , বন্ধু বান্ধবের মধ্যে। কিন্ত আমার মেয়ের মতো এতো শান্ত শিষ্ট বাচ্চা আমি দেখিনি। ওর ক্ষুধা না পেলে ও কাদে না। তাও আবার খুব বেশি ক্ষুধা পেলে কাদে । সারাদিন একা একা খেলা করবে। নিজের মতো নিজে খেলানা নিয়ে মনের আনন্দে হইচই করতে থাকবে। উচ্চস্বরে নিজের ভাষায় কিযে গাইতে থাকে তার মাথা মুন্ডু কিছুই বুঝার সাধ্য আমার নাই।অথচ এই মেয়ের সাথে সারাক্ষন খেচখেচ করতেই থাকে জান্নাত। অফিসে থেকে বাসায় ফিরে প্রতিদিনই আমার শুনতে হয়। মেয়ের অত্যাচারে জান্নাত নাকি অতিষ্ট। অথচ আমি যতক্ষন বাসায় থাকি মেয়ে ততক্ষন আমার সাথে কতো সুন্দর খেলা করে। আহ্লাদ করে। দৌড়ে এসে গালে চুমু দিয়ে যায়। কোলে রাখতে চাইলে কোলে থাকতে চায় না। ঘরে ছুটা ছুটি খেলা ধুলা করতে চায়। 

রাত যতই হোক আমি বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত ওর ঘুম আসেনা। ওর মা অনেক বকাঝকা করে মাঝে মাঝে ঘুম পড়ায়। আমার হাতের উপর মাথা রেখে অথবা ওর মায়ের দিকে মাথা আর আমার বুকের উপর পা তুলে না দিলে মেয়ের ঘুমই আসে না। 

মেয়েটার একটু সমস্যা আছে ।

19.10.2021

 

গতকাল দুপুরের কথা । আমি বাসায় গিয়ে মেয়েকে গোসল করিয়ে। ঘরে বসে বসে মো্বাইল টিপছি।জান্নাত আমার সামনে দিয়ে ঘুরছে আর বলছে আমি একটু ফেসবুকে হায় হ্যালো করেছি তাতে মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে গেছে ।যত অত্যাচার সব আমার উপর বলে মেয়ের মাথায় একটা খোচা মেরে বলছে তুই পেটে এসেই আমার সর্বনাশ করেছিস। তোর জন্য মুখ বুজে সব সহ্য করছি। তুই হচ্ছিস সব নষ্টের গোড়া।  আমি আমি চুপচাপ সব শুনছি কোন কথার কোন উত্তর দিলাম না।বুঝতে পারছি অশান্তি করার জন্য ওর শরির কামড়াচ্ছে। এমন সময় ওয়াস রুমের কাছে গিয়ে জান্নাত চিৎকার করেে উঠলো এই এদিকে আসো। আমি এগিয়ে এসে বললাম কি হয়েছে। 

জান্নাত -আমার কাপড়ের বালতিতে পানি দিয়েছো তুমি ?

হ্যা আমি দিয়েছি। শুকনো কাপড় বালতির ভিতর, তারপর এতোখানি ভালো পানি ফেলে দেবো তাই বালতির মধ্যে ঢেলে দিয়েছি।

জান্নাত- তোমার সাথে সংসার করার মতো কোন পরিবেশ নাই।

আমি হতবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে বললাম। এই কারনে এই কথা আসে কিনা আমার জানা নাই। বলে চুপ হয়ে গেলাম।

জান্নাত কতক্ষন একা একা যা খুশি বলে গেলো অনুরুপ ভাবে। আমি চুপচাপ বসে মেয়েকে নিয়ে খেলা করছি। যেন কিছুই শনছি না বা কিছুই হয়নি।

বিকাল ৪টার দিকে জান্নাত বললো ডাক্তারের কাছ যেতে হবে। আমি কোন প্রশ্ন না করে বললাম রেডি হও। ডাক্তার দেখিয়ে মেয়েকে এবং ওকে নিয়ে রাত ৮ টা পর্যন্ত আমরা রাস্তায় রাস্তায় হাটলাম ঘুরলাম। 

রাতে ঘুম সকালে উঠে অফিসে রওনা করলাম। দুপুরে বাসায় ফিরে জান্নাতরে করোনা টিকার নিবন্ধন করলাম। আমি গোসলে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছি। তখন আড়াইটা বাজে। আমি লুঙ্গি নিয়ে ওয়াসরুমে ঢুকবো । ঘরে তাকিয়ে দেখি জান্নাত খেতে বসে গেছে। আমি গোসল শেষ করে এসে খেতে বসলাম। ততক্ষনে জান্নাত খাওয়া শেষ করে মোবাইলে নাটক দেখতে বসেছে। আমি খাওয়া দাওয়া শেষ করে একটু শুয়ে পড়লাম। বেলা  সাড়ে ৪টার দিকে উঠে বাতাবি লেবু নিয়ে বসলাম।তখনও জান্নাত মোবাইলে নাটক দেখছে। আমার ঘরে রেকসিনের সোফা। আমি সোফায় বসে বাতাবী লেবুর খোসা ছাড়িয়ে সোফার উপর রাখছি আর লেবুর কোয়াগুলো প্লেটে রাখছি। বলে রাখছি এটা লেবুর উপরের মোটা খোসা না, ভিতরের সাদা খোসাটা্ । মেয়ে আমার সাথে লেবু ছেনছে। এমন সময় জান্নাত আমাকে উদ্দেশ্যে করে বলছে । কি করছো তুমি ? খুব গম্ভির গলায়।

আমি কিছু বলছি না। কারন ওর কথার টোনটা ভালো মনে হলোনা। আমার কাজ আমি করছি।

আবার জান্নাত বললো আমার কথা শোনোনি ?

আমি বললাম কি হয়েছে ? এমন করছো কেন ?

জান্নাত- খোসা তুমি সোফায় রাখছো কেন ?

আমি বললাম এটা ভেজা কিছুনা যে, সোফায় লেগে নষ্ট হয়ে যাবে। এগুলো ফেলে একটা মোছা দিলেই পরিস্কার হয়ে যাবে। 

শুরু হয়ে গেলো বকবকান। আমি আর কোন উত্তর দিলাম না। মেয়েকে নিয়ে লেবু ছাড়ানো শেষ করে। সোফা পরিস্কার করে। হাত ধুয়ে এসে জানলায় টাঙ্গানো পুরানো গামছা নিয়ে হাত মুছলাম। 

জান্নাত আবারও খেকিযে উঠলো- এই গামছা ধরলা কেনো ? ঐখানে চেয়ারে একটা গামছা আছে না ? 

আমি কোন উত্তর দিলাম না। কিন্তু জান্নাতের মুখ বন্ধ হলো না। মেয়েকে উদ্দেশ্যে সেই আগের মতো বলতে শুরু করলো। ১৫ মিনিটের মতো একা একা এমন আজে বাজে কথা বলতে শুরু করলো। আমার জীবনটা শেষ করে ফেলছে। জানিনা কোন পাপে এমন কুলাঙ্গারের ঘরে আল্লাহ আমারে পাঠিয়েছে। একটা অমানুষ, এক বিন্দু সময়ও শান্তিতে থাকতে দেয় না। ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি কোন কথার কোন উত্তর না দিয়ে চুপ চাপ সব শুনছি আর আফিসে আসার জন্য জামা প্যান্ট পরছি। মেয়েকে একটু আদর করে বেরিয়ে এলাম অফিসের পথে।

এই দুইদিন যে এমন করছে তা নয়। প্রতিদিন কোন কারন ছাড়াই এভাবে যা না তাই বলা শুরু করে। 

১৫ তারিখে ওকে নিযে বের হয়ে ওর ইচ্ছা মতো ওকে কাপড় কিনে দিলাম। ১৬ তারিখ সন্ধ্যা ৭টার সময় বলছে । চলো টঙ্গি বাজারে যাবো প্লাজু কিনতে। আমি বললাম এখন যেতে যেতেই সাড়ে আটটা নয়টা বেজে যাবে। এখন কিভাবে যাবো। আগামী কাল ৪টার  দিকে যাবো। 

আমি অফিসে থেকে তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে খাওয়া দাওয়া শেষ করে মেয়েকে খাওয়ালাম। জান্নাত খাওয়া শেষ করে বলছে এখন একটু ঘুমাবো। আমি কিছু বললাম না। ও ঘুমিয়ে পড়লো। সাড়ে ৫টার দিকে উঠে বলছে টঙ্গি বাজারে যাবানা। 

আমি বললাম এতক্ষন মনে ছিলোনা। গতকালকে বলে রাখছি যে, ৪টার দিকে যাবো। আর এখন সাড়ে ৫টায় তুমি এই কথা বলছো। তোমার রেডি হতেই তো এক ঘন্টার বেশি লাগে। 

কে শোনে কার কথা জান্নাত সব দোষ আমার কাধে চাপিয়ে বলছে। জ্বলে পুড়ে শেষ হয়ে গেলাম একটা কাজ যদি ঠিক মতো করতে পারে। আমার কপালে যে, কেন এমন হলো। কোন কথায় কান না দিয়ে আমি বললাম রেডি হও। 

সেখান থেকে মার্কেট করে ফিরলাম রাত ১০টার দিকে। আমি মাজায় খুব ব্যাথা পেয়েছি। মেয়েটা তেমন হাটতেই চায়না্ শুধু কোলে কোলে।ওর বয়স ২বছর ৩মাস। আর কোলে তো নিতে হয় আমার । আর যদিও হাটতে চায় , সব জায়গায় তো ছেড়ে দেয়া যায় না। রাস্তায় গাড়ির যে চাপ। এই পর পর চারটে পাচটা দিন মেয়েকে কোলে কোলে রাখতে রাখেতে আমার অবস্থা কাহিল। তারওপর যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন তো খুব কষ্ট হয় । আর জান্নাতের ভাষ্য হলো মেয়ে ঘুমিয়ে আছে বিরক্ত করছে না , চলো ঐ মার্কেট থেকে  একটু ঘুরে আসি। ঐটা শেষ হলে চলো পাশের টায় যাই। এর মধ্যে মেয়ে েএকবার ঘুম ভেঙ্গে আবার ঘুমিয়ে পড়ে।

Sunday, October 10, 2021

10.10.2021

 

১০ সেপ্টম্বরের পর থেকে আমি জান্নাতের সাথে তেমন কথা বলিনি। যতটুকু দরকার ততোটুকু। কিছু বললে উত্তর দিয়েছি। না বললে আমিও চুপ থেকেছি। এভাবে ৭/৮ দিন পার হবার পর অফিসে আসার সময় জান্নাত আমাকে জড়িয়ে ধরে কাদতে কাদতে বললো আমাকে মাফ করে দাও। আমি বললাম তোমাকে আমি মাফ করে দিয়েছি কিন্তু আল্লাহ মাফ করবে কিনা জানিনা। 

এভাবেই দিন চলতে লাগলো কিন্তু থেমে নেই জান্নাতের মুখের কর্কশ ভাষা। আমি কোন উত্তর দেই না, না শোনার ভান করে থাকি। যেমনঃ ৮ অক্টোবর দুপুরে আমি মেয়েকে নিয়ে ঘরে বসে আছি। 

জান্নাত ডাকলো একটু এদিকে আসবে ? আমি ডাক শুনে রান্না ঘরে গেলাম। আমাকে দেখে জান্নাত বললো সিঙ্ক থেকে পানি নামছে না। আমি বললাম হয়তো ময়লা জমে পাইপ বন্ধ হয়ে গেছে তাই পানি যাচ্ছে না। 

জান্নাত বললো তোমর লজ্জা করে না। একথা বলতে । পানি যচ্ছে না দেখে দিবা। লজ্জা করা উচিত তোমার। 

আমি কোন কথা বললাম না। আবার ঘরে চলে এলাম। জান্নাত রান্নাঘর থেকে বের হলে, আমি গিয়ে পাইপটা পরিস্কার করে দিয়ে ঘরে এসে আবার মেয়ের সাথে খেলায় মাতলাম।

৯ অক্টোবর আমার বস ঢাকার বাইরে যাবে। তাই ঐদিন সকাল সাড়ে ৬ টায় আমি না খেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে আসি। বসকে গাড়িতে রওনা করিয়ে দিয়ে আমি বাজারে যাই। কারন জান্নাত বেশ কিছু দিন ধরে বলছে শৈল মাছ,  ফলি মাছ এবং চান্দা মাছের কথা। তাই ভাবলাম আজকে একটু সময় পেয়েছে যাই বাজারে গিয়ে মাছ কিনি। তিনটা বাজার ঘুরে শৈল মাছ পেলাম না, ফলিমাছ এবং ছোট ছোট চান্দা মাছ পেলাম। হাফ কেজি চান্দামাছ, এক কেজি ফলি মাছ কিনলাম। 

বাসায় ফিরে বুঝলাম আমি অনেক বড় অপরাধ করেছি মাছ নিকে। একদিন আগে পুটি মাছ কিনেছিলাম। এবং বলেছিলাম মাছ ফ্রিজে রেখে দাও । পরে সময় সুযোগ করে কুটে নিও। আজ সেই পুুটি মাছ কুটছে। ভাষাগুলো ছিলো এমন আমারে মানুষ মনে হয়না। এভাবে কষ্ট দেয়ার চেয়ে একবারে মেরে ফেলো। শুধু মেয়েটার জন্য মুখ বুজে সব সহ্য করছি। না হলে কবেই সব ছেড়ে চলে যেতাম।

আমি বললাম তুমি বেশ কয়েকদিন ধরে বলছো এই মাছ গুলোর কথা তাই এই মাছগুলো আনছি। সব সময় এই মাছ পাওয়া যায় না, এমনকি আমিও ঠিকমতো সময় সুযোগ পাইনা বাজারে যাওয়ার।আচ্ছা ঠিক আছে আর আনবো না। 

তখন আনুমানিক ১২টা বাজে।সকাল থেকে আমি না খাওয়া। যাই হোক কাপড় চেঞ্জ করছি। এমন সময় জান্নাত আবার বললো ঘরে খাবার কিছু নাই, ভাত রান্না করিনি। মুড়ি আছে মিষ্টি আছে ওগুলো খাও। আমি কিছু না বলে চুপচাপ মুড়ি খেয়ে খাটে শুয়ে রইলাম।দুইটার দিকে নিজে গোসল করলাম মেয়েকে গোসল করালাম। 

জান্নাতের মাছ কোটা শেষ , জান্নাত এসে বিছানায় শুয়ে পড়ে বলছে। অনেক কষ্ট হয়ে গেছে এখন একটু ঘুমাবো।আমি কিছু বললাম না, চুপচাপ শুয়ে আছি। বুঝলাম কোন উত্তর দিলেই ঝগড়া শুরু করবে। দুপুরের ভাত যখন খেতে বসলাম কখন আসরের আযান দিচ্ছে। খেয়ে একটু আবার শুয়ে পড়লাম। মেয়েটা জান্নাতের কাছে গেলেই ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিচ্ছে, গালিগালাজ করছে। আমি মেয়েটাকে বললমা আম্মু আমার কাছে আসো বলে মেয়েকে কোলের মধ্যে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।

ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে গেছে, যাই হোক উঠে বাইরে বের হলাম , চাউল কেনার জন্য। রাত সাড়ে ৯টার দিকে চাউল, দুটো লাইট, ও জান্নাতের জন্য ফুচকা নিয়ে বাসায় ফিললাম। জান্নাত ফুচকা খাচ্ছে আমি ছোপায় বসে মোবাইল টিপছি, জান্নাত বললো ফুচকা খাবা আমি বললাম না খাবো না।

ফুচকা খাওয়া শেষ করে জান্নাত বললো , আসো লুডু খেলবো। খাটে ওঠো। আমি খাটে গিয়ে বসলাম। জান্নাত আবার বললো মোবাইল রাখো। আমি বললাম তুমি তো এখনো খাটেই ওঠোনি, রেডি করো। জান্নাত খাটে উঠে বসে লুডু মেলছে। এমন সময় আমি মোবাইলে একটি ছবি দেখে হেসে ফেললাম। 

আমার হাসি দেখে জান্নাত বললো তোমার লজ্জা করে না , হাসছো্। আমি শুধু অবাক নয়, হতভম্ব হয়ে বললাম কেন ? আমি হাসলে তোমার সমস্যা কোথায় ?

জান্নাত বললো নিজেকে প্রশ্ন করো। 

আমি বললাম , কারনটা তুমি বলো, যদি তুমি জানো। 

জান্নাত বললো- তুমি ফিডার খাও নাকি ? কিছু বোঝনা, না বোঝার ভান করো। 

আমার সাথে জান্নাতের  কোনরুপ কথা কাটাকাটি বা অন্য কিছুই হয়নি তারপর মুখ বুজে থেকেও প্রতিনিয়ত এ ধরনের কথা শুনতে আমার খুবই খারাপ লাগছে। তাই আমি জানোয়ার , কুকুর, বেয়াদব, ইত্যাদি বলে নিজের মতো নিজ আবার চুপ হয়ে গেলাম। 








৩০.০৪.২৬

ভেবেছিলাম ২৫ সালের পর আর কিছু লিখবো না কিন্তু পারলাম না।  আজ সকালে খুব বৃষ্টি হচ্ছিলো। মেয়ের পরীক্ষা তাই তাকে স্কুলে নিয়ে যেতে হবে। প্রচন্ড ...