Tuesday, March 29, 2022

সৎ মা



 প্রতিদিন একই আচরন একই গালি গালাজ। আমি এখন আর কোন কথায় কোন উত্তর দেই না। চুপচাপ থাকি তারপরও শান্তি নাই। নিজের সাথে সাথে মেয়েটাকে নিয়ে খুব খারাপ লাগে। 

আমার মেয়েটা বেশ কিছুদিন ধরে খুব অসুস্থ। প্রসাব আটকে যায়। প্রসাব করতেই চায় না। প্রসাব করার সময় প্রচুর কান্নাকাটি করে। আমার মেয়ে যেমন শান্ত স্বভাবের তেমনি খুব শক্ত। শক্ত বলার কারন হলো সহজে কাদে না।  তার মানে বোঝা যায়, প্রসাব করার সময় প্রচন্ড জ্বালাপোড়া হয়, তাই কাদে। আমার কষ্টটা হলো অসুস্থ মেয়ে জন্ত্রনায় কাদছে। তাকে কোলে করে শান্তভাবে বোঝাতে হবে, কান্না থামানোর চেষ্টা করতে হবে।

জান্নাত করে তার উল্টোটা। মেয়েটা যন্ত্রনায় প্রসাব করতে চায় না, তারউপর মার শুরু করে। রাগ দেখায় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এর থেকে আমাকে ও বাদ দেয় না। আমাকে ফোন করে, যা খুশি তাই বলতে থাকে। যেমন আগে বলেছে- তোমার মেয়ের জন্য আমি মরে যাবো, আমার সহ্য হচ্ছে না। আমার জীবনটা মাটি হয়ে গেছে। একটা ভাইরাস পেটে ধরছি। জ্বালায়ে শেষ করে দিচ্ছে, ইত্যাদি। 

আমি বুঝিনা কি করবো ?

জান্নাত অসুস্থ হলে, বা সামান্য শরীর খারাপ লাগলে আমাকে ফোন করে শুরু করে- তোমার সাথে বিয়ে হয়ে আমার জীবনটা মাটি হয়ে গেছে। আমি যন্ত্রনায় মরে যাচ্ছি তুমি থাকো তোমার চাকরী নিয়ে, আজকে আর বাড়ি আসবা না, পিওনদের সাথে অফিসে ঘুমাবা। আমি বাচি না আমার জ্বালায় তারউপর জন্ম দিছো একটা ভাইরাস । আমাকে জ্বালিয়ে মারছে। 

আমি বলি কি এমন করেছে আমার নিস্পাপ শিশুটি যে, তুমি এমন বাজে বাজে কথা বলছো। 

জান্নাত বলল- বমি করে ঘর ভাসিয়ে দিয়েছে। খুব কান্নাকাটি করছে, কোন ভাবেই থামেছে না। দিছি ইচ্ছা মতো মাইর, তারপরও থামে না। লজ্জা নাই।

আমি বললাম- তাহলে তুমি কি বুঝতে পারছো না, যে ওর খারাপ লাগছে, তারপর তুমি যদি ওর সাথে এমন করো, ও কোথায় যাবে, আমি আর তুমি ছাড়া আর কে আছে। আমি থাকি অফিসে , ও সারাদিন তোমার সাথে থাকে। তুমি একটু সংযত হও। তুমি যা করতেছো এগুলো  ঠিক না।

জান্নাত বললো-আমি শুধু তোমাদের বুঝবো , আমাকে বোঝার কে আছে? আমি অত কিছু বুঝতে চাই না। তোমার সাথে বিয়ে হয়ে আমার জীবনটা ধ্বংস হয়ে গেছে। এই ভাইরাসটা পেটে না ধরলে চলে যেতাম। আমার জীবন অন্য রকম হতো। এমন নরকের জীবন হতো না।

আমি কিছু না বলে ফোন কেটে দিলাম। আমার ঘৃনা ধরে গেছে ওর উপর,  ওর আচার ব্যবহারে আমার প্রচন্ড খারাপ অবস্থা।

স্বাভাবিক ভাবে ও প্রতিনিয়ত আমার সাথে  এমন করে ফলে আমার মন মানসিকতা ভালো থাকেনা। অফিসের কাজে ভূল হয়, বসের কাছে নানান কথা শুনতে হয়। আমার কষ্টগুলো  কোন দিন জান্নাত বুঝবে না। শুধু আমার নয় ও হয়তো কোনো দিন কাউকে বুঝবে না। ও শুধু মানুষের জীবনকে নরক বানাতে পারে। কারো মুখে হাসি ফুটানোর ক্ষমতা ওর নাই। নিস্পপ শিশু মেয়েটার সাথে যা করে তাতে বাইরের কেউ দেখলে মনে করবে, এটা ওর সৎ মা। 

আমি মাঝে মাঝে ভাবনায় পড়ি যে, জান্নাত যদি কারো সৎ মা হতো তাহলে তার জীবনটা কি হতো। আর সেই সাথে  দোয়া করি যে পৃথিবীর কোন বাবা-মায়ের ঘরে যেন এমন মেয়ে না জন্মায়।

জান্নাতের গুনের কথা বলে শেষ করা যাবেনা, যেমন আমি দুপুর তিনটায় বাসায় লাঞ্চে গেলাম। জান্নাত গোসল করে পরিপাটি হয়ে তারপর খেতে দিবে। তাই খেতে খেতে ৫ টা বেজে গেলো। রুটিন অনুযায়ী দেরি না করে অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা হতে হবে। এখানেও জান্নাতের আপত্তি কেন এখনই রওনা হতে হবে। আরেকটু দেরি করে গেলে কি হয়। শুরু করবে বাজে বাজে ব্যবহার। আর আমি নিরবে সেগুলো শুনতে শুনতে ঘরে থেকে বের হয়ে আসি। 

আমি হয়তো কোন পাপ করেছিলাম যার ফল হিসেবে এমন অমানুষ পেয়েছে কিন্তু আমার মেয়েটাতো নিস্পাপ ওর কি দোষ , ভেবে পাইনা। 

আমি তো  পুরুষ যাই হোক পেটের ধান্ধায় থাকতে হয়। একটু স্বচ্ছলতার আশায় আমার এক ধর্ম খালাত ভাইয়ের চাকরীর তদবির করার চেষ্টা করছিলাম। আমার সেই খালাতো ভাই আমাদের খুলনার বাড়িতে গিয়ে আমার আম্মার কাছে বিষয়টি জানাতে চায়। এবং তখন আমার আম্মা আমাকে ফোন দেয়। জান্নাত দেখলো যে আম্মা ফোন দিয়েছে তারপরও আমাকে জিজ্ঞাসা করলো কি হয়েছে। আমি সরল মনে সত্যিটা বললাম। 

জান্নাত আমার কথা শুনে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো- শুরু করলো আজে বাজে বিশ্রি কথাবার্তা বলতে। আমার তখন মনে হচ্ছিলো ওকে টেনে ছিড়ে ফেলি। মা খালা নিয়েও বাজে কথা বলতে একটু বাঝে না। 

আমি শুধু বলেছিলাম - জানোয়ারের বাচ্চা আর একটা কথা বললে তোর কান ফাটিয়ে ফেলবো। তুই তোমা মার কাছে ভালো শুনে দেখ, তুই কোন বৈধ সন্তান না। কোন বাবা মার কোন বৈধ সন্তান এমন কথা বলতে পারেনা। বলে অন্য রুমে চলে গেলাম। মেয়েটা আমার পিছন পিছন আসলো এবং ছোট ছোট করে আমাকে বলছে- আব্বু এসব কথা বলতে হয় না। এগুলো বাজে কথা সরি বলো।

আমি মেয়েকে কোলে তুলে নিলাম। আদর করে চুমু দিয়ে বললাম । ওকে আব্বু সরি।

এই শিশুর কাছ থেকেও যে শিক্ষা নেয়ার আছে সেটা বুজতে ওর কষ্ট হয়। মানুষ হলে অবশ্যই সুধরে যেতো। এখনো যখন সুধরায়নি তখন...............................................

Sunday, March 20, 2022

এটা কি জীবন ?

 


শুনেছি বা দেখেছি পুরুষ বা নারী বিবাহের পর তাদের জীবনে শুধু সঙ্গী বা সঙ্গীনা নয় । অনুপ্রেরনা ও উৎসাহের একটা বড় জায়গা হয়। কিন্তু আমার বেলায় পুরোটাই উল্টো। 

বিয়ের পর থেকে আমার জীবনে উন্নতির সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে বললে ভূল হবে। বন্ধ করে রাখা হয়েছে। সে আমার স্ত্রী নয় তো যেন আমার জীবনধ্বংস কারীনি।শুনতে খারাপ শোনা গেলেও এটাই সত্য।

আমার ইনকাম আমাকে খাওয়াতে কষ্ট হয়। আমার আয়ের ১০ টাকা থেকে ২ টাকা আমার বাবা মাকে দিলে ওর কলিজা পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তাও প্রতিদিন বা প্রতিমাসে নয়, দেখা যায় ছয়মাস বা একবছরে একবার । যেমন আব্বা মারা যাবার পর পেনশনের টাকা পেতে দেরি হচ্ছে দেখে আম্মাকে ২০০০ টাকা দিয়েছিলাম। তার জন্য কতো কি শুনতে হলো। অথচ ঈদের দুই মাসে আগে থেকে প্লান করতে থাকে আমার ছোট ভাইকে এবার ১০০০ টাকা দিতে হবে। ও বড় হয়ে গেছে। এখন ৫০০ টাকা দিলে মানসম্মানে লাগে।

আমি কি কাজ করি , কখন বাসায় ফিরি সব কিছু জান্নাতের জানা। তারপরও প্রতিদিন রাত ৯টা বাজতেই কখন বাসায় আসবা। এখনো অফিসে কি করো। সপ্তাহে দুই একদিন একটু আগে আগে আসা যায় না। এই  একই কথা প্রতিদিন শুনতে হয়। 

আমি বুঝিয়েছি কয়েকশত বার যে, আমি তো পরের চাকরী করি। তারা ছুটি না দিলে কিভাবে আসবো। তুমি তো জানো। 

আমি প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯ টায় অফিসে আসি। দুপুর ২ টা বা আড়াই টার দিকে বাসায় লাঞ্চ করতে যাই। কোন কোন দিন যেমন সপ্তাহে ১ দিন বা মাসে ৪/৫ দিন হঠাৎ জরুরী মিটিং বা কাজ থাকলে  একবারে রাতে বাসায় ফিরি। কিন্তু প্রতিদিনের রুটিন হলো ২ টায় লাঞ্চ করতে যাওয়া, লাঞ্চ করে ৫ টা বা সাড়ে ৫টার মধ্যে আবার অফিসে ফিরে আসা। তারপর যতক্ষন বস অফিসে থাকে ততক্ষন অফিসে থাকতে হয় রাত ১০টা বা ১১ টা।  

সকালে  ৯ টা বা সাড়ে ৯ টার দিকে বাসা থেকে বের হলে অফিসে আসতে আসতে ১০ টা বেজে যায়। দুপুর ১২টার দিকে জান্নাত ফোন করবে।  প্রতিদিন একই বুলি আমার ভালো লাগেছে না। মনটা খুব খারাপ লাগেছে। রাস্তা দিয়ে কতো মানুষ যাচ্ছে আমার ঘরের মধ্যে বন্দি থাকতে মন চাচ্ছে না। তুমি আমাকে একটুই সুখ দিতে পারলে না। সেই একমাস আগে একবার ঘুরতে বের হয়েছি আর এই একমাস ধরে ঘরের মধ্যে পচে মরছি। আরো কতো কি যা ভাষায় বলার মতো না।

তারপর দুপুরে লাঞ্চ সেরে অফিসে আসার পর ৬টা সাড়ে ৬ টার দিকে জান্নাত আবার ফোন দিবে। আমার ভালো লাগেছে না। মনটা খুব খারাপ লাগেছে। রাস্তা দিয়ে কতো মানুষ যাচ্ছে আমার ঘরের মধ্যে বন্দি থাকতে মন চাচ্ছে না। তুমি আমাকে একটুই সুখ দিতে পারলে না। সেই একমাস আগে একবার ঘুরতে বের হয়েছি আর এই একমাস ধরে ঘরের মধ্যে পচে মরছি। আরো কতো কি যা ভাষায় বলার মতো না।

আবার রাত ৯ টা থেকে সাড়ে ৯ টা বাজলেই একই সুর-আমার ভালো লাগেছে না। মনটা খুব খারাপ লাগেছে। রাস্তা দিয়ে কতো মানুষ যাচ্ছে আমার ঘরের মধ্যে বন্দি থাকতে মন চাচ্ছে না। তুমি আমাকে একটুই সুখ দিতে পারলে না। সেই একমাস আগে একবার ঘুরতে বের হয়েছি আর এই একমাস ধরে ঘরের মধ্যে পচে মরছি। আরো কতো কি যা ভাষায় বলার মতো না।

আমার সামনে মানুষ বসা থাকে তাই কোন উত্তর দিতে পারিনা। কিন্তু কেমন নিজের অজান্তেই চোখ থেকে জল গড়িয়ে আসতে চায়। এ কি যন্ত্রনা। এটা মানুষ নাকি ..............................অন্য কিছু। 

ঘরে ডুকলেই শুরু করবে টাকা পয়সা নাই। কিভাবে সংসার চলবে ? ভবিষ্যত কি ? ইত্যাদি 

আবার আমি চাকরীর পাশাপাশি বাইরে কিছু করবো তারও উপায় নাই। একটা চাহিদা পুরন করলে আরেকটা এনে হাজির করে। ঘ্যান ঘ্যান করতেই থাকে। আমি ভালোবেসে ওকে জান্নাত নাম দিয়েছিলাম কিন্তু এই পাঁচ বছরে ওর এবং ওর পরিবারের অত্যাচারে আমি এতোটাই অতিষ্ট যে, জান্নাতকে ছুয়ে দেখতেও আমার ঘৃনা লাগে। ওর কাছে গেলে আমার কোন অনুভূতি জাগে না। মন থেকে ভালোবাসার কোন সায় পাই না। যা করতে হয় সংসারের শান্তির জন্য নিজের উপর জোর করে করতে হয়।

জান্নাতের ডায়াবেটিস আছে তাই যে কোন কারনেই শরীর খারাপ হতেই পারে। কোন রকম একটু খারাপ লাগলেই শুরু হয়ে যাবে- আমি তো মানুষ না । আমার কোন দাম নাই । গাধার মতো খাটতে খাটতে শেষ হয়ে যাচ্ছি। একটু ডাক্তারের কাছে নেয়ার ও প্রয়োজন মনে করোনা। আমাকে তুমি আসলে ভালোবাসোনা তোমার মনের মধ্যে অন্য কেউ। ইত্যাদি ইত্যাদি  যা শুনলে কোন সুস্থ মানুষ স্থির থাকতে পারে না। কতোরাত চুপচাপ বিছানা ছেড়ে উঠে এসে পাশের ঘরে বসে বসে মশার কামড় খেয়েছি ,তবুও জান্নাতের পাশে ঘুমাতে যেতে ইচ্ছা করে না।  সপ্তাহে দু একবার আরামের বিছানা ছেড়ে পাশের ঘরে ফ্লোরে এসে শুয়ে মাশার কামড়ে রাত কাটিয়েছি। সকালে উঠে না খেয়ে অফিসে চলে এসেছি। 

 এটা কি জীবন ?

আমার বাচ্চার মতো এমন শান্ত বাচ্চা আমার দেখা দ্বিতীয়টা নেই। তারপরও সপ্তাহে দুই  একবার জান্নাতের কাছ থেকে আমার শুনতে হয় - তোমার মেয়ে চরম বেয়াদপ হয়েছে। আমাকে প্রচন্ড জ্বায়ায় মন চাচ্ছে গলাটিপে মেরে ফেলি। জান্নাত যখন এই ধরনের হাজার কথা বলে তখন আমার বুকের ভেতরটা কেপে ওঠে। কি যে করবো ভেবে পাইনা। কোন উত্তর দেবার ভাষা থাকে না। যে উত্তর দেয়া দরকার তা দিতে পারছি না। কারন মেয়েটা ছোট, মাত্র ২ বছর।

Tuesday, January 11, 2022

12.01.2022


 আজ ১২ই জানুয়ারী ২০২২। সকাল সাড়ে ৯ টায় অফিসের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হলাম্। দুঃখ জনক হলেও সত্য যে, বাসাথেকে নাস্তা না করেই বের হতে হলো। 

রাতে বাসায় ফেরার সময় মুড়ি, পানি, আটা ও আনজুমার জন্য প্যাম্পাস নিয়ে ফিরলাম। হাতমুখ ধুয়ে খাওয়া শেষ করে শুযে পড়লাম। জান্নাত আশপাশ থেকে গোত গোত করে বেড়াচ্ছে, এখানে গিয়ে মুখ ভার করে বসে থাকছে, সেখান থেকে উঠে আরেক জায়গায় দিয়ে বসছে।  আমি বুঝতে পারছি কিছু জিজ্ঞাসা করলে বা বললেই শুরু হয়ে যাবে। তাই কিছু বললাম না। শুযে পড়লাম। মশারী না টানিয়ে বসে আছে। আমি টানাতে বললেই শুরু করবে। তাই আমি কিছু না বলে নিজেই মশারি টানিয়ে শুয়ে পড়লাম।

তখন ভোর ৫টা। জান্নাত আমাকে ঘুম থেকে ডেকে উঠিয়ে বলছে, নাহ তোমার সাথে আমার সংসার হবে না। যেসব স্বপ্নে দেখেছি। তাতে আর সংসার হবে না।

আমি জানতে চাইলাম কি স্বপ্নে দেখেছো বলো ? কি দেখেছো ?

কিছুই বললো না। কয়েকবার জানতে চাওয়ার পরেও কিছু বললো না। আমি চুপ করে শুয়ে রইলাম। সাড়ে ৫ টার দিকে আবার আমাকে ডেকে বলছে চিরুনী কোথায় রেখেছো। চিরুনী পাচ্ছি না। 

আমি বললাম ওযারড্রবের উপর রেখেছিলাম। তাওতো সেই সকালে অফিসে যাবার সময়, সারাদিন গেল, সারারাত গেলো এখন তোমার ................... চুপ করে গেলাম ।

কিছুক্ষনপর আবার ডাকলো-বললো উঠো এখানে আসো। আমি কোন কথা না বলে বিছানা থেকে উঠে আসলাম। 

জান্নাত বললো ওই ঘরে চলো।ওর সাথে ওই ঘরে গেলাম। সোফার উপর পাশাপাশি বসলাম। মিনিট খানেক পরে জান্নাত আমার কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়লো। আমি ওর মাথায় হাত বুলাতে লাগলাম। মাথাটা বুকের সাথে জড়িয়ে রাখলাম। মিনিট দুয়েক পরে জিজ্ঞাসা করলাম কি হয়েছে তোমার ?

জান্নাত- ভালো লাগছে না।

কেন ? কি হয়েছে?

জান্নাত- জানিনা মনটা ভালো লাগছে না। 

আমি কিছু বললাম না, ওর মাথাটা বুকের সাথে জড়িয়ে রাখলাম। 

কযেক মিনিট পর জান্নাত বললো-আমার কি কোন স্বাদ, আহ্লাদ নাই। সারাদিন একা একা ঘরের মধ্যে আর ভালো লাগে না। 

সেই একই কথা শুনতে খারাপ লাগলেও আমি বললাম শোনো আমি তো পরের চাকরী করি।  চাকরীর বাইরে যখন সময় পাই তখনই তো তোমাকে নিয়ে বাইরে যাই।  আমার উপর বিশ্বাস রাখো, নিজের মনটাকে ধৈর্য্যশীল করো। যা আশা করছো তার চেয়ে বেশি পাবা। 

জান্নাত ক্ষেপে গিয়ে বললো-আর কতো ধৈর্য্য ধরবো। চারটা, পাচটা বছর ধরে ধৈর্য্য ধরছি। 

আমি বললাম তুমি ভূল বলছো। তুমি ধৈর্য্য ধরলে এতো অশান্তি কখনো হতো না। আমি অফিসে মানুষের মধ্যে থাকি তুমি জানো, তারপরও বার বার ফোন করে আজেবাজে কথা বলে আমার আত্মসম্মান নষ্টকরো, আমাকে মানষিক টর্চার করো। যাতে আমার কাজকর্মে ভূল হতে থাকে। বসের গালিগালাজ শুনতে হয়। আমার ক্যারিয়ার পুরো ধ্বংস হযে যাচ্ছে। এই একটি ব্যাপারেও তোমাকে হাজার বার বুঝিয়েছি।

জান্নাত আমার কথা কেড়ে নিযে বললো- আর তুমি যে আমার জীবনটাই ধ্বংস করে দিচ্ছো।

আমি ওর কথার উত্তর না দিয়ে বলতে থাকি- আমি ঘরের বাইরে গেলে আর ঘরে ফিরতে ইচ্ছা করেনা। যে কোন উপায় মরে যেতে ইচ্ছা করে তবু ঘরে ফিরতে ইচ্ছা করেনা। তুমি ঘরটাকে জাহান্নাম বানিয়ে রেখেছো। 

জান্নাত বললো-তাহলে আসো কেন ?

আমি বললাম তুমি যদি বুঝতে তাহলে এমন করতে না। শুধু মেযেটার মুখটা চোখের সামনে ভাসে। মেযেটার কি দোষ। ওকে কিভাবে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিবো। বিবেক সায় দেয় না। মেযের কথা মনে পড়তেই কান্না আসে। মনে হয় আমি না থাকলে তুমি মেয়েটাকে মেরেই ফেলবা।আর অবুঝ মেয়েটা আমাকে সারাজীবন ভূল বুঝবে। তাই আবার ফিরে আসি।

জান্নাত বললো- তুমি , আমাকে মোহরানা দিয়ে দাও আমি চলে যাচ্ছি। তুমি আমার জন্য কি করেছো। আমাকে একটুও সুখি করতে পারো নাই। 

আমি বললাম- তোমার জন্য আমি কি করেছি, কি করছি, তা আল্লাহ ভালো জানে। আর আমি বলতে পারি আমি সর্বোচ্চে চেষ্টা করি তোমাদের সুখে রাখার জন্য। নিজের জীবনের সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করি এবং করছি তোমাদের সুখে রাখার জন্য। আর এতে যদি তোমার মন না ভরে তাহলে আমাকে মাফ করে দাও। আমি অপারগ। তোমার সুখ, তুমি খুজে নাও। 

জান্নাত বললো- শুধু ভরপুর খাওয়া পড়া দিলেই কি হয় ? আমার কি ইচ্ছা করে না রাস্তা দিয়ে হাটবো বাদাম খাবো।

আমি একটু হেসেই বললাম হায়রে পাগলী- সারাজীবনের তিল তিল করে গড়া সংসারের শান্তির চেয়ে , রাস্তায় হেটে আধঘন্টা বাদাম খাওয়া, তোমার কাছে বেশি মূল্যবান মনে হলো। তোমাকে আমার কিছু বলার নাই।

জান্নাত আমার কোল থেকে লাফ দিয়ে উঠে গিযে পাশেই ফ্লোরে পাতা বিছানায় শুয়ে গায়ে কম্বল টানতে টানতে জান্নাত বললো। আমার একা একা ঘরে ভালো লাগে না এভাবে সংসার করতে পারবো না।

আমি বললাম তু্মিই তো এক সময় ঠিক এভাবে অশান্তি করতে আর বলতে , একটা বাচ্চা নাও , বাচ্চা হলে তাতে নিয়েই ঘরে আমার খুব ভালো সময় কাটবে। কথা দিলাম তোমাকে আর বিরক্ত করবো না। আর এখন ...................পুরো উল্টো কথা বলছো। আসলে তোমার মন কোন দিন পূর্নতা পাবেনা। একটা চাওয়া পূর্ন করলে , আরো দুইটা হাজির করে , নতুন করে অশান্তি শুরু করো।

আমি বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লাম।একটু ঘুম ঘুম ভাব এসেছে তখন জান্নাত আবার আমাকে ডাকলো।

জান্নাত- আমাকে মোহরানা দিয়ে দাও। আমি সংসার করবো না। 

আমি বললাম ঠিক আছে, তোমার আব্বাকে ফোন দিয়ে বলো এসে তোমাকে নিয়ে যেতে। 

জান্নাত বললো-ওদের টানো কেন তুমি ? আমার জীবন তো জ্বালিয়ে শেষ করে ফেলছো ওদের ও জ্বালিওনা।

জান্নাতের কথা শুনে আমার প্রচন্ড রাগ হলো কিন্তু  নিজেকে সামাল দিয়ে বললাম। আমি তো তোমাকে রাস্তা থেকে, বা প্রেম করে বের করে আনিনি ।ওনারা আমার কাছে তোমাকে তুলে দিয়েছে , আমিও তোমাকে ওনাদের হাতেই দিবো।

জান্নাত বললো -মেয়েটার জন্য মুখ বুজে আছি।

আমি বললাম -নিশ্পাপ মেয়েটার দোষ কেন দাও ? মেয়েটা আছে বলে তুমি এখনো ভালো আছো। শুকরিয়া আদায় করো।শুরু করে দিলো সেই পুরোনো কথা । 

আমি হাতজোড় করে বললাম তুমি আমাকে মাফ করো, আমি আর সহ্য করতে পারছি না। তোমার ভালো না লাগলে তুমি তোমার সুখ খুজে নাও। দেখো কে তোমাকে সুখে রাখতে পারে ? তবে আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি তুমি কোথায় শান্তিতে থাকতে পারবে না। তোমার সাথে কারো বনিবনাই হবে না। তুমি তোমার বাপের বাড়িতেও ২মাসের বেশি শান্তিতে থাকতে পারবে না। তারাও তোমাকে বের করে দিবে। আমি যতটা সহ্য করছি আর কেউ করবে না। গিয়ে দেখো তোমার বাপ-মা, ভাই, কেউ না। যদি ২মাসের বেশি টিকতে পারো তবে আমি নাকেখর ‍ুদিয়ে আসবো। এবং সারাজীবন তোমার কথা শুনবো। 

ওর মতে ও অনেক কিছু বলতে লাগলো আমি কোন উত্তর দিচ্ছি না। কারন উত্তর দিলেই কথা বাড়বে, অশান্তি আরো বাড়বে....................................

মনে হচ্ছে এখনই আত্মহত্যা করি (12.01.2022)

 


আজ ১১ ই জানুয়ারী ২০২২। সকাল থেকে অফিসে । দুপুরে কোন খাওয়া হয়নি। তার উপর বউয়ের যন্ত্রনা। ৫ মিনিট পর পর ফোন আর আজে বাজে কথা। মানুষের সামনে না পারছি কোন উত্তর দিতে , না পারছি সহ্য করতে। 

কয়েক বার ফোন করে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। যে কথা ফোনে বলতে পারিনি সেটা মেসেজ দিয়ে জানিয়ে দিয়েছি। তারপরও একের পর এক ফোন করেই যাচ্ছে। 

আর ফোন রিসিভ করেই এক কথা -আমার ভালো লাগছে না। ছুটি নিয়ে বাসায় চলে আসো। কেমন চাকরী করো ছুটি নিয়ে আসতে পারবা না। অফিসের চাপ তারউপর এই জেরা ...................... হায়রে কপাল।

কষ্টে বুকটা ফেটে কান্না আসছে। কারো কোন কথা ভালো লাগছে না। মনে হচ্ছে এখনই আত্মহত্যা করি । মুক্তি দিয়ে যাই এই  নিকৃষ্ট অমানুষটিকে। যে আমাকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিযেছে। 

Monday, January 10, 2022

আর কতো (11.01.2022)

 

০৮ জানুয়ারী ২২, থেকে সকাল ৭ টায় অফিসে আসতে হচ্ছে। আমি তো চাকরী করি, তাই বসের হুকুম মানতে বাধ্য। কেনো এতো সকালে  অফিসে আসতে হবে তাতেও জান্নাতের আপত্তি। বাসায় গেলেই কানের কাছে ঘ্যান ঘ্যান করতে থাকে। আমি কোন উত্তর দেই না। চুপ করে থাকি । 

জানি কুকুরের লেজ সোজা হতে পারে এই অজাত কোনদিন বুঝবে না। তাই চুপ করে থাকি। আমি সকালে নাস্তা ন করেই অফিসে চলে যাই। কারন এতো সকালে ওর নাস্তা তৈরি করতে সমস্যা হয় ।

আরেকটি কথা না বললেই না। এই কয়েকদিন বাদে প্রতিদিনই আমি অফিসে আসি সকাল ১০ টায়, দুপুরে বাসায় থেকে যাই ২টার দিকে, ৪টা বা সাড়ে ৪ টার দিকে আবার অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা করি। অফিস শেষ করে রাতে বাসায় ফিরতে ফিরতে সাড়ে ১০ টা ১১ টা  বা তার বেশিও বেজে যায়। যতটুকু সময় অফিসে থাকি তার মধ্যে কয়েকবার জান্নাত ফোন করে বলতে থাকে , আমার কিছু ভালো লাগছে না, আমার কিছু ভালো লাগছে না। 

প্রতিদিনের মতো ১১ জানুয়ারী ২২, সকালে অফিসে কাজ করছি। তখন ঘড়ির কাটায় ১১টা। জান্নাতের ফোন।ফোন কেটে দিয়ে আমি ব্যাক করে বললাম। কাজ করছি বলো কি বলবা, 

জান্নাত- ন্যাকামীর সুরে কথায় টান দিয়ে বললো, আমার কিছু ভালো লাগছে না। 

আমি বললাম তোমার ভালো লাগছে না, শুনলাম আমি কি করতে পারি বলো ? আমি তো অফিসে কাজ করছি তাই না।

জান্নাত- তুমি শুধু অফিস করো, আর কেউ অফিসে করেনা। শতশত পুরুষ মানুষ অফিসে করছে। সংসারও করছে।

আমি বললাম এটা কোন ধরনের কথা। তোমার সমস্যা কি ? এই এক কথা শুনতে শুনতে আমি অতিষ্ট। আর ভালো লাগে না। যদি শত শত পুরুষ মানুষ সম্পর্কে তোমার এতোই ধারনা থাকে তাহলে আমার সাথে সংসার করতে এসেছো কেন ? ফোন রাখো, তুমি তো একা ঘরে সবে যা খুশি বলতে পারো, আমি মানুষের মধ্যে থাকি। আমাকে আর কতো  নিচে নামাবে, আমার আত্মসম্মান আর কতো নষ্ট করবে তুমি ? আমাকে তো জীবন্ত লাশ বানিয়ে ফেলেছো। 

জান্নাত বলেলো একা একা আমার আর ভালো লাগে না, আমি বাইরে যাবো,  তুমি তো সারাদিন বাইরে থাকো তাই টের পাও না।

আমি বললাম- যখন মেয়েটা হয়নি, তখন বলতে একটা বাচ্চা হয়ে তাকে নিয়ে আমার সময় কাটবে, তোমাকে আর জ্বালাবো না। এখন মেয়েকে নিয়ে সময় কাটাতে তোমার ভালো লাগেনা ? আর এটা আমার চাকরী । আমাকে যদি বলে সারাদিন একা এক ঘরে বসে থাকতে , আমার তাই করতে হবে। যখন যেখানে পাঠায় , যা বলে তাই করতে হয়। তুমি তো আমার চাকরী সম্পর্কে, আমার সম্পর্কে সবই জানো । চাকরী মানে কেনা বাদীর মতো যখন যা বলবে তাই করতে হবে। আর বাইরে থাকার কথা বলছো তুমি- আমি বিনোদন করতে বাইরে থাকি না, বা বাইরে ফুর্তি করে বেড়াই না, পেটের ভাত যোগার করতে বাইরে থাকি। তোমাদের মুখে খাবার তুলে দেয়ার জন্যই বাইরে থাকি। 

জান্নাত আমার কষ্টগুলো না বুঝে আবার বলতে শুরু করলো তোমার শুধু অজুহাত আর মানুষ চাকরী করে না ? আর পুরুষ মানুষ নাই জগতে যারা স্ত্রী সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেয়। 

আমি বললাম দেখো আমার সাথে মানুষ আছে তারা আমার একটু পিছনে, আমি রাস্তায় হাটছি । এসব কথা শুনতে কারো ভালো লাগে না । আমি মরে গেলেই তোমার শান্তি হবে। 

 জান্নাত বললো -আমাকে তুমি অনেক বেশি কথা বলে ফেললে, আমাকে তুমি আর কতো কষ্ট দেবে ? আমাকে ডিফোর্স দিয়ে দাও, তোমার সাথে সংসার করবো না।  

আমি আর কোন কথা না বাড়িয়ে ফোন কেটে দিলাম। 

Tuesday, January 4, 2022

নতুন বছর-২০২২



 দিনটি ছিলো ৩১ ডিসেম্বর ২০২১। ৫দিন আগে থেকেই অফিসের প্রোগ্রাম সেট করা কিশোরগঞ্জ যেতে হবে।কারন আমার বস ওখানে একটি ছোট অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন।ঢাকা থেকে ১০ জন যাবে তার মধ্যে আমিও। আমি বলেছিলাম যদি দিনে দিনে চলে আসা যায় তাহলে আমি চেষ্টা করবো। 

পারসোনাললি আমার যাওয়ার কোন ইচ্ছাই ছিলোনা। বসকে কয়েকবার বোঝাতে চেষ্টা করেছি যে, আফিসে জরুরী কাজ আছে আমি ঢাকায় থাকি। ফ্যামিলির অজুহাত দিলে , আমার ফ্যামিলি তার কাছে ছোট হয়ে যাবে তাই নানানভাবে বোঝাতে চেষ্টা করেছি। কিন্তু অফিসের কাজ সস্পর্কে  বসের থেকে ভালো কে জানে ?

রওনা দেয়ার ১০ মিনিট আগেও একবার বলেছি। কিন্তু বস বললেন তুমি আসো । তুমিতো আর থাকছো না। যে গাড়িতে আসবে সেই গাড়িতেই রওনা হয়ে চলে যাবা। কোন ঝামেলা নাই।আমার কোন রকম যাওয়ার ইচ্ছা না থাকলেও একপ্রকার বাধ্য হয়েই রওনা হতে হলো। আমার না যাওয়ার মূল ইচ্ছাটাই ছিলো পরিবারের জন্য। 

যাইহোক   হায়েস গাড়ি । আমরা ৭ জন । গাড়ি চলছে বেশি কিছুদুর যাওয়ার পর জান্নাতের ফোন। ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে তুমি কোথায় এখন ?

আমি বললামা গাড়িতে। 

তুমি যাচ্ছো তাহলে। যাও এসে আমাকে মরা পাবে। আমি গলায় দড়ি দিবো। মেয়েকেও খুন করবো। তোমার যা ইচ্ছা তাই করো। বলেই ফোন কেটে দিলো। আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার আত্মসম্মান লুটিয়ে পড়লো ধুলোয়।কারন ফোনের কথা শুনে ফেলেছে পাশে থাকা কেউ কেউ। সবাই আমার দিকে কেমন যেন তাকা্চ্ছে। তারপরও আমি আবার ফোন দিলাম দেখলাম জান্নাতের ফোন বন্ধ। পুরো রাস্তাতে কয়েকবার ট্রাই করেছি। ফোন বন্ধই পেয়েছি। আমি তো ফুর্তি করতে যাচ্ছি না , এটা তো অফিসের কাজ। তারপরও কেন ? 

বাসায় না আসা পর্যন্ত আমি ছিলাম অস্তির। কিভাবে চাকরী করবো ? প্রতিনিয়ত পরিবার কোন কারন ছাড়াই এমন করে 

সবাই খুব হাসি-খুশি । একটা নতুন জায়গায় যাচ্ছে। গল্পগুজব করছে কতো কি। কিন্তু আমার ভীরটা অবাধে রক্তক্ষরন চলছে। সারাটা দিন সবার সাথ হাসিমুখে কথা বললেও আমার ভীতরটা ‍গুমরে কাদছিলো। মানুষের স্ত্রী কামনা করে , স্বামী যেখানেই যাক ভালো ভাবে সুস্থভাবে বাসায় ফিরে আসুক। আর আমার স্ত্রী আমাকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। 

বিকার সাড়ে ৪টার দিকে কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। ঢাকায় পৌছালাম রাত ৯টায়। মেযের জন্য সামান্য কিছু খাবার কিনে বাসায় ফিরে । নিজের মতো করে খেয়ে বিছানায় শরীর এলিয়ে বসে রইলাম। মেয়েকে নিয়ে মজা করছি। রাত ১২ টা বাজেতেই । নতুন বছরের আনন্দে আতশবাজির শব্দ হতে লাগলা খই ভাজার মতো ।আকাশ ঝলমল করতে লাগলো। আমি উৎফুল্ল হয়ে জান্নাতে একবার এপাশে আরেকবার ওপাশে দেখতে বললাম। জান্নাত আমার উপর খেকিয় উঠলো। আমি কোন উত্তর না দিয়ে চুপচাপ মেয়েকে নিয়ে বসে রইলাম। মেয়েকে আতশবাজির ঝলমলে আকাশ দেখাতে লাগলাম। জান্নাত চিৎকার করে মেয়েকে ডাকতে লাগলো-এই এদিকে আয় , ঘুমাতে হবে। আমার জীবনটা শেষ হয়ে গেলো, একটা যন্ত্রনা হইছিস আমার পেটে। বুক ফেটে কান্না আসছিলো , রাগে ক্ষোভে শরীর যেন থরথর করে কাপছিলো। তবুও চুপ করে নিজেকে সামাল দিয়ে, ঘরের এক ছোফায় বসে রইলাম। 

এভাবে দুদিন কাটলো । আমি খুব বেশি জরুরী না হলে জান্নাতের সাথে তেমন কথা বলিনা। কি আর বলবো ?


০২ জানুয়ারী ২০২২। অফিসে সন্ধ্যায় সেন্ডুইজ নাস্তা দিলো। নাস্তাটা দেখেই জান্নাতের কথা মনে হলো। ও খুব পছন্দ করে। আমি না খেয়ে কৌশলে প্যাকেট করে রাখলাম। বাসায় আসার সময় ভাবলাম , এটা দেখে হয়তো খুশি হবে। কিন্তু বাসায় ফিরে পোড়া মুখ দেখতে হলো। কপাল কুচকিয়ে, দাতে দাত লাগিয়ে কেমন এক ভাব। যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।

কোন কথা না বলে ,কাপড় সেরে খেতে বসলাম । মেয়ে বার বার আমার কাছে আসার চেষ্টা করছে , আর ধমক দিয়ে বলছে ঘুমা , না হলে আছাড় দিয়ে নাড়ি বের করে দিবো। ইত্যাদি ইত্যাদি।

আমি মেয়েকে শান্ত করার জন্য বললাম-আম্মু কম্বলের নিচে শুয়ে থাকো, বাইরে খুব ঠান্ডা। আমি ভাত খেয়ে তোমার কাছ আসছি। মেয়ে চিতকার করে বলল-আমিও ভাত খাবো।

তখন আমি মেয়েকে বিছানা থেকে কোলে করে নিয়ে আমার পাশে বসিয়ে ভাত  দিতে লাগলাম। এভাবেই সেদিন কাটলো। 

০৪ জানুয়ারী ২০২২। অফিসের কাজে খুব ব্যস্ত। আমার উপর দিয়ে কতোটা চাপ যাচ্ছে। আমি অফিসে  কতোটা বিপদে আছি জান্নাত ভালো করেই জানে। বসেরা এখন আমাকে কেউ আগের মতো স্নেহ করেনা। এর কারনও জান্নাত । কেন বলছি সেটা হলো প্রতিনিয়ত যদি মাথায় এমন পারিবারিক নির্যাতন থাকে, যন্ত্রনা থাকে তাহলে অফিসের কাজে কেমন করে মন বসবে। একের পর এক ভূল হতে থাকে। যা আমার অবস্থানকে নড়বড়ে করে ফেলেছে। আমার ক্যারিয়ার জীবন ধ্বংস করে দিচ্ছে। জান্নাতকে সবই বোঝানো হয়েছে। তারপরও ৫টা বছর ধরে একই মানষিক যন্ত্রনা। জানিনা কতোদিন সহ্য করতে পারবো। কয়েকবার জান্নাতের সামনেই আত্মহত্যা করার চেষ্টাও করেছি তারপরও জ্ঞান হয়না। 

দুই,তিনবার ফোন দিয়েছে জান্নাত। কাজের ব্যস্ততায় এবং আশেপাশে বেশি মানুষ থাকায় ফোন ব্যাক করিনি। ৩য় বার রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে জান্নাত- আমার ভালো লাগছে না তাই ফোন করলাম। 

আমি বললাম কেন কি হয়েছে ?

জান্নাত বলল মনটা ভালো লাগছে না। মনের ভিতর কেমন কেমন করছে। 

আমি আস্তে করে বললাম - একটু পরে ফোন দিচ্ছি। আমি জরুরী কাজ করছি।কাজের থেকে বড় কথা পাশে মানুষ আছে। একটু ফ্রি হয়ে ফোন দিচ্ছি।

জান্নাত বললো- এই অজুহাত আর কতকাল ‍শুনবো। 

আমি বললাম এটা কোন কথা বলার ভাষা না। অফিসে মানুষ থাকবে, এটাই তো স্বাভাবিক। অফিস কি আমার একার ?

জান্নাত আবার বলল- জানি, এসব তোমার ফোন রাখার অজুহাত। 

কথাটা শুনে খুবই খারাপ লাগলো, তাই কোন কথা বলে ফোন কেটে দিলাম।

এক মিনিট যেতে না যেতেই আবার জান্নাতের ফোন, রিসিভ করলাম না। বারবার ফোন দিয়েই যাচ্ছে। 

আমার আত্মসম্মান আর কতো নিচে নামারে ওর এই অত্যাচার শেষ হবে ?

 আমাকে কতোটা নিশ্বেস করে ও শান্ত হবে ?

হয়তো আমার শরীরে প্রান যেদিন প্রান থাকবেনা সেদিন ওরা বুঝবে। 

এতো যন্ত্রনার পরে কিভাবে একটা মানুষ ভালো কথা বলে, মন খুলে হাসে আমি জানিনা। অফিসেতো বাধ্য হয়েই সব লুকাতে হয়। 

রাতে বাসায় ফিরলাম মেয়ের জন্য আমসত্ব ও রান্নার তেল নিয়ে। দেখেলাম ছোলা মুড়ি বানিয়েছে। না খেলে কি না কি হয়ে। তা্ খেলাম। ছোলা মুড়ি খেয়ে সেই যে, মোবাইল নিযে বসেছে , আর কোন খেয়াল নাই। আমি যদি মোবাইল নিয়ে এমন ১০ মিনিট থাকতাম তাহলেই আমার জাতি বেজাতি শুরু হয়ে যেতো।

আমি নিজে ভাত নিয়ে খেতে বসলাম। খেতে খেতে বললাম -চালের দাম বেড়ে যাচ্ছে, ১০/৫ কেজি করে না কিনে , একবস্তা চাল কিনে রাখতে হবে। 

জান্নাত উত্তর দিলো বেতন পেয়েছো তো টাকা খরচ করার জন্য কামড়াচ্ছে। 

আমি এক নজর ওর দিকে তাকিয়ে আর কোন কথা বললাম না। চুপচাপ খেয়ে শুয়ে পড়লাম। রাত ৩টার সময় মোবাইলের টুংটাং শব্দে পাশ ফিরে দেখি জান্নাত মোবাইল চালাচ্ছে। দেখে মনে হলো চ্যাট করছে। সেকেন্ডে সেকেন্ডে টুংটাং শব্দ শুধু চ্যাট করলেই হয়।
এটা যদি আমি করতাম তাহলে হয়তো ঘর ছেড়েই চলে যেতো।

আমি কিছু না বলে চুপ করে শুযে রইলাম। বেশকিছু ক্ষন পর আমি দেখছি আমার সহ্যর বাধ ভেঙ্গে যা্চ্ছে । কখন কি বলে ফেলি তাই বিছানা ছেড়ে , পাশের ঘরের সোফায় এসে বসে রইলাম। শীতের রাত। তাই ঘন্টা দুয়েক পরে  ৫টার দিকে গিয়ে দেখলাম জান্নাত শুয়ে পড়েছে। আমিও আস্তে করে নিজের কম্বল নিয়ে একপাশে শুযে রইলাম। সকালে ৮টায় উঠে গোসল করে অফিসে চলে এলাম। তখনও জান্নাত বিছানা থেকে উঠেনি। তাই সকালের খাওয়া আর হলোনা। হায়রে রিজিক। নিজে ইনকাম করে নিজেই খেতে পারিনা। 

কখনো কোন দিন কোন মেয়ের সাথে এক সেকেন্ডের জন্য কথা বলতে দেখেনি, মোবাইলে  কোন মেয়ের নাম্বারও পায়নি তাই জনে জনে বলে বেড়ায় আমি অগনিত মেয়ের সাথে পরকিয়া করে বেড়াই। মেয়েটার কথা চিন্ত করে সব মুখ বুজে সহ্য করতে হয়। দিনের পর দিন বুঝালাম, গায়ে হাত তুললাম তারপরও ঠিক স্বভাব ঠিক হয় না। 

আমার দৃষ্টিকোন থেকে এর জন্য দায়ী ওর মা ( আমার শ্বাশুড়ি) । কারন ওনি ভালো হলে মেয়েকে ভালো শিক্ষা দিতেন। মেযেকে যতপ্রকার কুশিক্ষা সব ওখান থেকেই আসে। এই চরিত্রহীন অমানুষটি উনার তৈরি। 






Tuesday, December 21, 2021

মরে যেতে ইচ্ছা করে প্রতিটি মূহূর্তে


 বাচার কোন ইচ্ছা বা স্বাদ নাই। যতটুকু ছিলো তাও শেষ হয়ে  গেছে আব্ব মারা যাবার পরে। কারন, ভাবতাম আমার যদি কিছু হয়ে যায় তাহলে হয়তো অসুস্থ আব্বাকে আর বাচানো যাবে না। তারপর আবার আত্মহত্যা মহাপাপ।সর্বপরি সকলের উদ্ধে আমার মেয়ের মুখটা জ্বলে ভেজা চোখের সামনে ভাসে। 

কিন্তু বউ নামক এই  মানুষটার অত্যাচার আর সহ্য  হচ্ছে না। 

১৫.১২.২০২১ দিনগত রাত। তখন ঘড়ির কাটায় ৩টা বাজে। সবাই ঘুমিয়ে, আমার মতো কিছু হতভাগা ও নির্যাতিত পুরুষ ছাড়া। এদের জন্য সকাল থেকে রাত অবধি খেয়ে না খেয়ে মানুষের বকাঝকা শুনে। চুপটি মেরে থাকি শুধু মাত্র এই এর মুখে হাসি ফুটানোর জন্য।অথচ এর তা বুঝতেই চায় না। জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে একে সুখে রাখার চেষ্টা করি।

আর এই কিনা আমার রাতের ঘুমটাও , ‍ঘুমাতে দেয় না। নিজেদের কি মনে করে এক আল্লাহ ভালো জানে।

প্রতিদিনের মতো সুন্দর ভাবে রাতের খাওয়া শেষ করে মেয়েকে কোলে নিয়ে ঘুমাতে গেলাম। ঘুম ভাঙ্গলো জান্নাতের গলা শুনে। মেয়েকে বকছে তোর জ্বালায় একটু ঘুমাতেও পারবো না ? তোকে পেটে ধরে আমার সুখ শান্তি সব শেষ হয়ে গেছে। একটা বাড়া পেটে ধরছি, জীবনটাই শেষ হয়ে গেছে। নরক যন্ত্রনা ভোগ করছি ইত্যাদি ইত্যাদি ।

আমি শোয়া থেকে পাশ ফিরে আস্তে করে বললাম -মাঝরাতে কি শুরু করলা তুমি।অবলা নিশ্পাপ বাচ্চাটাকে সব সময় এমন আজে বাজে কথা বলো, কি সমস্যা তোমার ? এটা কি কোন মানুষের ব্যবহার ?

জান্নাত খেকিয়ে উঠলো আমার উপর-তোমার কি সমস্যা ?

এতোরাতে মানসম্মানের ভয়ে চুপচাপ থাকলাম। ভীতরটা দাউ দাউ করে জ্বলছে, চোখ বেয়ে পানি পড়ছে।  এসব কি একদিন , দুদিন পর পর। কোন সিদ্ধান্ত নিতে গেলেই মেয়ের মুখটা চোখের সামনে ভেসে আসে। ওরাও এই দুর্বলতা কাজে লাগিয়েই যা না তাই করে। মানুষকে মানুষ হিসাবে মনে করেনা। এগুলো পরিবারের কু-শিক্ষা। যা সমাজ পরিবার ভেঙ্গে তছনছ করে দিচ্ছে। মানুষকে প্রতিনিয়ত মরন যন্ত্রনায় পতিত করছে। 

আমার শুধু মেয়েটাকে নিয়ে ভয় হয়। সারাক্ষন মেয়েটাকে যেভাবে বিশ্রি ভাষায় কথা বলে কোন , শালীন , ভদ্র পরিবারের মা, তার সন্তানের সাথে এমন ব্যবহার করে কিনা আমার জানা নাই।

কথায় আছে বোবার শত্রু নাই। কিন্তু এক্ষেত্রে পুরোটাই উল্টো। চুপ থাকলেও নিস্তার নাই। প্রতিনিয়ত এমন পরীক্ষায় পতিত হচ্ছি যে, কতোক্ষন উত্তর না দিয়ে থাকবা। কখন যেন মুখ ফসকে কি বের হয়ে যাবে, শুরু হবে ঝগড়া তাই আস্তে  করে বিছানা ছেড়ে বারান্দায় গিয়ে বসলাম। যদিও শীতের রাত , শীতের কষ্ট ও মশার কামড় উপলব্ধি হচ্ছে না। শুধু আল্লাহকে বলছি আল্লাহ আমার বাচ্চাটাকে তুমি রক্ষা করো, হেফাজত করো। আর ওর মাকে হেদায়েত দান করো। 

ওর এই অত্যাচারে আমি কয়েকবার অত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছি। সেটা কি ও ভূলে গেছে,  নাকি আমার মৃত্যূই ওর কাম্য। তা না হলে দুদিন একদিন পর পর কেন এমন করবে। 

মেয়েটা জোরে চিতকার করে কেদে উঠলো। আমার ভীতরটা কেমন যেন হয়ে গেলো। দৌড়ে ঘরে গেলাম, ভাবলাম মেয়েটার গলা টিপে ধরলো কিনা। ওর পক্ষে কোন কিছুই অসম্ভব নয়। মানুষ হলে তো অশান্তিই করতো না। আমি দেখলাম মেয়ে শুয়ে কাদছে আর ও পাশে বসা। মশারি উচিযে আমি মেয়েটাকে কোলে তুলে নিলাম। এই পর্যন্ত আমি সব শুনে যাচ্ছি কোন কথার উত্তর দিচ্ছি না। আমি মেয়েকে কোলে করে আমার কাধে মেয়ের মাথা রেখে ঘুম পড়ানোর চেষ্টা করছি আর বলছি , আম্মু কি হয়েছে কাদছো কেন ? ভয় পেয়েছো ? কোন ভয় নাই  ইত্যাদি ইত্যাদি ।

ওদিকে জান্নাত আমার আশপাশ দিয়ে ঘুরছে আর বিড়বিড় করে গালিগালাজ করছে যা , আমি পরিস্কার শুনতে পাচ্ছি। 

আমার সহ্য হলোনা। আমার ডান কাধে মেয়ে। তাই বাম হাত দিয়ে মারলাম কয়েকটা থাপ্পড়। থাপ্পড় খেয়ে খাটের উপর পড়ে গিয়ে বলে আমায় আর মারিশ না, আমায় মাফ করে দে, আর এমন করবো না। আমায় মাফ করে দে এমন ভাষা যাখন ছাড়লো তখন আরো দটো মারলাম। তখন আমার মনে হলো কতোটা দুষিত রক্তের  জন্ম হলে এমন ভাষা ব্যবহার করে এবং প্রতিনিয়ত কোন কারন ছাড়াই সংসারে অশান্তি করে। 

পরক্ষনেই দেখি জান্নাতের ঠোটে কিঞ্চৎ রক্ত। বুঝলাম দাতের সাথে লেগে ঠোট কেটে গেছে। খুব খারাপ লাগলো। জান্নাতকে কাছে টেনে বললাম-সরি। তুমি যা শুরু করেছিলে আমি নিজেকে সামলাতে পারিনি। 
 

৩০.০৪.২৬

ভেবেছিলাম ২৫ সালের পর আর কিছু লিখবো না কিন্তু পারলাম না।  আজ সকালে খুব বৃষ্টি হচ্ছিলো। মেয়ের পরীক্ষা তাই তাকে স্কুলে নিয়ে যেতে হবে। প্রচন্ড ...