Saturday, January 21, 2023

21.01.2023


 পৃথিবীতে আমার সবচেয়ে বড় শত্রু আমার ঘরের বউ। সারাক্ষন আমাকে টেনে ধরে রাখে। তার অনেক কিছু চাই। কিন্তু সব কোন প্রকার কষ্ট ছাড়া। সে চায় রাত বাদেও দিনের ১২ ঘন্টার মধ্যে ৭ ঘন্টা আমি তার কাছেই থাকি। নাটক সিনেমা দেখে দেখে তার স্বভাবটাই খারাপ হয়ে গেছে। সব কিছু নাটকের মতো মনে হয় তার কাছে। 

আমার আত্মসম্মান মর্যাদা বলে তার কাছে কিছুই নাই। সে শুধু নিজেকে ছাড়া কিছুই বোঝে না। ও হ্যা বোঝে কিন্তু সেটা বলতে পারছি না এবং বলার মতোও না।

সকালে আমি না খেয়ে অফিসে চলে আসছি, তখনই বোঝা উচিত ছিলো যে অফিসে কেমন চাপ যাচ্ছে। আর চাপ যদি নাই যায় তবুও আমি পরের চাকরী করি সময় মতো তো হাজির হতেই হবে। বস যেখানে যখন যে অবস্থাতে আমাকে পাঠাক আমি তো যেতে বাধ্য। আমি খেয়েছি কি না খেয়েছি সেটা তো বসের দেখার বিষয় না।  রক্ত পানি করে উপার্জন করে যাকে দিচ্ছি সেই বউই বোঝে না। বউ যেখানে দুপুরে ফোন করে জানতে চাইবে দুপুর হয়ে গেছে এখনো সকাললে নাস্তা করেছিলাম কিনা, দুপুরের খাবার খেয়েছি কিনা  তাই নয় কি ? নাকি আমি ভূল বললাম ?

অথচ ফোন করেই জানতে চায় কোথায় আছো ??

উত্তর রাইরে মিটিং এ পাঠিয়েছে সেখানে ।

শুরু হয়ে যায় আজব গজব বাক্য । মনে হয় তখনই যদি মৃত্যু হয়ে যেতো হয়তো শান্তি পেতাম। মানুষের মাঝে না পারি কথার উত্তর দিতে না পারি কষ্ট গুলোকে হাসির মাঝে উড়িয়ে দিতে। চেহারায় একটা ফিকে ভাব থেকেই যায়। তারপর থেকে নিজের কাছে মনে হয়। সবাই মনে হয় আমাকে নিয়ে কানাঘসা করছে। আমার সম্পর্কে কি বিরুপ ভাবছে ইত্যাদি।

ভালোবেসে যাতে জান্নাত নাম  দিয়েছিলাম সেই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্ট ও জাহান্নামের নাম। ওকে বোঝানোর  অনেক চেষ্টা করেছি । গায়ে হাত তুলেছি, বিছানা আলাদা করে দিয়েছি, কোন প্রকার কথা না বলে চুপচাপ থেকেও দেখেছি। এমনকি কোন ফল হয়নি। 

আজকের কথাই বলি দুুপুরের খাওয়া শেষ করে অফিসে এসেছি । অফিসে বেশ কয়েক জন মানুষও আছে। এমন সময় ফোন প্রথমবার রিসিভ করলাম না। মিনিট পার হতে না হতে আবার ফোন। 

বুঝতে পারলাম রিসিভ না করা পর্যন্ত দিতেই থাকবে। আমি যে অফিসে রিজিকের সন্ধানে এসেছি এখানে কর্মব্যস্ততা থাকতে পারে সেই জ্ঞান, এই মানবীর ভিতর অনুপস্থিত। তাই এক প্রকার বাধ্য হয়েই ফোন রিসিভ করলাম। আমি হ্যালো বলার সাথে সাথে ওপাশ থেকে ভেসে এলো এমন কথা “ আমি মেয়েকে নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছি। আমার ঘরের ভিতর ভালো লাগছে না। যেদিকে দুচোখ যায় সেদিকে চলে যাবো। 

আমি হেসে হেসে উত্তর দিলাম- মনে হয় তুমি পাগল হয়ে গেছো , এখন ফোন রাখো।  মানুষের সামনে এর বেশি হয়তো আমার বলার কিছুই ছিলো না। 

আমার উত্থান ও উন্নতির পথে একমাত্র বাধা এই মানবী। মানুষের স্ত্রী হয় উৎসাহ ও অনুপ্রেরনার দৃষ্টান্ত, আর আমার স্ত্রী আমাকে কিভাবে ধ্বংস করবে সেই ফন্দিই সারাদিন তার মাথায় ঘুরপাক খায়। 

এই ব্যবহার একদিন, একমাস বা একবছরের নয়। প্রতি নিয়ত সপ্তাহকে সপ্তাহ আমি যেন পাগল হয়ে যাচ্ছি। মানসিক যন্ত্রনা ও কষ্টর  এক মহাসাগর আমার ঘরে। 

Monday, December 5, 2022

05.12.2022





এ এক অদৃশ্য যন্ত্রনা। কাউকে বোঝানো যায় না। প্রকাশ করাও যায় না। প্রতিদিন একই কথা, সকাল সন্ধ্যা।
সকাল ১০টায় অফিসে অসার পর এক এক করে কাজের চাপ বাড়তে থাকে। এর মধ্যে জান্নাত বার বার ফোন দিতে থাকে। ফোনে জান্নাতের একটাই কথা, আমার মন ভালো লাগছে না। 
কখন অফিসে থেকে আসবা ?
আমি এখন কি করবো ?
জান্নাতের এসব প্রশ্নের কোন উত্তর আমি খুজে পাইনা। কারন ঘন্টা দুয়েক আগে বাসা থেকে এলাম। মানুষের সামনে না পারি কোন উত্তর দিতে। না পারি বুঝিয়ে কিছু বলতে। চুপচাপ জান্নাতের কথা হজম করতে হয়। 
যাই হোক এভাবেই সকালের অফিস শেষ করে ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যো বাসায় পৌছে গেলাম। গোসল খাওয়া দাওয়া। শেষ করে মেয়ের সাথে জান্নাতের সাথে একটু দুষ্টিুমি করে সাড়ে চারটার সময় অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা করলাম। সাড়ে ৬ টার দিকে আবার ফোন শুরু হলো। জান্নাতের ভাষার কোন পরিবর্তন নাই।  সেই একই রকম কথা কখন আসবা ? অফিসে কি করো ? আমি এখন কি করবো, আমার মন ভালো লাগছে না। কিছু ভালো লাগছে না। তুমি স্বামী নামের কলঙ্ক । আমাকে একটুও সময় দাও না। 
তখন আমি বললাম এইযে, সাড়ে চারটা পর্যন্ত বাসায় থাকলাম তখন কাকে সময় দিয়েছি ? তার পর জান্নাতের যে সব ভাষা বের হতে লাগলে তা উচ্চারন করাও লজ্জাকর। 
জান্নাত সবই জানে তারপরও আমাকে যন্ত্রনা দিয়ে কি পায় । এক আল্লাহ জানে। 
ওর ভিতরে তীল পরিমান লজ্জা নাই। এতো বুঝালাম, বকাঝকা করলাম, গায়ে পর্যন্ত হাত তুললাম, ওর বাবা মাকে অপমানর সাথে কথা বললাম তারপরও বাজে স্বভাব বদলালো না।
যে মেয়ে নিজের বাবা মাকে অপমান করতে পারে তার মধ্যে আবার কি গুনাগুন থাকতে পারে আর  মানুষকে ভালো রাখার গুন তো দুরের কথা। 
আমার মেয়ের কথাতো বাদই দিলাম। কথায় কথায় মেয়েকে গালিগালাজ করতে থাকে। চিতকার করে বাজে কথা বলতে থাকে। মেয়ের বয়স মাত্র তিন বছর। 
তিন বছরের মেয়ে যদি তার ভূলের কারনে এমন বাজে বাজে কথা শোনে, তাহলে যে ধামড়ি বকছে তার ভূল হলে তাকে কি করা দরকার ?

Thursday, June 16, 2022

16.06.2022

 


এভাবেই চলছে দিন। আমি জান্নাতের সাথে তেমন না পারতে কথা বলিনা। অফিস থেকে বাসায় গিয়ে নিজের মতো করে ভাত তরকারী নিয়ে খেয়ে দেয়ে শুয়ে থাকি। জান্নাত ও তার মতো। সারাদিন মোবাইল নিয়েই থাকে। সকালে আমার ঘুম ভাঙ্গে ওর মোবাইলে কথা বলার শব্দে, আবার রাতে বাসায় ফিরেও দেখি সেই মোবাইল হাতে। আমি নিজের মতো করে হাতমুখ ধুয়ে, প্লেট ধুয়ে ভাত নিয়ে খেতে বসি। 

পক্ষান্তরে আমি আমি অফিস থেকে বাসায় ফিরে খাওয়া দাওয়া শেষ করে । যদি একটু মোবাইল নিয়ে বসি তাহলে জান্নাতের মুখের দিকে তাকানো যায় না। মুখ খানা মুখপোড়া হনুমানের মতো করে এমন ভাব করে যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। 

সকালে আমি সেভ করছি জান্নাতের চিতকার, আমার উদ্দেশ্যে তোমার স্বাভাব এখনো ভালো হয়ন। আমি কোন উত্তর দিচ্ছি না। এবার আমার কাছাকাছি এসে বললো ঐ মেয়ের সাথে তোমার এখনো যোগাযোগ আছে। 

আমি বললাম - জুতা দিয়ে পিটিয়ে মুখ ভেঙ্গে দেবো। এই বেয়াদপ কোথার মেয়ে। 

জান্নাত বললো- এই যে রানু তোমাকে  ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছে। আমি বললাম দেখি কোথায় ?

দেখলাম রোহান তানভির নামে একটা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পেন্ডিং । প্রায় ১বছর আগে পাঠিয়েছে। নামের উপরে  ৩২ ডব্লিউ লেখা (32w)। তাতে বুঝলাম ৩২ সপ্তাহ আগে রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছে। আমি জানিনা এই রোহান তারভির কে ? কিন্তু জান্নাত জানে। ও বলছে এটা রানুর ছেলে। 

আমি জান্নাতকে বললাম তুমি, তোমার এই স্বভাব ছাড়ো। ভালো হয়ে যাও। কে শোনে কার কথা। মানুষ হলে তো শুনতো। শুরু করলো গালিগালাজ আজে বাজে কথা, সাথে মেয়েকে ও গালিগালাজ। রাগে আমার শরীর জ্বলতে লাগলো। কোন কথার কোন উত্তর না দিয়ে অফিসের  উদ্দেশ্যে রওনা করালাম।  

আল্লাহ ভালো জানে কতো দিন আমার আর আমার নিস্পাপ মেয়ের এই নির্যাতন সইতে হবে। মেয়েটা যদি বিছানায় একটু পানি ফেলে , সাথে সাথে মেয়েকে বিশ্রি ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে আর বলতে থাকে  এই সংসারে আর শান্তি নাই। বালের সংসার, বালের একটা মেয়ে, জীবনটা ধ্বংস করে দিলো। জীবনটা কয়লা করে দিলো ইত্যাদি। আবার রাতে বা দিনে মশায় কামড়ালেও সংসারের আর আমার মেয়ের দোষ। শুরু হয় গালিগালাজ। 

১৩ই জুন জান্নাতের জন্মদিন ছিলো। একটা মোবাইল কিনে দিয়েছি। ভালো মন্দ কিছুই বললো না। তারপরও আমার মোবইল নিয়ে টিপতে থাকবে। আমি কয়েকবার বলেছি। আমি তো তোমার মোবাইল ধরি না। তুমি আমার মোবাইল ধরবা কেন ? জান্নাত বলে। আমার মোবাইল তুমি ধরতে পারবা না কিন্তু আমি তোমার টা ধরবো। যা খুশি তাই করবো। 

আমি কোন উত্তর দিলাম না।  

Friday, June 3, 2022

03.06.2022

 

৭ মে ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষ করে ঢাকার পথে রওনা করি। কোনো গাড়ির টিকিট না পেয়ে অবশেষে কাটা লাইনে রওনা হতে হলো। মাওয়া ঘাটে আসার পর জান্নাত জিদ ধরলো ফেরিতে পার হবে। লঞ্চে ওর ভয় লাগে।  সাতার জানেনা তো তাই এই জিদ। বুঝতে পারলাম ওর সমস্যাটা তাই , সবাই গাড়ি থেকে  নেমে ছুটছে লঞ্চ ঘাটের দিকে আমি ছুটছি উল্টোদিকে। একটা ভ্যানে করে ফেরিঘাটের দিকে ছুটলাম। ভ্যানওয়ালা যে ঘাটে নামালো সেখানে ফেরি নাই। ফেরি ভিরছে অন্য ঘাটে তাই ছুটলাম সেদিকে। ফেরির স্লাব নামানোর আগেই বেয়েছেয়ে শত শত লোক ফেরিতে পড়ে বসেছে। আমিও বাধ্য হয়ে জান্নাতকে নিয়ে সেটাই করলাম। ফেরিতে ওঠার পরে আর জানে জান নাই।

যেমন রোদ তেমন গরম, আমার ঘাড়ে ব্যাগ আর মেয়ে কোলে। দাঁড়ানোর যেখানে জায়গা নাই সেখানেতো বসার কথা চিন্তাই করা যায় না। মেয়েও তেমনি নাছোড় বান্দা কোল থেকে নামবে না। মেয়ে ঘেমে নেয়ে একাকার, মেয়ের গায়ের জামা খুলে দিলাম। আমার নাক মুখ কপাল বেয়ে ঘাম পড়ছে। মেয়ে তার জামা দিয়ে আমার মুখের ঘাম মুছে দিচ্ছে। এ যেন প্রবল ক্ষরার মাঝে প্রশান্তির সুশীতল বাতাস।জান্নাতও আমার পাশে দাড়িয়ে। ঘাট পর হয়ে এবার পরিবহনে ওঠার যুদ্ধ। অনেক ঠেলাঠেলি করে আমি প্রথমে গাড়িতে উঠলাম। হাতেও একটু ব্যাথাও পেলাম। তারপর সিট বুক করে জান্নাতকে গাড়িতে উঠালাম।

ঢাকার বাসায় পৌছাতে পৌছাতে রাত ৮ টা বেজে গেলো। বাসায় পৌছেই জান্নাত কাপড় খুলছে আর বলছে এতো কষ্ট করে মানুষ যায় , এর পর থেকে আমি আর বাড়ি যাবো না। তুমি একা একা যাবা। আমি কোন উত্তর দিলাম না। শুধু মনে মনে বললাম এমন ভাব আর এমন কথা বলছে, আমার মেয়ে আর আমি যেন অতি আরামে উনার কোলে  উঠে এসেছি। জান্নাত নিজের মতো বকবক করতেই লাগলো । আমি কোন উত্তরা না দিয়ে বাজার করার জন্য বের হয়ে গেলাম। কারন ৮দিন পর ঢাকায় আসলাম। চাল ছাড়া ঘরে আর কোন বাজার নাই।

পরের দিন জান্নাত বলছে, হঠাৎ জান্নাত আমাকে বলছে তোমাকে দিয়ে কিছু হবে না। আমি জান্নাতের মুখের দিকে চেয়ে পড়লাম। জান্নাত বললো  এই কয়টা দিন থেকে আসলাম আমাকে একটু কোথাও ঘুরতে নিয়ে গেলে না। কতো আশা করেছিলাম ক্যান্টমেন্ট যাবো, ভূতের আড্ডায় যাবো। আমার কোন আশা কোন দিন পুরন হয় না। কপাল নিয়ে এসেছে ওরা। 

আমি কোন উত্তর না  দিয়ে ওর মুখের দিকে চেয়ে আছি। 

জান্নাত আবার বলতে শুরু করলো , আমারা চলে আসার পরের দিন তোমার ছোট ভাই তার বউকে নিয়ে বেড়াতে গেছে। ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে বউ পালা শেখো। তোমার তো মুরদ নাই।

আমি বললাম তুমি বলছো , বুঝতে পারছো। 

জান্নাত মুখটা বিকৃত আকারের করে বললো , হয় আমারই তো তোমাকে আর তোমার মেয়েকে বুঝতে হবে। আমারে বোঝার কেউ নেই। যেদিন পরপুরুষের কাছে চলে যাবো , সেদিন বুঝবা।

আমি কোন কথার উত্তর না দিয়ে পাশের রুমে চলে গেলাম। 

তার একদিন পরে ১০ তারিখে দুপুরের খাওয়া শেষ করে শুয়ে আছি। মেয়ে আমার বুকের উপর শুয়ে আছে। মেয়েকে সরিয়ে দিয়ে আমার বুকে মাথা রেখে শুয়ে পড়লো জান্নাত। আমি এক হাত মাথার উপর আর এক হাত দিয়ে জান্নাত কে জড়িয়ে রাখছি। জান্নাত বললো আমাকে কোলে নাও। 

আমি বললাম তুমি তো আমার কোলের ভিতরেই আছো। আর কিভাবে কোলে নিবো ? 

জান্নাত উত্তর দিলো পরপুরুষ যখন কোলে নিবে তখন দেখে দেখে শিখে নিও। তোমার ছোট ভাই কেমন করে দেখোনা।

 আমি বললাম আমি কি ওদের ঘরে ডুকে বসে থাকি। 

জান্নাত বললো -ঘরে ডুকে বসে থাকা লাগে, আন্দাজ করলেই তো হয়। ওরা সারাদিন ঘরের মধ্যে ডুকে করে কি।

 আমি কোন উত্তর না দিয়ে পাশের রুমে চলে গেলাম। মিনিট দুয়েক পরে জান্নাত  এসে আমার পাশে বসে তুমি এখানে বসে আছো কেন? আমি তো ভেবেছি তুমি বাথরুমে গেছো।

আমি খুব রাগান্বিত কন্ঠে বললাম- যা এখান থেকে, সর আমার পাশ থেকে জানোয়ারের বাচ্ছা জানোয়ার।

জান্নাত ও খুব রেগে গিয়ে বললো আমার কিন্তু এই ব্যবহার মনে থাকবে।

আমি ধমক দিয়ে বললাম আবার কথা বলিস, বেয়াদব।

Thursday, June 2, 2022

03.06.2022



 আজ প্রায় ১ বছর পর আবার প্রচন্ডভাবে অত্যাচারিত হয়ে জান্নাতকে কয়েকটা চড় থাপ্পড় মারলাম।

তখন সকাল সাড়ে ৬টা। জান্নাত প্রচন্ড বেগে চিল্লাতে লাগলো। এই ওঠো, এ-ই এ-ই। আমি ধরফরিয় লাফিয়ে উঠে, জান্নাতকে বললাম কি হয়েছে বলো। জান্নাত আমার দিকে তাকিয়ে একরাশ ঘৃনার ভরা চোখে তাকিয়ে, ঝাঁজালো কন্ঠে চিৎকার করতে লাগলো - এভাবে ক সংসার হয়ে?  এভাবে মানুষ বাঁচতে পারে?এটাকে কি জীবন বলে?

আমি হাত ইশারা করে বললাম আস্তে,আস্তে সাত সকালে তুমি এমন করছো কেনো?  কি হয়েছে বলো?  দাতে ব্যাথা বেড়েছে নাকি শরীর খারাপ লাগছে? 

জান্নাত বললো আরে রাখো তোমার দাতে ব্যাথা। তুমি আমাকে একটুও আদর করনা, আমার কাছে আসোনা, ইত্যাদি ইত্যাদি বকবক করতে লাগলো।

আমার বুকের উপর পা তুলে দিয়ে গলা জড়িয়ে শুয়ে থাকা আমার কলিজার টুকরো টাকে আস্তে করে পাশে সরিয়ে দিয়ে জান্নাতে হাত বাড়িয়ে ডাকলাম, আসো কাছে আসো। এখানে পাশে শুয়ে পড়ো। ২ থেকে ৩ বার ডাকলাম কিন্তু কাছে না এসে জান্নাত বললো তোমার কিছু আছে?  কোনো অনুভূতি আছে?  তুমি তো হিজড়া হয়ে গেছো। 

আমি আরও কোনো কথা না বাড়িয়ে পাশ ফরে চুপচাপ শুয়ে রইলাম। জান্নত একা একা বকবক করতে লাগলো। আমি না শোনার ভান ধরে চুপচাপ রইলাম।

মিনিট ২ পরে জান্নাত আমার পা ধরে নাড়িয়ে নাড়িয়ে বলছে। এই কি বলছি তুমি শোনো না, শুনছো। ৩ থেকে ৪ বার এমন করার পর আমি বললাম। কি শুনবো?  তোমার এমন বাজে কথার কোন উত্তর আমার কাছে নাই।

জান্নাত উত্তর দিলো, বাজে কথা না উচিত কথা। উচিত কথা বললেই তোমার গায়ে লাগে। তখন উঠে গিয়ে কষে দুটো থাপ্পড় মারলাম। আর বললাম আমার খেয়ে পরে, আমার বুকে শুয়ে তুমি পরপুরুষের গুনগান করো,  তোমাকে অধঘন্টা করার পরেও, বলো এটুকু পারো, তোমার সব শেষ হয়ে গেছে, ১ থেকে ২ দিন তোমার কাছে না গেলে আমাকে হিজড়া বলে সম্ভোধ করছো। আবার তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা, অনুভূতি চাও।

আবার আমি যখন তোমাকে বোঝানোর শুরে বলি, তুমি এমন করে কেনো বলতেছো?  আমি তো কখনো তোমাকে কারো সাথে তুলনা করনি। তখন তোমার উত্তর আসে,  আমি হিজড়া গেছি, তোমার সাথে কারো তুলনা করার যোগ্যতা আমার নাই।

জান্নাত চুপ করে রইলো, কিন্তু এ-ই চুপ বোধোদ্বয়ের নয়। বুঝতে পারলাম যখন বিয়ের সময় পরানো আংটি ওনাকফুল খুলে ছুড়ে দিলো। আমিও কোনো কথা না বাড়িয়ে আংটি ও নাক ফলটা কুড়িয়ে এনে কাগজে পেচিয়ে যত্ন করে রেখে দিলাম। আর কোন কথা না বলে অফিসে আসার জন্য রেডি হতে লাগলাম। যদিও অফিসে আসার সময় হয়নি। জান্নাত বললো - তোমার কিডনি বিক্রি করে হলেও আমার দেন মোহর পরিশোধ করে দাও। আমি আর সংসার করবো না। আরও বললো তুমিতো আমার অত্যাচারে আত্মহত্যা করতে চাও , যাও করো গিয়ে, দেখি কেমন পারো।

আমি কোন কথা না বলে ঘর থেকে বের হয়ে চলে এলাম।

আগের দিনের ঘটটনাটা একটু বলি।

 ০১.০৬.২০২২ দুপুরে অফিস থেকে বাসায় এলাম লাঞ্চ করার জন্য। গোসল করে যখন খেতে বসলাম, আমি নিজে খাচ্ছি এবং মেয়েকে খাওয়াচ্ছি।

জান্নাত বললো- তোমার ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে তোমার শিক্ষা নেয়া উচিত। কপাল নিয়ে আইছে ওরা। সোনার কপাল। আর আমার  পোড়া কপাল।

আমি শুধু জান্নাতে দিকে একবার চেয়ে দেখলাম,  কোনো উত্তর দিলাম না। এই  কথা আমি প্রতিনিয়ত শুনছি। 

যেমন পাশের বিল্ডিংএর ওই বেটা , তার বউকে নিয়ে ঘুরতে বের হচ্ছে। ঐ বেটা এখন বাসায় তুমি কেনো এখনো অফিসে ইত্যাদি ইত্যাদি যা সহ্য করা আমার পক্ষে খুবই কঠিন হচ্ছে।

Wednesday, April 27, 2022

27.04.2022


 রমজান মাসটা মোটামুটি ভালোই কাটছিলো। জান্নাত এক হুজুরের মাহফিল শুনে বুঝতে পারলো যে, ও আমার সাথে অনেক অন্যায় করেছে। আমাকে অনেক নির্যাতন করেছে। 

আমি ইফতারের পরে অফিসে আসার জন্য রেডি হচ্ছি এমন সময় জান্নাত এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে কেদে ফেললো। আমি বললাম কি হয়েছে ? এমন করছো কেন ?

জান্নাত বললো আমি তোমার সাথে অনেক অন্যায় করেছি। তোমাকে অনেক যন্ত্রনা ‍ দিয়েছি। আমাকে ক্ষমা করে দাও। 

আমি কি বলবো ঠিক বুঝতে পারলাম না। চুপচাপ থাকলাম। আর মনে মনে বললাম আলহামদুলিল্লাহ।  কিন্তু শুধু বুঝলে হবেনা কাজেও লাগাতে হবে।

এক সপ্তাহ পরেই জান্নাত আবার নিজের রুপে ফিরে এলো। ২০ রমজান থেকে শুরু করে দিয়েছে নানা অসৌজন্য মূলক আচরন। যেমনঃ আমরা এবার ঈদে বাড়ি যাবোনা। তুমি বেশি টাকা পয়সা খরচ করতে যেয়োনা। কারো জন্য কিছু কিনবা না। আমাদের কে কি দেয়। 

বাসায় গেলেই একা একা শুরু করবে। এই একই কথা প্রতিদিন। আমি রেগে গিয়ে একদিন বললাম। আব্বা মারা গেছে ৬ মাস আগে , আম্মা বাড়ি একা। এই প্রথম আব্বাকে ছাড়া ঈদ করছে। একটাবার মানুষের মতো করে ভেবে দেখো, জানোয়ারের রুপে থাকলে কোনদিন এসব বুঝবে না।

আমি যেদিন রোজা রাখছি না, সেদিন দুপুরে বাসায় গিয়েও কোন খাবারের বন্দবস্ত নাই। ক্ষুধায় চরম খারাপ লাগে তারপরও কিছু বলি না। আমি যখন কাজে খুব ব্যস্ত থাকি তখনই জান্নাতের ফোন আসে। কোন জরুরী কথা নয়। কথা হলো কখন বাসায় আসবা, আমার একা একা মেয়েকে সামলাতে খুব কষ্ট হয়ে যাচ্ছে, দরাকারের সময় কোনদিন তোমাকে কাছে পেলাম না। তুমি কোনদিন আমার কোন উপকারে আসালে না। ইত্যাদি ইত্যাদি। 

জান্নাতের মনে হয়, ঘরের মধ্যে থেকে শুধু মেয়েটার খেয়াল রাখবে, এটা অনেক বড় ঝামেলার কাজ। আর আমি অফিসে এসে ঘুমাই। এখনতো রমজান মাস, দুপুরে রান্নার ঝামেলা নাই। তাই এতো কথা।

প্রতিদিন জান্নাত কোন কারন ছাড়াই চিল্লাচিল্লি করতে থাকে । আমি কোন কথার উত্তর দেই না। চুপচাপ শুধু শুনি। এবং নানান কথায় টপিক অন্যদিকে নিতে চেষ্টা করি। সেখানেও বিপত্তি। জান্নাতের চিল্লাচিল্লির কেনো উত্তর দেই। টপিক কেন অন্যদিকে নিয়ে যাই। 

 আমি অফিসের কাজে কক্সবাজার গিয়েছিলাম ২ দিনের জন্য। তখন অনিক ( জান্নাতের ভাই ) এসেছিলো। বাসায় থাকার জন্য।

১৬ রমজানে অনিক রাড়ি চলে গেলো। আমি কতো করে অনুরোধ করলাম বোঝালাম যে ঈদের আগে রাস্তায় প্রচুর জ্যাম হবে।  তোমাদের নিয়ে রাড়ি যেতে খুব কষ্ট হবে। বাস-ট্রেন কোন পরিবহনের টিকিট পাওয়া যায় না। আর অফিস কবে বন্ধ হবে ঠিক নাই। সুযোগ আছে, আমি ট্রেনের টিকিট কেটে দিচ্ছি , তুমি মেয়েকে নিয়ে অনিকের সাথে খুলনায় চলে যাও।কোন ভাবেই গেলো না। 


প্রতিদিন অশান্তি সৃষ্টি করার জন্য একটার পর একটা ঝামেলা করতে থাকে।  যেমন ২৪ রমজান দিবাগত রাতে আমি পাশের রুমে নামাজ পড়ছি। জান্নাত দেখেছে  মন্তব্য ও করেছে যে, এতো রাতে কিসের নামাজ পড়ছে আল্রাহ ভালো জানে। তারপরও রুমের দরজা ভিতর  থেকে আটকে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। আমি নামাজ শেষ করে দরজা বন্ধ পেয়ে খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। ঘন্টাখানেক সোফায় বসে থেকে আবার দরজা নক করলাম। বেশি জোরে শব্দ করতে পারছি না, লজ্জায় কারন নিচের ফ্লাটের মানুষ যদি শব্দ শোনে কি মনে করবে। তখন রাত সাড়ে ১২টা বা ১টা হবে। শব্দ অনেক দুর পর্যন্ত শোনা যাবে। বেশকিছুক্ষন পর জান্নাত দরজা খুললো। আমি কিছু না বলে , নিজের জায়গায় শুয়ে পড়লাম।

পরের দিন ইফতারের পর আমি ইউটিউবে একটা ব্যবসার ভিডিও দেখে জান্নাতকে ডাকলাম দেখো খুব ভালো একটা আইডিয়া পেয়েছি। জান্নাত আমার কাছে আসলো তখন আমি ফেসবুক চালাচ্ছি । ফেসবুকে কে বা কাহারা একটি মেয়ের ছবি পোষ্ট পড়েছে সেটা আমার স্কিনেও দেখা যাচ্ছে। শুরু হয়ে গেলো জান্নাতের ফালতু প্যাচাল-এই মেয়েটা কে ? এই সব করে বেড়াচ্ছো।

আমি যতই বোঝাতে চেষ্টা করছি যে, ততই বেশি বেশি চিল্লাচ্ছে। তখন আমারও প্রচন্ড রাগ হয়ে গেলো কারন জান্নাত প্রতিনিয়ত এভাবে আমাকে চরিত্রহীন প্রমান করার চেষ্টা করে। আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলে। যার কোন ভিত্তি নাই। তখন আমি জান্নাতকে খুব গালিগালাজ করলাম। 

Tuesday, April 5, 2022

05.04.2022

 


আজ ২০২২ সালের ৩য় রমজান। রমজানে আমার অফিসের রুটিন পরিবর্তন হয়েছে। সকাল ১০ টায় অফিসে আসি দুপুর ২টা থেকে ৩ টার মধ্যে বাসায় চলে যাই। ৬ টা ২০ মিটিটে ইফতার করে, নামাজ পড়ে ৭ টা থেকে সাড়ে ৭টার দিকে বাসা থেকে অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা করি। 

প্রতিদিন অফিসে আসার পর ঘন্টা পার হতে না হতেই জান্নাতের ফোন আসতে শুরু করে। সেই পুরোনো প্যাচাল। কখন বাসায় আসবা। আমার শরীর ভালো লাগছে না। মেয়েটা বিরক্ত করছে  ইত্যাদি ইত্যাদি। প্রতিদিন কানে মেয়ের কান্নার আওয়াজ শুনেতে পাই। যদি জিজ্ঞাসা করি জিদনী কাদছে কেনো ?

জান্নাতের উত্তর ইচ্ছা মতো মারছি। খুব বিরক্ত করছিলো। 

আমার কলিজাটা কষ্টে ফেটে যায়। আর কতো বুঝাবো ?

আমি জান্নাতকে কয়েক হাজারবার বলেছি যে, দেখো মেয়েটার তুুমি আর আমি ছাড়া কেউ নাই। দাদা-দাদী , নানা- নানী কেউ কাছে থাকে না। আদর ভালোবাসা যা পাওয়ার তোমার আমার কাছ থেকেই পায়। আমি সারাদিন অফিসে থাকি, ওর যা কিছু চাওয়ার পাওয়ার সব তোমার কাছে। মেয়েটার উপর এমন অবিচার করোনা। এটা খুবই খারাপ কাজ।

কে শোনে কার বুঝ। শুরু করে নিজের অমানুষিক রুপটাকে আরো ফুটিয়ে তোলার বিষবাক্য। যেমন -আমার মনে হয় ওকে মেরে ফেলি। এতো বেয়াদপ হয়েছে যা, বলার না। আমার একটুও শান্তি নাই। 

আজ ৫টা বছর ধরে জান্নাত নিজের অমানুষিক ব্যবহার , আচরনের কারনে পুরো সংসারটাকে নরক বানিয়ে রেখেছে। হাজার বুঝানোর পরেও বোঝে না। আর এই নিস্পাপ বাচ্চা মেয়েটা ওর কথা না শুনলে ইচ্ছা মতো শারিরিক নির্যাতন করে। বাচ্চার শাস্তি যদি এই হয় তাহলে ওর শাস্তি কি হওয়া উচিত।

আমি জান্নাতকে বলি জীদনিকে মেরে ফেললে এবং আমিও মরে গেলে কি তুমি সুস্থ হয়ে যাবে। তাহলে তাই করো আমাদের দুজনকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলো। তুমি যদি সুস্থ হয়ে যাও, সুখি হও। আমার তোমাকে আর কিছু বলার নাই। বলেই ফোনটা কেটে দিলাম।

আমি বুঝতে পারিনা কিভাবে বাচবো ?

নিজের শরীরের দিকে নিজে তাকাতে পারি না। শরীর শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। সহজেই বুঝতে পারি কারন, প্রতিদিন জামা কাপড় লুজ ‍লুজ লাগে। প্যান্ট খুলে পড়ে যায়। 

রাতে ঘুমাতে পারিনা। অফিসে শান্তিকে কাজ করতে পারিনা। কোন কাজে মন দিতে পারিনা। 

আমি নিজেই বুঝতে পারি যে, আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি। নিজের আচার ব্যবহারে অসামঞ্জ্যতা লক্ষ করতে পারি। রাস্তায় একা একা হাটি আর বকবক করতে থাকি। ২/৪ মিনিট পর সেঞ্চ আসলে , এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখি মানুষ আমার দিকে তাকিয়ে আছে। 

মন মেজাজ সব সময় প্রচন্ড খিট খিটে থাকে কেউ ভালো কথা বললেও গা জ্বলে ওঠে। নিরবে মাঝে মাঝে একা একা কাদি আর ভাবতে থাকি আমার মেয়েটার কি হবে। এই অমানুষ জানোয়ারটা তো আরেকটা বিয়ে করবে। আমার মাঝে মাঝে বিশ্বাসেই হয় না, নিজের বাচ্চার সাথে এমন দুঃব্যবহার করতে পারে। তাও আবার অবুঝ নিস্পাপ দুধের বাচ্চা। হায়রে কপাল। 

জান্নাতের  বাপ-মা, অত্মিয়-স্বজন , গুরুজন কাউকে অভিযোগ করতে বাদ রাখিনি। কোন কিছুতে কোন কাজ হয়নি। এখন এদের কাউকে কিছু বলতে আমার নিজের ঘৃনা লাগে। মনে হয় এদের সবগুলোকে জুতার মালা পরিয়ে ঘুরানো উচিত। একটা ভালো ব্যবহার এরা এদের মেয়েকে শিক্ষা দিতে পারেনি। 

৩০.০৪.২৬

ভেবেছিলাম ২৫ সালের পর আর কিছু লিখবো না কিন্তু পারলাম না।  আজ সকালে খুব বৃষ্টি হচ্ছিলো। মেয়ের পরীক্ষা তাই তাকে স্কুলে নিয়ে যেতে হবে। প্রচন্ড ...